লালমোহনে ক্ষেতে তরমুজ ও আলু ॥ কৃষকের মুখে নেই হাসি লালমোহনে ক্ষেতে তরমুজ ও আলু ॥ কৃষকের মুখে নেই হাসি - ajkerparibartan.com
লালমোহনে ক্ষেতে তরমুজ ও আলু ॥ কৃষকের মুখে নেই হাসি

4:13 pm , April 6, 2026

মো: জসিম জনি, লালমোহন প্রতিবেদক ॥
লালমোহনের একজন মৌসুমী ব্যবসায়ীর কাছে প্রথমবারের মতো ১ হাজার পিস তরমুজ ক্ষেত থেকেই বিক্রি করে টাকা বায়না নেন কর্তারহাট এলাকার চাষী সবুজ। কথা ছিলো পরদিন দু’দুদিনের মধ্যে ক্ষেত থেকে তরমুজ নিয়ে যাবেন। কিন্তু একদিনের মধ্যেই তাকে জানানো হয় তরমুজ নিবেন না ওই ব্যবসায়ী। বাজারে তরমুজের দাম কম। টাকা ফেরত দিতে হবে। উপায়ন্তর না পেয়ে ক্ষেতের তরমজু ক্ষেতে রেখে বায়নার টাকা ফেরত দিতে হলো সবুজকে। তিনি জানান, এবছর ফলন ভালো হয়েছে। বৃষ্টি ও শিলা না পড়ায় তরমুজ নিয়ে কৃষকরা স্বপ্ন দেখেছিলো। কিন্তু বাজারে মন্দার কারণে এখন লোকসানের শংকা করছেন। জ¦ালানি তেলের সমস্যায় পরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির কারণে এসব তরমুজ ভোলার বাইরে নিতে না পারায় স্থানীয় বাজারে দাম কমে গেছে বলে তিনি জানান। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাঠভর্তি তরমুজ থাকলেও তা জেলার বাইরে পর্যাপ্তভাবে যেতে না পারা, বাজারে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত পাওয়া এবং উচ্চ পরিবহন ব্যয়Ñসব মিলিয়ে চাষিরা পড়েছেন চরম দুশ্চিন্তায়। তরমুজের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকদের মুখে প্রত্যাশিত হাসি নেই। ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় এবার লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষিরা। ভোলা দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম তরমুজ উৎপাদন কেন্দ্র। নদীর বুকে নতুন চর ও পতিত জমি তরমুজ চাষীদের স্বর্ণের খনি হয়ে দেখা দেয়।
আবহাওয়া ভালো হওয়ায় ভোলার বাইরেও বিভিন্ন জেলায় এবছর তরমুজের উৎপাদন বাড়ায় ভোলার তরমুজ জেলার বাইরে তেমন নেওয়া যাচ্ছে না। যার কারণে স্থানীয় বাজারে দাম অর্ধেকে নেমে এসেছে। ১০ কেজি ওজনের তরমুজ এখানে এখন ৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে বাজারে। বড় তরমুজ বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা দরে। কিন্তু গড়ে তরমুজ ক্রয় করে বাজারে আনতে ১৫০ টাকারও বেশি খরচ পড়ে বলে জানান মৌসুমী ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন। তিনি লোকশানের কারণে তরমুজ বিক্রির আশা ছেড়ে দিয়েছেন। বাজার অনুকূলে এলে আবার বিক্রি করবেন।
তরমুজ ছাড়া ভোলায় এবছর আলুও ভালো ফলন হয়েছে। তবুও কৃষক ন্যায্য মুল্য পাচ্ছেনা। আলুতেও কৃষকরা লোকসান গুনছেন। অনেক কৃষক বাজারে আলুর কম দামের কারণে ক্ষেত থেকে তুলে ঘরে রেখে দিয়েছেন বাজার বাড়বে এ আশায়। লালমোহন উপজেলার পাঙ্গাশিয়া গ্রামের কৃষক আবুল কালাম  জানান, শুরুতে কৃষকরা আলু মণপ্রতি ৩৫০ টাকা বিক্রি করেছেন। পরে তা বেড়ে ৪০০ টাকা পর্যন্ত এসেছে। কিন্তু তাদের আলুতে উৎপাদন খরচ আরো বেশি হয়েছে। আলুরও ফলন বেশি হওয়ায় দামে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। তার উপর জেলার বাইরে থেকে ক্রেতা কম থাকায় দাম কমে গেছে।
লালমোহন বাজারের ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে ট্রলার ও ট্রাক ভাড়া বেড়ে গেছে। ফেরি ও নৌযানে সময় মতো নিতে না পারায় আলু, তরমুজের মতো কাঁচা পণ্যের দাম কমে যায়। অন্যদিকে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্মে কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছে ন্যায্য মূল্য থেকে। ভোলার কোল্ডস্টোরেজে কিছু ব্যবসায়ী আলু কম মূল্যে কিনে রেখেছেন। কিন্তু কৃষক বঞ্চিত হচ্ছে ন্যায্য মূল্য থেকে। কৃষকরা যদি সরাসরি কোল্ড স্টোরেজে আলু রাখতে পারতো তাহলে হয়তো আলুর ন্যায্য মূল্য পেতো বলে মনে করেন ওই ব্যবসায়ী।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আবু হাসনাইন জানান, এবার ফলন ভালো হয়েছে, যার কারণে দাম কমে গেছে কৃষি পণ্যের। এতে ক্রেতাদের জন্য ভালো হয়েছে, তবে কৃষকের জন্য ক্ষতি হয়েছে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT