3:55 pm , April 4, 2026
বিশেষ প্রতিবেদক ॥
আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে চরমেনাই দরবার শরীফের ৩দিনের ফাল্গুনের বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল শেষ হয়েছে শনিবার সকালে। গত বুধবার চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিমের উদ্বোধনী বয়ানের মাধ্যমে ফাল্গুনের এ বার্ষিক মাহফিলের সূূচনা হয়। শনিবার সকাল ৮টার পরে চরমোনাই পীর বিদায়ী বয়ান শেষে আখেরী মোনাজাত করেন।
বুকফাঁটা কান্না করে মহান আল্লাহ রাব্বুল আল আমীনের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। দীর্ঘ সময়ের এ দোয়া মোনাজাতে পীর তার সব মুরিদান সহ সমগ্র মুসলিম জাহানের হেফাজতের জন্য দোয়া করেন। মুসলিম বিশে^র হেফাজত সহ ইহুদি ও কাফেরদের হাত থেকে মুসলিম উম্মাহকে রক্ষার জন্যও দোয়া করেন পীর চরমোনাই পীর। ইসরাইল ও আমেরিকার আগ্রাসন থেকে ইরান ও ফিলিস্তিন সহ গোটা মুসলিম জাতিকে রক্ষার জন্য এ মাহফিলে দোয়া করেন সবাই।
আখেরি মোনাজাতে ফিলিস্তিন, কাষ্মীর সহ সমগ্র ভারতের মুসলিম সমাজ ছাড়াও লোবানন, মায়ানমার, সিরিয়া ও চেচনিয়া সহ সমগ্র বিশে^র মুসলমানদের জন্যও দোয়া করা হয়।
এর আগে চরমোনাই পীর মুরিদান সহ উপস্থিত মুসুল্লীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মানুষ আজ আল্লাহকে ভুলে অহরহ নাফরমানি করছে। অথচ একজন মানুষ কবরে গিয়ে মাফ না পাওয়া পর্যন্ত নিজেকে নিকৃষ্ট পশুর মত মনে করতে হবে। সুতরাং তাকওয়া বা আল্লাহপাকের ভয় অর্জনের মাধ্যমে মহান রবের সন্তুষ্টি অর্জনের কোন বিকল্প নেই বলেও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
চরমোনাই বলেন, যার অন্তরে আল্লাহর ভয় নেই, ঐ মানুষ এমনকি আলেম, মুফতি ও পীরেরও কোন মূল্য নেই। তিনি সব সময়ই নিজেকে ছোট মনে করার তাগিদ দিয়ে আমিত্ব ভাব ও তাকুব্বরী পরিত্যাগ করারও অসিহত করেন। চরমোনাই পীর হিংসা,বিদ্বেষ পরিত্যাগ করে ঘোরার মুখে যেভাবে লাগাম থাকে, সেভাবে সবার রাগের মুখে লাগাম লাগানোরও পরামর্শ দেন। তিনি সবাইকে সকাল সন্ধ্যা জিকিরের মাধ্যমে আপন আপন ক্বলবকে পরিশুদ্ধ করা সহ গীবতের মত গোনাহ থেকেও নিজেদের বাচিয়ে রাখার পরামর্শ দেন।
চরমোনা পীর প্রতিটি মুসলমানের পরিবারে খাছ পর্দা জারী রাখা সহ সব ধরনের নেশাজাত দ্র্রব্য থেকে পরিবারের সকল সদস্যকে বাচিয়ে রাখার তাগিদ দেন।
চরমোনাই পীর সবাইকে আল্লাহওয়ালাদের কিতাব পড়া সহ সাপ্তাহিক হালকায়ে জিকির ও তালিমের ওপর গুরুত্বারোপ করে সহীহ ও শুদ্ধভাবে আল কুরআন তেলাওয়াতের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বয়ান শেষে উপস্থিত মুসুল্লীয়ানদের বিভিন্ন লিখিত প্রশ্নেরও জবাব দেন চরমোনাই পীর।
