4:28 pm , March 31, 2026
বিশেষ প্রতিবেদক ॥
বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত হাম সন্দেহ নিয়ে ৩৭ শিশু ভর্তি রয়েছে। ইতোমধ্যে হাসপাতালটির শিশু বিভাগে হাম আক্রান্তদের চিকিৎসায় আলাদা ইউনিট চালু করা হয়েছে। প্রয়োজনে সংকটাপন্ন হাম আক্রান্তদের অইসিইউ সুবিধা প্রদনেরও সব ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ডা. মশিউল মুনিম জানিয়েছেন। ইতোমধ্যে এ হাসপাতালে হাম সন্দেহে ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা দেড়শ অতিক্রম করেছে। যারমধ্যে মার্চ মাসেই শতাধিক শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অপরদিকে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে ইতোমধ্যে এ অঞ্চলে হাম এর জন্য নিয়ন্ত্রন কক্ষ চালু করা হয়েছে। বুধবার থেকে প্রতিটি উপজেলা ও জেলা হয়ে হাম সংক্রান্ত দৈনিক প্রতিবেদন স্বাস্থ্য সেবা অধিদপ্তর সহ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলেও জানা গেছে। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মীরা বাড়ী বাড়ী গিয়ে সন্দেহজনক প্রায় আড়াইশ শিশুর নমুনা সংগ্রহ করে ৬০টিরও বেশী শিশুর হাম শনাক্ত করেছে। যারমধ্যে ‘মিজেল’স ও ‘রুবেলা’ হাম শনাক্ত করা হয়েছে।
অপরদিকে বরিশাল সহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলেই হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও এখনো এ রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থা যথেষ্ট অপ্রতুল বলে অভিযোগ রয়েছে। এ রোগের চিকিৎসায় হাসপাতালগুলোতে ‘নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র-আইসিইউ’ প্রয়োজন হলেও উপজেলা তো দূরের কথা অনেক জেলা সদর হাসপাতালেও সেই সুবিধা নেই।
অপরদিকে সারাদেশের মত বরিশাল অঞ্চলে হাম ছড়িয়ে পড়তে শুরু করায় উদ্বেগ বাড়ছে অভিভাবক মহলে। আক্রান্ত শিশুদের বেশীরভাগই ইপিআই কার্যক্রমে টিকা গ্রহণ করেছে বলেও অভিভাবকরা জানিয়েছেন। কি কারণে টিকা গ্রহণকারী শিশুরাও হাম আক্রান্ত হচ্ছে, সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক ডা. শ্যমল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, বিষয়টি নিয়ে মাঠ পর্যায়ে তথ্য অনুসন্ধান প্রয়োজন। এ জন্য জাতীয় পর্যায়ে একটি কমিটি কাজ করছে। তারা নিশ্চই বরিশালেও তথ্যানুসন্ধান করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। পাশাপাশি বরিশাল অঞ্চলজুড়ে হাম প্রতিরোধী টিকা প্রদানও অব্যাহত আছে বলে জানান তিনি।
