4:46 pm , March 17, 2026
বাকেরগঞ্জ প্রতিবেদক ॥
সড়ক পরিবহন, সেতু, রেলপথ ও নৌ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, ঈদযাত্রায় মহাসড়কের যানজট হতে পারে এমন ২০৭টি স্পটে সার্বক্ষনিক মনিটরিং করা হচ্ছে। পাশাপাশি হাইওয়ে এবং ব্রিজেও চলছে মনিটরিং। মন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত কোন জায়গায় যানজট হচ্ছে না এটা সুসংবাদ। কয়েকটি জায়গায় গতি স্লো হলেও গাড়ি পার হয়ে যাচ্ছে। আশা করছি ঈদযাত্রা স্বস্তির হবে, নিরাপদ হবে এবং স্বাচ্ছন্দে মানুষ ঘরে ফিরবে।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় গোমা সেতুর উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
এ সময় মন্ত্রী আরো বলেন, প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কিলোমিটার নৌ পথ নিয়মিত ড্রেজিং করে সচল রাখা হচ্ছে। এই মুহূর্তে ১২শ কিলোমিটার নৌপথ খনন কাজ চলছে। আগামীতে সাড়ে ৪ হাজার মিটার নৌ পথ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তাছাড়া ঈদে ঘরমুখো মানুষের কথা চিন্তা করে ঢাকা সদরঘাট থেকে বরিশাল নদীবন্দর পর্যন্ত অবাদে জাহাজ চলাচল করতে পারবে সেই প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ঈদকে ঘিরে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে দেড়কোটি লোক ঢাকা ছাড়ছে। তাদের যাত্রা স্বস্তিদায়ক করা বেশ চ্যালেঞ্জিং। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে যে প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি, তাতে যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দে আরামে স্বজনদের কাছে যেতে পারবে।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে যে সরকার ক্ষমতায় আছে জনগন কর্তৃক নির্বাচিত সরকার। এ সরকার উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চায়। বিশেষ করে অবকাঠানো উন্নয়ন ছাড়া একটা জাতি সমৃদ্ধ হতে পারে না। তাতে করে অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হয়।
উদ্বোধন করা সেতু নিয়ে মন্ত্রী বলেন, বরিশালের বাকেরগঞ্জের এই সেতুটি খুব গুরুত্বপূর্ন। প্রায় ২৮৩ মিটার সেতুর এই অঞ্চলের মানুষের জন্য যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া নদীর উপর গোমা সেতু নির্মান কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালে। নানা প্রতিবন্ধকতার কারনে সেতুটি নির্মান কাজে বিলম্ব হয়। এরমধ্যে অন্যতম ছিল সেতুর উচ্চতা জটিলতা। যা নিয়ে আপত্তি তোলে বিআইডব্লিউটিএ। অবশেষে ৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাকেরগঞ্জবাসীর স্বপ্নের গোমা সেতুর উদ্বোধন করা হলো।
সেতু উদ্বোধনের পর পরই যানবাহন চলাচল শুরু করে। রোজা রেখেও শত শত মানুষ সেতু দেখতে ভীড় করেন। ঈদের আগে সেতু খুলে দেওয়ায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান বাকেরগঞ্জের মানুষ।
গোমা সেতু উদ্বোধনকালে রেল পথ ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, পটুয়াখালী সদর আসনের এমপি আলতাফ হোসে চৌধুরী, বরিশাল-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খানসহ স্থানীয় প্রশাসসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম জানিয়েছেন, ২৮৩ দশমিক ১৮৮ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি পিসি গার্ডার ও স্টিল ট্রাস কাঠামোতে নির্মিত হয়েছে। সেতুর সঙ্গে প্রায় ১ দশমিক ৯০ কিলোমিটার অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় মোট ৬ দশমিক ৫১৮ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি চারটি ৮ মিটার ও একটি ৬ মিটার আরসিসি বক্স-কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। নদীর দুই পাড়ে প্রায় ১১ হাজার ৮৬০ বর্গমিটার এলাকায় নদী শাসনকাজ এবং ৩১ হাজার ৮৮৬ বর্গমিটার এলাকায় কংক্রিট স্লোপ প্রটেকশন করা হয়েছে।
২০১৭ সালের ১৪ নভেম্বর গোমা সেতু প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পায়। শুরুতে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৭ কোটি ৬২ লাখ ১৫ হাজার টাকা। পরে সংশোধনের মাধ্যমে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৯২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা। বিভিন্ন কারিগরি পরিবর্তন ও নৌযান চলাচলের সুবিধার জন্য সেতুর উচ্চতা বাড়ানোর কারণে প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি পায়।
