3:56 pm , April 4, 2026
মো: জিয়াউদ্দিন বাবু
সরকারি নির্দেশনা ও বিধিনিষেধকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অবাধে খোলা রাখা হয়েছে দোকানপাট ও শপিংমল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার সতর্কবার্তা ও নির্দেশনা জারি করা হলেও বাস্তব চিত্রে তার প্রতিফলন খুব কমই দেখা যাচ্ছে। বরং দিন যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও জনসমাগম, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল ও জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার নগরীর গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলো চকবাজার, সদর রোড,গির্জা মহল্লা, ফজলুল হক অ্যাভিনিউ,ফল পট্টি পোট রোড বাজার রোড, নতুন বাজার নাজির মহল্লা, বটতলা, রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় দোকানপাট খোলা দেখা যায়। অনেক শপিংমল ও মার্কেটে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। কোথাও সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো লক্ষণই দেখা যায়নি। মাস্ক ব্যবহারেও ছিল ব্যাপক অনীহা, যা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় প্রশাসন পূর্বে থেকেই নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে সীমিত পরিসরে ব্যবসা পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু অনেক ব্যবসায়ী সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে দিনের শুরু থেকেই দোকান খুলে বসছেন এবং রাত পর্যন্ত ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো।
এ বিষয়ে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা বন্ধ বা সীমিত থাকায় তারা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। দোকান ভাড়া, কর্মচারীদের বেতন, ব্যাংক ঋণসহ বিভিন্ন চাপ সামাল দিতে বাধ্য হয়েই তারা দোকান খুলছেন। তাদের ভাষায়, “পেটের দায়ে” তারা এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।
অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে কোনো ধরনের ব্যবসা পরিচালনা করা হলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং কয়েকটি স্থানে অভিযান চালিয়ে জরিমানাও করা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের কথা ভাবা হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এভাবে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে জনসমাগম বাড়তে থাকলে সংক্রমণ বা অন্যান্য জনস্বাস্থ্যঝুঁকি দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। এতে করে সামগ্রিক পরিস্থিতি আবারও অবনতির দিকে যেতে পারে। তারা সবাইকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনের নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।
সচেতন নাগরিকদের মতে, শুধুমাত্র প্রশাসনের ওপর দায় চাপিয়ে দিলে চলবে না; ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণকেও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সামগ্রিক অর্থনীতি ও জনজীবনের ওপর।
সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রশাসনের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে সরকারি নির্দেশনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা। আর এ ক্ষেত্রে সবার সম্মিলিত উদ্যোগই হতে পারে একমাত্র সমাধান এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বরিশালের প্রশাসন চুপ থাকা সন্ধ্যা সাতটার পরও বরিশালের সমস্ত দোকানপাট এবং শপিং মহল খোলা দেখা গেছে। প্রশাসনের নিরাপত্তার কারণে বরিশালে সরকারের নির্দেশ পালিত হচ্ছে না।
