4:58 pm , March 12, 2026
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মেঘনা নদীর শাওড়া সৈয়দখালী থেকে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই কোটি ঘনফুট বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে বরিশালের হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের ব্যাপক ভাঙ্গনসহ নদী গর্ভে বিলীনের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে স্থানীয়রা কয়েকদিন পূর্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও ভূমি মন্ত্রীর কাছে আবেদনও করেছেন।
আবেদন সূত্রে জানা গেছে, বালু মহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ লঙ্ঘন করে কোন ধরনের হাইড্রোগ্রাফি জরিপ না করে বরিশাল জেলা প্রশাসক শাওড়া সৈয়দখালী মৌজা থেকে বালু উত্তোলনের ইজারা দিয়েছে। এর প্রেক্ষিতে হাইকোর্টে রীট করা হয়। গত বছরের ১২ নভেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি কাজী জিনাত হক ও বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ৩০ দিনের মধ্যে হাইড্রোগ্রাফি জরিপ সম্পন্ন ও জরিপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বালু উত্তোলকারী বিআর এন্টারপ্রাইজের আবুল বাসেদকে সকল প্রকার বালু উত্তোলন না করার জন্য নির্দেশ দেয়।
কিন্তু আবুল বাসেদ হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এখন পর্যন্ত একদিনের জন্যও বালু উত্তোলন বন্ধ করেননি। জেলা প্রশাসন থেকে একশ একর থেকে উত্তোলনের আওতা দেয়া হলেও হাজার একর থেকে প্রতিদিন ১৮০টি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করেন আবুল বাসেদ। প্রতিদিন দেড় থেকে দুই কোটি ঘনফুট বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। বালু উত্তোলনের ইজারা নেয়া আবুল বাসেদ বেপরোয়া হয়ে সন্ত্রাসী ও জলদস্যু নিয়ে প্রতিদিন বালু উত্তোলন করেন। তার সন্ত্রাসী বাহিনী ধারালো ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে পাহারা দিয়ে বালু উত্তোলন করার কারনে এলাকাবাসীও প্রতিবাদ জানাতে সাহস পায় না। যার কারনে হিজলা উপজেলার হিজলা-গৌরবদী ইউনিয়ন ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর ও উলানিয়া ইউনিয়নের বড় অংশ ভাঙন হুমকিতে পড়েছে।
এ বিষয়ে আবুল বাসেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি উত্তোলন করবো। পারলে কিছু করেন।
বরিশালের হিজলা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভ্র জ্যোতি বড়াল বর্তমানে বালু উত্তোলন চলছে স্বীকার করে বলেন, প্রায় সময় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন। তিনদিন পূর্বে বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের তিনজন ম্যাজিষ্ট্রেট ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেছে।
তিনি বলেন, হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও ইজারাদার আবুল বাসেদকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু তাকে তো পাওয়া যায় না।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগ নেতা ইজারাদার আবুল বাসেদ ভয়ংকর সন্ত্রাসী। বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে। তাদের নিয়ে অবৈধভাবে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা আয় করছে। সেই টাকার কিছু অংশ বিভিন্ন মহলে ম্যানেজ করে অবৈধ বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখছে। যৌথবাহিনী ছাড়া তাকে প্রতিরোধ করা যাবে না।
মেঘনা নদী থেকে নির্বিচারে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তলদেশের প্রাণী, মাছের প্রজননক্ষেত্র ও জলজ উদ্ভিদ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আর আতঙ্কে দিন হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জের নদীপাড়ের গ্রামগুলোর সাধারন মানুষ।
