4:14 pm , December 29, 2025
বিশেষ প্রতিবেদক ॥
সোমবারও দ্বিতীয় দিনের মত বরিশালে সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পারদ দু’দিনে ১.১ ডিগ্রী ওপরে উঠলেও দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের ৬-৭ ডিগ্রী নিচে থাকছে। মেঘলা আকাশ আর মাঝারী কুয়াশার সাথে উত্তর-পূবের হিমেল হাওয়ায় কাঁপছে বরিশাল সহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল। আবহাওয়া বিভাগের মতে, কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে শীতের অনুভূতি বাড়ছে। গত তিনদিন ধরে অতি জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কেউই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।
মাঝারী থেকে ঘন কুয়াশার চাঁদরে ঢেকে আছে মেঘনা অববাহিকার সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল। ফলে রোববার সন্ধ্যা থেকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্বম বরিশাল নদী বন্দর সহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের নৌযোগাযোগ বন্ধকরে দেয়া হয়। সোমবার দুপুরে নৌযোগাযোগ পূণর্বহাল হলেও নৌযানগুলো চলছে অতি সন্তর্পনে।
মেঘে ঢাকা আকাশ আর ঘন কুয়াশায় বরিশাল সেক্টরে বিমান চলাচলও বন্ধ। অপরদিকে সড়ক পথে কুয়াশার দাপট নিয়েই যানবাহন চলছে নানামুখি ঝুঁকি নিয়ে। সাথে রয়েছে বাড়তি যাত্রীর চাপ। কুয়াশার কারণেই রোববার বরিশাল সেক্টরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর ফ্লাইট বাতিল করা হয়। যাত্রীরা সকাল সোয়া ১০টার ফ্লাইট ধরতে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে ঘরে ফিরে গেছেন।
আবহাওয়া বিভাগের মতে সোম ও মঙ্গলবার দিন এবং রাতে তাপমাত্রার পারদ আরো নামতে পারে। বুধ ও বৃহস্পাতিবার তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধির পরে শুক্রবারে তা অপরিবর্তিত থেকে পরবর্তি ৫দিনে আবার তাপমাত্রা হ্রাসের পূর্বাভাস দিয়ে রেখেছে আবহাওয়া বিভাগ।
মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করলেও এর একটি বর্ধিতাংশ বরিশাল উপকূল সংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। বরিশালে গত দুদিন ধরেই সূর্যের দেখা না মেলার পাশাপাশি মেঘাচ্ছন্ন আকাশের সাথে কুয়াশার দাপটে তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের দশমিক ২ ডিগ্রী ওপরে থাকলেও মেঘ আর কুয়াশার কনকনে ঠান্ডায় জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত।
অব্যাহত শৈত্য প্রবাহে দক্ষিণাঞ্চলের জনস্বাস্থ্যেও সংকট ক্রমশ ঘনিভূত হচ্ছে। প্রতিদিন শের-ই- বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল সহ এ অঞ্চলের সবগুলো হাসপাতালেই নিউমোনিয়া ও ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা আশংকাজনক হারে বাড়ছে। কোন হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের মেঝেতেও এখন রোগীর ঠাঁই মিলছে না। ওষুধ সহ চিকিৎসা সামগ্রীর অভাব না থাকলেও রোগীর ভীড়ে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদেরই প্রাণ ওষ্ঠাগত। ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা।
অপরদিকে চলমান শৈত্যপ্রবাহে দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান দুটি অর্থকারী ফসল, বোরো বীজতলা ও গোল আলুর ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে। চলতি রবি মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় ৩.৮৫ লাখ হেক্টরে বোরো আবাদের লক্ষ্যে ২০ হাজার ৩১৭ হেক্টরে বোরো বীজতলা তৈরীর কাজ শেষ পর্যায়ে। কিন্তু লাগাতার শৈত্য প্রবাহে বোরো বীজতলায় ‘কোল্ড ইনজুরীর নিয়ে উদ্বিগ্ন কৃষিবীদরা। পাশাপাশি প্রায় ১৫ হাজার হেক্টরে যে গোল আলুর আবাদ হচ্ছে, তা ‘লেট ব্লাইট’ নামের এক ধরনের ছত্রাকবাহী রোগে আক্রান্ত হবারও শংকা ক্রমশ বাড়ছে।
তবে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে যে প্রায় ৬০ হাজার হেক্টরে গমের আবাদ হচ্ছে, শীতের দাপটে তার ফলন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি রবি মৌসুমে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে প্রায় ১৬ লাখ টন বোরো চাল, ৩ লক্ষাধিক টন গোল আলু ও দুই লক্ষাধিক টন গম উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।
