4:54 pm , March 12, 2026
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
পরিপত্রের বাইরে গিয়ে বেতন বোনাসের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করে মানববন্ধন করা বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। দুই হাজার টাকা বোনাস এবং অন্যান্য দাবি পর্যায়ক্রমে বিবেচনা করার আশ্বাস দেয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে।বিসিসির নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের কর্মবিরতির ফলে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনে গতকাল বিকেলে বরিশাল অডিটেরিয়ামে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রশাসক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী, অন্যান্য কর্মকর্তার বাইরেও বিসিসির সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র আলতাফ মাহমুদ সিকদার, সাবেক প্যানেল মেয়র কেএম শহীদুল্লাহ, সাবেক কাউনিন্সলর সৈয়দ আকবর, হাবিবুর রহমান টিপু, মোঃ ইউনুস সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে মানবিক দিক বিবেচনায় বিধির বাইরে গিয়ে দুই হাজার টাকা বোনাস দেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত থেকে দীর্ঘ আলোচনার পর কাজে ফিরে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী গতকাল ইফতারের পরপরই পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা কাজে যোগদান করেন। এর আগে টানা তিনদিন কর্মবিরতি পালন করায় চরম বিপাকে পড়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন। ফলে ময়লার ভাগারে পরিনত হয় নগরীর রাস্তাঘাট।পরিচ্ছন্ন শাখার কর্মচারীরা জানান, আমরা কয়েকদিন যাবত টাউন হলের সামনে মানববন্ধন করে যাচ্ছি। গত বছর আমরা ৩০ দিনের বেতন এবং বোনাস পেয়েছি। কিন্তু এ বছর তা দেয়া হচ্ছে না। বোনাস চাইলে বিধি-নিষেধ এবং নিয়ম-নীতির কথা বলেন কর্মকর্তারা।অপরদিকে নগরবাসী বলছেন, কিছু হলেই সিটি করপোরেশনের কতিপয় কর্মচারীরা কর্মবিরতি পালন করে জনগণের ভোগান্তি করছে। দুর্গন্ধে রাস্তা থেকে চলাফেরা করা দায় হয়ে পড়েছে। যেভাবে হোক এটি আলোচনা করে সমাধানের দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী জানান, ডেইলি মজুরি ভিত্তিক কতিপয় কর্মচারী স্থায়ী কর্মচারীদের মত বেতন বোনাস দাবি করছে। সরকারের সবশেষ পরিপত্র অনুযায়ী তাদের সকল সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।তার পরেও তারা অযৌক্তিকভাবে ঈদ বোনাসসহ নানা দাবি তুলে ধরেছেন। প্রশাসক স্যার মানবিক দিক বিবেচনায় তাদেরকে ১০০০ টাকা করে ১৪০০ শ্রমিককে ইফতার বাবদ দিয়েছেন। সেটি দুঃস্থ অসহায় গরীবদের ফান্ড থেকে তাদের দেওয়া হয়েছে। দেয়ার পরপরই তাদের দাবি আরও জোরালো হয়েছে। তারা পূর্ণাঙ্গ বোনাস দাবি করছে। কিন্তু এটি পরিপত্রের বাইরে গিয়ে দিতে গেলে অডিট আপত্তির মুখে পড়তে হবে।বিভাগীয় কমিশনার ও প্রশাসক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানান, সরকারের নিয়ম অনুযায়ী আমাদের চলতে হয়। নিয়মের বাইরে গিয়ে কিছু দিতে গেলে সেটি আমার ব্যক্তিগত ফান্ড থেকে দিতে হবে। আমার অবসর ভাতা থেকে কেটে নিবে। তদুপরি আমরা যতটুকু পারি দিয়েছি। কিন্তু আইনের বাইরে গিয়ে দেয়া তো সম্ভব না।
