4:09 pm , April 3, 2026
সাড়ে ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার থেকে উপজেলা পর্যায়ে ২১শ থেকে ২২ টাকায় বিক্রী
বিশেষ প্রতিবেদক ॥
এলপি গ্যাসের নতুন মূল্য নির্ধারনের দিন দশেক আগে থেকেই বরিশালের বাজারে সাড়ে ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার থেকে উপজেলা পর্যায়ে ২১শ থেকে ২২ টাকায় বিক্রী হচ্ছিল। নতুন মূল্য নির্ধারনের পরে এখন তা আরো ৫০ থেকে ১শ টাকা বেশী দামে বিক্রী হচ্ছে। গ্যাসের নতুন মূল্যবৃদ্ধির ফলে শুক্রবার থেকে এলপিজি চালিত থ্রী-হুইলারের ভাড়া নিয়েও নতুনকরে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে। এলপিজি চালিত সব ধরনের থ্রী-হুইলারগুলো শুক্রবার সকাল থেকে তাদের ইচ্ছেমত ২৫ থেকে ৫০ ভাগ পর্যন্ত ভাড়াও বৃদ্ধি করেছে। বিষয়টি নিয়ে যাত্রীদের সাথে বাগবিতন্ডা চলছে দিনভর। বরিশাল মহানগরীর যে রুটে ইতোপূর্বে যাত্রীভাড়া ছিল ১৫ টাকা, সেখানে শুক্রবার সকাল থেকে ২০ টাকা এবং ২০ টাকার ভাড়া ২৫ টাকা করে আদায় করতে শুরু করেছে এলপিজিচালিত থ্রী-হুইলারের চালকরা। অপদিকে এলপিজির দাম এক লাফে ২০ ভাগ বৃদ্ধির ফলে সাধারন মানুষ সংসার ব্যায় নির্বাহ করতে আরো বাড়তি চাপে পড়বে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবীদরা। এর ফলে মূল্যস্ফিতিও আরো একধাপ বাড়বে।
শুক্রবার থেকে কার্যকর নতুন মূল্য বৃদ্ধির ফলে গত ১৫ মাসে রান্নার গ্যাসের দাম প্রায় ৫০ ভাগ বাড়ল। বৃহস্পতিবার এনার্জি রেগুলেটরী কমিশনের এলপি গ্যাসের দাম ২০ ভাগ বৃদ্ধির এক সপ্তাহ আগে থেকেই পুরো বরিশাল অঞ্চলজুড়ে রান্নার গ্যাসের বাড়তি দাম আদায় করেছেন ডিলাররা। তাদের অভিযোগ গ্যাস কোম্পানীগুলো সরকার নির্ধারিত দরের অন্তত ৩শ টাকা করে বেশি আদায় করছিল।
তবে বিষয়টি সম্পর্কে প্রায় সব গ্যাস কোম্পানীর স্থানীয় প্রতিনিধিরাই দ্বিমত পোষন করেছেন। তাদের দাবী, লোকসান দিয়েও আমরা সরকার নির্ধারিত দরের বেশী গ্যাস বিক্রী করিনি।
তবে শুক্রবার সকাল থেকে বরিশাল ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন গ্যাস কোম্পানী সাড়ে ১২ কেজির গ্যাস সিলিন্ডার সাড়ে ১৮শ টাকা করে বিক্রী করতে দেখা গেলেও ডিলাররা খুচরা পর্যায়ে তা ২ হাজার থেকে ২১শ টাকায়ও (যমুনা) বিক্রী করছিলেন। তবে অন্যান্য কোম্পানীর গ্যাস বিক্রি হয়েছে ১৯শ টাকায়। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত গ্যাস বিক্রী ও বিপণন নিয়ে জেলা প্রশাসনেরও কোন নজরদারী চোখে পড়েনি। তবে জ¦ালানী তেলের মত গ্যাস নিয়েও রোববার থেকে বরিশালের জেলা প্রশাসন নিবিড় নজরদারী শুরু করবে বলে জানাগেছে। এদিকে, রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি ইতোমধ্যে জনমনে কিছুটা বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। এ মূল্যবৃদ্ধি সর্বস্তরের মানুষের সংসার জীবনে নতুন করে যথেষ্ট বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলে মন্তব্য করেছেন একাধিক কর্মজীবী মানুষ।
