জিয়াউর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি বিজড়িত স্থানে কৃষি বিশ^বিদ্যালয় স্থাপনের দাবী জিয়াউর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি বিজড়িত স্থানে কৃষি বিশ^বিদ্যালয় স্থাপনের দাবী - ajkerparibartan.com
জিয়াউর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি বিজড়িত স্থানে কৃষি বিশ^বিদ্যালয় স্থাপনের দাবী

4:55 pm , February 20, 2026

বিশেষ প্রতিবেদক ॥
শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামে বরিশালে একটি বিশ^বিদ্যালয় স্থাপিত হয়নি। অথচ ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বরে নগরীর পশ্চিম প্রান্তে ডেফুলিয়া এলাকায় ‘শহিদ জিয়াউর রহমান বিশ^বিদ্যালয় এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। রাজনৈতিক কারণে আওয়ামী লীগ সরকার সে বিশ^দ্যিালয়ের স্থান পরিবর্তন করে নদীর অপর পাড়ে নিয়ে যায়। এ কারণে পূর্ব নির্ধারিত স্থানের অনেক সরকারি খাস জমি বেদখল হয়ে আছে।
১৯৭৯ সালের ২৩ নভেম্বর বরিশাল সার্কিট হাউজে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে বরিশাল প্রশাসনিক বিভাগ গঠন ও বরিশাল বিশ^বিদ্যালয় স্থাপন সহ দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে একাধিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল। এ লক্ষ্যে তৎকালীন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আবদুল বাতেনকে প্রধান করে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু ১৯৮০ সালে ঘাতকের বুলেটে জিয়াউর রহমান শহিদ হবার পরে সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিচারপতি আবদুস সাত্তার দায়িত্ব গ্রহণ করে নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। কিন্তু ১৯৮২ সালের ২৩ মার্চ সেনাবাহিনী প্রধান হুসেইন মোহম্মদ এরশাদ সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে ৯ বছর দেশের ক্ষমতা আকড়ে থাকলেও তার সময়ে বরিশাল বিভাগ ও বিশ^বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মত সব কিছুই তথা কথিত উন্নয়নের জোয়ারে হারিয়ে যায়।
১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। ওই বছরই ডিসেম্বরে বরিশালের ঐতিহাসিক বেলসপার্ক ময়দানে এক জনসভায় বরিশাল প্রশাসনিক বিভাগ বাস্তবায়নের ঘোষনা দেওয়া হয়। তৎকালীন মন্ত্রী পরিষদ সচিব সফিউর রহমানের নেতত্বে গঠিত কমিটির রিপোর্টের আলোকে ১৯৯৩ সালের ১ জানুয়ারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের ৫ম প্রশাসনিক বিভাগ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
সেসময়ে বরিশাল বিশ^বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠারও উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। একইসাথে বরিশাল বিমানবন্দরের নির্মান কাজ শুরু হয়। ১৯৯৫ সালের ৩ ডিসেম্বর জাতীয় পতাকাবাহী বিমান ফ্লাইট চালুর মাধ্যমে বরিশাল বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আবদুর রহমান বিশ^াস।
কিন্তু পুরো ১৯৯৫-৯৬ সালজুড়ে রাজনৈতিক ঢামাঢোলে দেশজুড়ে অস্থিরতায় বরিশাল বিশ^বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও চাপা পড়ে যায়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগে নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করলেও বিষয়টির আর কোন অগ্রগতি হয়নি। ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ৪ দলীয় জোট ক্ষমতা গ্রহণের পরে ২০০৪ সালে বরিশাল বিএম কলেজকে বিশ^বিদ্যালয়ে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে একটি প্রকল্প একনেকে অনুমোদিত হয়।
কিন্তু বিষয়টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে সে সময়ের সুশীল সমাজ বিএম কলেজকে বিশ^বিদ্যলয়ে উন্নীতকরণের বিরোধীতা শুরু করেন। ফলে পুরো বিষয়টি আবারো অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। পরবর্তিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে মহানগরীর পশ্চিম প্রান্তে ডেফুলিয়া এলাকায় ‘শহিদ জিয়াউর রহমান বিশ^বিদ্যালয় এর স্থান নির্বাচন করা হয়। এ লক্ষ্যে বেশকিছু খাস জমি সহ ৫০ একর ভূমি হুকুম দখলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও গ্রহন করা হয়। ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বরিশাল সফরকালে ‘শহিদ জিয়াউর রহমান বিশ^বিদ্যালয় এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।
কিন্তু ১/১১ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরে একটি কুচক্রী মহল বিশ^বিদ্যলয়টির স্থান পরিবর্তনের দাবী তোলে। ফলে পুরো বিষয়টি নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়। ২০০৮ সালের ৬ মার্চ বরিশালে তত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের এক পূর্ণাঙ্গ বৈঠক শেষে গণমাধ্যম কর্মীরা বিশ^বিদ্যালয়ের বিষয়টি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দিন আহমদ এর দৃষ্টি আকর্ষন করলে, তিনি  স্থান নির্বাচনের লক্ষ্যে বিশ^বিদ্যলয় মঞ্জুরী কমিশনের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠনের কথা ঘোষনা করেন।
সেই কমিটি বরিশালে এসে সরেজমিনে বিশ^বিদ্যালয়ের স্থানটি পরিদর্শন করেন। বরিশাল সর্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ৯০ ভাগেরও বেশী মানুষ পূর্ব নির্ধারিত স্থানেই বিশ^বিদ্যালয়টি স্থাপনের দাবী জানিয়েছিলেন। কিন্তু ১/১১ সরকার এ বিষয়ে আর কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। ২০০৯ সালে মহাজোট ক্ষমতা গ্রহনের পরে অনেকটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই বিশ^বিদ্যালয়ের পূর্ব নির্ধারিত স্থান পরিবর্তন করে কীর্তনখোলা নদীর অপর পাড়ে ক্যাম্পাসের নতুন স্থান নির্দিষ্ট করে। সেই সাথে বিশ^বিদ্যালয়ের নাম থেকে  ‘শহিদ জিয়াউর রহমান’ও বাদ দেয়া হয়।
অপরদিকে ২০০৬ সালে বিএনপি জোট ক্ষমতা হস্তান্তরের দিন তথাকথিত লগি-বৈঠার আন্দোলনকারীরা বরিশাল বিশ^বিদ্যলয় সহ মহানগরীতে বেগম জিয়া যেসব প্রকল্প ও প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করেছিলেন, তার সব স্মৃতিফলকই ভেঙে ফেলে। এখনো ‘শহিদ জিয়াউর রহমান বিশ^বিদ্যালয়,বরিশাল এর ভঙ্গুর স্মৃতিফলকটি সেদিনের বিভীষিকার স্মৃতি বহন করছে।
বরিশালের শিক্ষাবীদ সহ সর্বস্তরের মানুষ প্রস্তাবিত বিশ^বিদ্যালয়ের স্থানে অপর একটি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের দাবী জানিয়েছেন। ‘বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষন পরিষদ এর সভাপতি নজরুল ইসলাম রাজন শহিদ জিয়াউর রহমান বিশ^বিদ্যালয় এর নির্দিষ্ট স্থানে অবিলম্বে একটি কৃষি বিশ^বিদ্যালয় স্থাপনের দাবী জানান।
তারমতে, বরিশাল কৃিষ অঞ্চল খাদ্য উৎপাদনে প্রায় ১৪ লাখ টন উদ্বৃত্ত। এমনকি দেশের ৭০ ভাগ ইলিশের উৎপাদন ও আহরন বরিশাল অঞ্চলেই। উপরন্তু ডিম, দুধ ও মাছ সহ প্রাণিসম্পদ খাতেও বরিশাল স্বয়ংসম্পূর্ণ। কিন্তু ‘বাংলার শস্যভান্ডার’ বরিশালে আজ পর্যন্ত কৃষি ও কৃষিভিত্তিক উচ্চ শিক্ষা সহ কোন গবেষনা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বরিশালের কৃষি ক্ষেত্রে ব্যাপক বিপ্লব সাধন করে গেছেন। তার সময়ই বোরো আবাদে বরিশালে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসে। শহিদ জিয়া বারবারই বরিশালে ছুটে এসেছেন এখানে কৃষি বিপ্লব প্রত্যক্ষ করতে। ব্যাপক খাল খননের মাধ্যমে পুরো দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিসেচ ব্যবস্থায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়। তাই সার্বিক বিবেচনায় খাদ্য উদ্বৃত্ত বরিশালে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামেই একটি কৃষি বিশ^বিদ্যালয় স্থাপিত হতে পারে বলে মনে করেন নজরুল ইসলাম রাজন।
বিষয়টি নিয়ে বরিশাল সদর আসনের এমপি মজিবর রহমান সরোয়ার সহমত পোষন করে বলেন ‘এ ব্যাপারে সংসদে ও সরকার প্রধানের সাথে কথা বলার চেষ্টা করবো।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT