5:18 pm , March 9, 2026
বিশেষ প্রতিবেদক ॥
বর্তমান শিক্ষামন্ত্রির মেয়াদকালে পরীক্ষার হলে নকল করে পাশ করার সুযোগ পাওয়া যাবে না ভেবে বরিশালের কলেজগুলোতে এবছর এইচএসসির ফরম ফিলাপে আগ্রহ নেই শিক্ষার্থিদের। তারা পাশের নিশ্চয়তা চায়। শিক্ষাবোর্ডের সাফ জবাব কোন অনৈতিক সুযোগ মিলবে না।
বরিশাল ইসলামিয়া কলেজে থেকে এবছর নিয়মিত এবং অনিয়মিত মিলিয়ে প্রায় ৪শ শিক্ষার্থি এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহনের কথা রয়েছে। সে লক্ষ্যে ফরম ফিলাপের আর মাত্র একদিন বাকি আছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত মাত্র ৮০ জন ফরম ফিলাপের স্লিপ নিয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষের মতে অন্যবার এমন সময়ে শতকরা ৮০ ভাগ ফরম ফিলাপ হয়ে যেতো। কিন্তু এবারে আগের মতো অবাধ পরীক্ষা দিতে পারবেনা টের পেয়ে কেউ টাকা খরচ করতে চাচ্ছে না। এবারে এখন পর্যন্ত শতকরা ২০ ভাগ শিক্ষার্থি ফরম ফিলাপ করেছে।
কলেজের অধ্যক্ষ মো: আরিফ হোসেন বলেন-আমাদের প্রায় ৪শ পরীক্ষার্থির ফরম ফিলাপের কথা ছিলো কিন্তু বাস্তবতা হলো ফরম ফিলাপের মাত্র একদিন বাকি থাকতেও শতকরা ২০ ভাগ পরীক্ষার্থি ফরম ফিলাপ করেনি। আমি শিক্ষার্থিদের বাড়িতে খোঁজ নিয়ে জেনেছি ‘আগের মতো পরীক্ষা হবেনা জেনেই ওরা আর এমুখো হচ্ছে না। ওরা বলছে ‘নতুন সরকার যেভাবে পরিচ্ছন্ন পরীক্ষা নিতে চায় তাতে ওদের যা প্রস্তুতি এ দিয়ে পোষাবে না। শিক্ষার্থিরা অখুশি থাকলেও অভিভাবকরা খুশি।
চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে শিক্ষার্থিদের ফরম ফিলাপ শুরু হয়েছে পহেলা মার্চ থেকে। শেষ হয়েছে ৯ মার্চ। কলেজের শিক্ষকরা জানান-পরীক্ষার হলে বসলেই পাশ করা যাবে এমন অবস্থা পাচ্ছে না বলে ফরম ফিলাপে তারা আসছে না। এবারে ফরম ফিলাপের আগে এবারে দুই থেকে তিনবার বাছনিক পরীক্ষা নিয়েও মান সম্পন্ন ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না
নজরুল ইসলাম নামে এক কলেজ শিক্ষক বলেন-আমরা একাধিকবার টেস্ট পরীক্ষা নিয়েছি কিন্তু সেখানে মান সম্পন্ন ফলাফল আসেনি। শিক্ষার্থিরা আসলে বুঝতে পেরেছে যে লেখাপড়া ছাড়া তারা পরীক্ষায় পাশ করতে পারবে না। এজন্য ফরম ফিলাপে অনিহা দেখা যাচ্ছে।
অপর শিক্ষক মো: আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর ফরম ফিলাপের সময় শিক্ষার্থিদের মধ্যে যেমন উচ্ছাস দেখা যায় , এবছর সেই উচ্ছাসটা নেই। কারন বর্তমান সরকার স্বচ্ছ পরীক্ষা গ্রহনের যে আভাস দিয়েছে সে ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থিরা ভেবে চিনতে ফরম ফিলাপের সিদ্ধান্তটা নেবে। পাশ করবে কি করবে না এমন অবস্থায় সন্তানদের ফরম ফিলাপে অভিভাবকরাও আগ্রহি নন। আসলে পাশ নিয়ে তারা শংকিত।
এক শিক্ষার্থি বলেন-ফরম ফিলাপে আসবে কি করে। একেকজনের ১২/১৪ হাজার টাকা কলেজ বকেয়া হয়ে আছে। আমাদের বেতন নামমাত্র মওকুফ করা হচ্ছে। এ অবস্থায় আমরা এতোগুলো টাকা দেবো অথচ পাশের কোন নিশ্চয়তা থাকবে না, তাহলে ক্যামন হবে। এবারে নাকি নতুন শিক্ষামন্ত্রি এসেছে, সে নাকি অনেক গার্ড দেবে, আরো কতো কিছু। এসবের জন্য আর ফরম ফিলাপের ইচ্ছে হচ্ছে না।
অন্যজন বলেন-এতো টাকা খরচের পরেও পাশের নিশ্চয়তা নেই বলে ফরম ফিলাপ করছি না। প্রতিদিন নতুন নতুন নিয়মে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে , এমন হলে কিভাবে পড়াশোনা করবো। কলেজে ঠিকমতো ক্লাশ হয়নি, রুটিন মানা হয়নি, কিভাবে আমরা পাশ করবো।
এব্যাপারে অনঢ় অবস্থানে রয়েছে বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ। গত বছত এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে ৪২০টি কলেজ থেকে ৬১ হাজার ৪৮১ জন ফরম ফিলাপ করেছিলো, এবারে আরো হবার কথা। তারা দাবি করেছেন প্রয়োজনে ফরম ফিলাপের সময় আরো বাড়িয়ে দেয়া হবে কিন্তু পরীক্ষার হলে নকলসহ কোন অনৈতিকতা বরদাস্ত করা হবে না।
শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান মো: ইউনুস আলী সিদ্দিকী বলেন-পহেলা মার্চ থেকে শুরু হওয়া এইচএসসির ফরম ফিলাপ ৯ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে। যদি দেখি ফরম ফিলাপের বাইরে অনেক বেশি রয়ে গেছে তবে আমি তারিখ বাড়াবো। লেখাপড়া করে পরীক্ষার হলে যেতে হবে। কেউ কোন অনৈতিক সুযোগ পাবে না। শিক্ষার গুনগত মান বাড়াতেই হবে। ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত আজকের শিক্ষামন্ত্রি তৎকালীন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রি হিসেবে যে পারফরমেন্স রেখে গেছেন তিনি আবার দায়িত্বে আসায় সবারই সচেতনতা বেড়ে গেছে যে লেখাপড়া করে হলে যেতে হবে। পরীক্ষার খাতায় যে যত নম্বরের উত্তর দেবে সে ঠিক সে নম্বরই পাবে, কোন কম বেশি হবে না।
