3:29 pm , December 26, 2025
বিশেষ প্রতিবেদক ॥
গত দুদিন ধরে মৌসুমের সর্বনি¤œ তাপমাত্রার সাথে কুয়াশাঘেরা হিমেল হাওয়ায় কাঁপছে সমগ্র বরিশাল সহ দক্ষিণাঞ্চল। শুক্রবার বরিশালে সূর্যের দেখা মিলেছে দুপুর ১২টার পরে। বৃহস্পতিবারও সকাল ১১ টার আগে সূর্য ছিল কুয়াশায় ঢাকা। মাঝারী কুয়াশায় দৃশ্যমান ৫শ মিটারেরও কম থাকায় শুক্রবার বরিশাল সেক্টরে বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্স’র অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট প্রায় সাড়ে ৩ ঘন্টা বিলম্বে চলাচল করেছে। ফলে বরিশাল ও ঢাকায় প্রায় সোয়াশ যাত্রী কয়েক ঘন্টা বরিশাল ও ফাঁকা বিমান বন্দরে আটকে ছিল। বরিশালে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের ১ ডিগ্রী নিচে থাকলেও কুয়শাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে ঠন্ডার অনুভূতি বাড়ছে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে। তবে শুক্র,শনি ও রোববার দিন-রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধির কথাও বলেছে অবহাওয়া বিভাগ। সোমবার থেকে পুনরায় তাপমাত্রার পারদ নিচে নেমে যাবার আগাম খবরও জানিয়ে রেখেছে দপ্তরটি।
ডিসেম্বর মাসে বরিশালে সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ১৩.৩ ডিগ্রীর স্থলে বৃহস্পতিবার সকালে তাপমাত্রার পারদ ১২.৪ ডিগ্রী সেলসিয়াসে নেমে আসার পরে শুক্রবারেও একই পরিস্থিতি অব্যাহত ছিল। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও স্বভাবিকের প্রায় ২ ডিগ্রী নিচে। সাথে মাঝারী কুয়াশা আর উত্তরের হিমেল হাওয়ায় ছিন্নমূল মানুষের প্রাণ অনেকটাই ওষ্ঠাগত। গত ককেদিন ধরেই শেষরাত থেকে সকাল পেরিয়ে দুপুর পর্যন্ত কুয়াশায় ঘেরা থাকছে মেঘনা অববাহিকার পুরো দক্ষিণাঞ্চল। মৌসুমের সর্বনি¤œ তাপমাত্রার সাথে উত্তরের হিমেল হাওয়ায় গত দুদিন সকাল থেকে দিনের প্রথমভাগে জরুরী প্রয়োজন ছাড়া বেশীরভাগ মানুষই ঘর থেকে বের হননি। এমনকি শক্রবার জুমার জামাতে মসজিদে মুসুল্লীদেরও ভীড় তুলনামূলকভাবে কম ছিল।
তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের নিচে নেমে যাবার ফলে দক্ষিণাঞ্চলের জনজীবন অনেকটাই বিপর্যয়ের কবলে। তবে আবহাওয়া বিভাগ থেকে ‘দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ অবস্থানের কথা জানিয়ে তার বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে’ বলে জানান হয়েছে। আবহাওয়া বিভাগের ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত ৩ মাসের দীর্ঘ মেয়াদী বুলেটিনে ৮-১০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের ৩-৯টি মৃদু থেকে মাঝারী এবং ৪-৬ ডিগ্রী সেলসিয়াসের ২-৩টি তীব্র শৈত্য প্রবাহের আশংকার কথাও বলা হয়েছে। এদিকে তাপমাত্রার পারদ নিচে নামতে শুরু করার মধ্যেই সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে নিউমোনিয়া সহ ঠান্ডাজনিত নানা রোগব্যাধির প্রকোপও বাড়তে শুরু করেছে আশংকাজনক হারে। শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল সহ এ অঞ্চলের সবগুলো হাসপাতালের শিশু ও মেডিসিন বিভাগের মেঝেতেও এখন রোগীদের ঠাঁই মিলছে না। কৃষিবীদদের মতে আবহাওয়া বিভাগের দীর্ঘ মেয়াদী পূর্বাভাস বাস্তব রূপলাভ করে একাধিক মাঝারী থেকে তীব্র শৈত্য প্রবাহ বয়ে গেলে দক্ষিণাঞ্চলের বোরো বীজতলা ‘কোল্ড ইনজুরীর কবলে পড়ার আশংকার কথা জানান হয়েছে। পাশাপাশি গোল আলুর জমিও ‘লেট ব্লাইট’ নামে এক ধরনের ছত্রাকবাহী রোগে আক্রান্ত হবার আশংকাও বাড়বে। তবে তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের নিচে নেমে গেলে গমের উৎপাদন সঠিক মাত্রায় পৌঁছার জন্য সহায়ক হতে পারে বলেও মনে করছেন কৃষিবীদরা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তদরের মতে, চলতি রবি মৌসুমে প্রায় ৩.৮৫ লাখ হেক্টরে বোরো আবাদের লক্ষ্যে ২০,৩১৭ হেক্টরে বোরো বীজতলা তৈরীর কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি চলতি মৌসুমে প্রায় ৬০ হাজার হেক্টরে গমের আবাদ হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলে। চলতি রবি মৌসুমে বরিশাল অঞ্চলে প্রায় ১৭ লাখ টন বোরো চাল ও দুই লক্ষাধিক টন গম উৎপাদেনর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কৃষিবীদরা।
