5:15 pm , March 15, 2026
বিশেষ প্রতিবেদক ॥
দুর্নীতি, অব্যবস্থা আর অনিয়মের বেড়াজালে বন্দী বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে আজ দায়িত্ব গ্রহণ করছেন সাবেক এমপি এবং বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন। দুপুর ১২টায় নগরীর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার সংলগ্ন অডিটরিয়ামে নতুন প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে।
২০০২ সালে সিটি করপোরেশনের উন্নীত হলে অধুনালুপ্ত বরিশাল পৌরসভা চেয়ারম্যান আহসান হাবীব কামাল নতুন এ মহানগরীর প্রথম প্রশাসকের দায়িত্ব লাভ করেছিলেন। পরবর্তিতে ‘২৪-এর ৫ আগষ্টের পট পরিবর্তনের পরে তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনার ২য় এবং তার মাসখানেক পরে নতুন বিভাগীয় কমিশনার রায়হান কায়ছার ৩য় এবং মাত্র ৪ মাস আগেই বর্তমান বিভাগীয় কমিশনার মাহফুজুর রহমান ৪র্থ প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন।
বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরেই দেশের ৬টি সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ প্রদান করে। অনেক জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বরিশাল ও রাজশাহী সহ অপর ৫টি সিটি করপোরেশনে শনিবার বিকেলে প্রশাসক নিয়োগ করে সরকার।
বরিশাল বিএম কলেজে ছাত্র রাজনীতি দিয়ে বিলকিস জাহান শিরিনের দীর্ঘ রাজনীনৈতিক জীবনের সূচনা হয় । সেখানে তিনি বাকসুর নির্বাচিত এজিএস ছিলেন। পরবর্তিতে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামে কখনো রাজপথ ছাড়েননি শিরিন। ২০১৪ সালে একতরফা নির্বাচন বিরোধী আন্দোলন ছাড়াও জুলাই বিপ্লবের সময় তিনি রাজপথে থেকে একাধিকবার নিপীড়ন নির্যাতনের শিকার হলেও কখনো পথ ছাড়েননি।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে শিরিন নিয়োগ পাওয়ায় নগরবাসী অনেকটা স্বস্তি লাভ করবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল। কারণ গত কয়েক বছর ধরে বরিশালের নগর ভবন একটি দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত হয়েছে বলে সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে। নানা অনিয়মে এক সময়ে পরিচ্ছন্ন নগরী এখন জঞ্জালের শহরে পরিনত হয়েছে। শিল্প কারখানা ও ব্যবসা-বানিজ্য বিহীন এ নগরীর উদীয়মান আবাসন শিল্পও মুখ থুবড়ে পড়েছে নগর ভবনের দুর্নীতিবাজদের কারণে। এ ভবনের কোন টেবিলে কত টাকা দিলে বাড়ী-ঘরের নকশা অনুমোদেন হয় তা এখন ওপেন সিক্রেট। কিন্তু কথা বলার সুযোগ নেই কারো। দুর্নীতির প্রতিবাদ করলে বা ঘুষ বানিজ্যে বাইরে গেলেই কোনভাবেই নকশা অনুমোদন হবেনা ।
সরকারের প্রায় ৮শ কোটি টাকার তহবিলে নগরীর সড়ক ও পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়নে যে প্রকল্প চলমান রয়েছে, তা নিয়েও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। বর্ষা মৌসুম শুরুর মাত্র দু’মাস বাকি থাকলেও এ নগরীর চলতি অর্থ বছরের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজ শুরু হয়নি এখনো। অথচ দরপত্র গ্রহন করা হয়েছে প্রায় ৮ মাস আগে। মূল্যায়ন শেষে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে আরো প্রায় ৪ মাস আগে। কিন্তু কোন নির্মান প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করছে না। বর্ষাপ্রবন এলাকার এনগরীতে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন ও নির্মান কাজ শুরু করতেই যদি বর্ষা শুরু হয়ে যায়, তবে তা শেষ হবে কবে ? সে প্রশ্ন এ নগরবাসীর।
