নানা অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে লালমোহনের সেতারা নানা অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে লালমোহনের সেতারা - ajkerparibartan.com
নানা অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে লালমোহনের সেতারা

4:01 pm , April 4, 2026

লালমোহন প্রতিবেদক ॥
লালমোহন উপজেলার মধ্য চরটিটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেতারা বেগমের বিরুদ্ধে সহকারী শিক্ষকদের গায়ে হাত তোলা, অশালীন আচরণ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, চাঁদা দাবী, অর্থ আত্মসাৎ, স্বেচ্ছাচারিতা এবং নিয়মিত বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ থাকলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। তিনি ইচ্ছেমতো বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে যান। ওই বিদ্যালয়ের ৫জন সহকারী শিক্ষক প্রধান শিক্ষক সেতারা বেগমের বিরুদ্ধে ৯টি অভিযোগ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নিকট দাখিল করেও কোন প্রতিকার পাননি। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তদর থেকেও তদন্ত করে অভিযোগগুলোর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা যায়নি।
মধ্য চরটিটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম, কামরুন নাহার সুরমা, ফাতেমা বেগম, মিল্লাত হোসেন ও মো. মাসউদ গত ২০২৫ সালের ৩ আগষ্ট প্রধান শিক্ষক সেতারা বেগমের বিরুদ্ধে ৯টি অভিযোগ দেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর। যার মধ্যে ছিলো সহকারী শিক্ষকদের সাথে অশালীন আচরণ, শারীরিক মানসিক নির্যাতন, চাঁদা দাবী, সহকারী শিক্ষকের গায়ে হাত তোলা এবং ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে সহকারী শিক্ষকের ৩ মাসের গর্ভজাত সন্তান নষ্ট, চাকুরীচ্যুত করার হুমকি, নিয়ম ভঙ্গ করে পূর্বের বিদ্যালয় থেকে বর্তমান বিদ্যালয়ে যোগদান ইত্যাদি।
জানা যায়, প্রধান শিক্ষক সেতারা বেগমের অনিয়ম উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভায় উত্থাপিত হলেও তিনি এখনো স্বপদে দাপটের সাথে চাকরি করে যাচ্ছেন। তিনি নিজ বাড়ির দরজার বিদ্যালয়ে এসে বিদ্যালয়ের নামের জমির অর্ধেক পরিবারকে দিয়ে দখল করে বাড়ির বাউন্ডারি ওয়াল দিয়ে দিয়েছেন। এতে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ অর্ধেক হয়ে গেছে। এমনকি ওই বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবন যেখানে ছিলো সেই স্থানও এখন বিদ্যালয়ের বাউন্ডারির বাইরে। প্রধান শিক্ষক সেতারার এই স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে প্রাথমিক শিক্ষা অধিপ্তর থেকেও তদন্ত হয়। বোরহানউদ্দিনের সহকারী শিক্ষা অফিসার হিরামান বৈধ্য তদন্তে এসে সকলের সাক্ষ্য নেন। কিন্তু তদন্তের কোন ফলাফল আসেনি এমনকি তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতেও দেখা যায়নি বলে জানান বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও এলাকার মানুষ।
সরেজমিনে গত বৃহস্পতিবার মধ্য চরটিটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে পাওয়া যায়নি। একাধিক সহকারী শিক্ষক জানান-নিজ বাড়ির দরজায় স্কুল হওয়াতে তিনি গড়ে ১ ঘন্টা থাকেন বিদ্যালয়ে। স্কুলের পিয়নের কাছে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবী করেছেন। স্কুলের নতুন বিল্ডিং এর জন্য শিক্ষা অফিসের নাম করে সহকারী শিক্ষকদের কাছ থেকে তিনি টাকা নেন। এছাড়া স্লিপ ও মেইনটেনেন্স এর কোন কাজ করা হয়নি। প্রাক প্রাথমিকের টাকাও কোথায় খরচ হয়েছে তা জানেনা সহকারী শিক্ষকরা। তারা জানান, এই বিদ্যালয়ে পূর্বের প্রধান শিক্ষক যা করে গেছেন তারপর থেকে কোনো কাজ হয়নি। এমনকি নতুন কোন কিছুই ক্রয় করা হয়নি। শিক্ষার্থীরা তীব্র গরমে ক্লাস করলেও তাদের জন্য ফ্যানের ববস্থা পর্যন্ত করতে পারেননি তিনি।
এবিষয়ে প্রধান শিক্ষক সেতারা বেগম বলেন, শিক্ষকরা যেসব অভিযোগ করেছে তার কোন সত্যতা না পাওয়ায় কোন ক্ষতি করতে পারেনি। বর্তমানে অসুস্থতার কারণে বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত হতে পারেন না। তবে কষ্ট করে হলেও বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। বিষয়টি শিক্ষা অফিস অবগত আছে। শিক্ষকরা বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা চায়, তা না মানায় তারা এসমস্ত অভিযোগ করছে।
লালমোহন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শাহ আলম জানান, প্রধান সেতারা বেগমের বিরুদ্ধে শিক্ষকরা যেসব অভিযোগ করেছে তা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে শিক্ষা কমিটির সভায় উত্থাপন করা হয়েছে। সেখানে অভিযোগ তুলে ধরে রেজুলেশন আকারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অধিদপ্তর যেভাবে নির্দেশা দিবে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT