4:20 pm , December 21, 2025
চরফ্যাসন প্রতিবেদক ॥ চরফ্যাসনে পাওনা টাকা চাওয়ায় হাসান সরদার নামের এক দিনমজুরসহ একই পরিবারের ৫ জনকে মারধরের পর মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে নুর করিম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এতেই থেমে থাকেননি। নিরাপরাধ হাসান সরদারকে মাদক বিক্রেতা আখ্যা দিয়ে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মানববন্ধন ও প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেন নুর করিমসহ তার লোকজন।
গত ১৪ ডিসেম্বর আবদুল্লাহপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতিপক্ষ করিমের বাড়ি সংলগ্ন স্থানে পাওনা টাকা চাইতে গেলে তর্কের জের ধরে হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে ১৭ ডিসেম্বর নুর করিম বাদী হয়ে হাসান সরদারসহ তার পরিবারের ৫ জনকে আসামী করে চরফ্যাসন থানার মারধর ও তার দোকান লুটের অভিযোগ তুলে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় রাকিব নামের এক ব্যক্তি জেল হাজতে রয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ নুর করিম নিজেই একজন মাদক ব্যবসায়ী। ২০২৪ সালে পুলিশ তার বসতঘরে অভিযান চালিয়ে ১০০ পিস ইয়াবাসহ তার স্ত্রীকে আটক করে।
হামলার শিকার হাসান সরদার জানান, নুর করিম আমার পরিচিত ও প্রতিবেশী। তার ভাই নুর মোহাম্মদ এক বছর আগে আমার কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকা নেন। এবং বছর শেষে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা পরিশোধের চুক্তি হয়। এবং তার ভাই নুর করিম আমার স্ত্রী আয়েশার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ধার নেন। বছর শেষ হলে আমার স্ত্রী নুর করিমের কাছে টাকা চাইতে গেলে আমার স্ত্রীকে কু-প্রস্তাব দেয় এবং অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করেন। কু-প্রস্তাবে রাজি না হলে টাকা পরিশোধ করবেন বলে সাফ জানিয়ে দেন। পরে আমার স্ত্রী বাড়ি এসে বিষয়টি আমাকে জানান। সে আমার পাওনা টাকা আত্মসাত করতে গ্রামে দলবদ্ধ হন নুর করিমসহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা। ঘটনার দিন বিকালে আমি নুর করিমের বাড়ি সংলগ্ন চৌরাস্তায় গিয়ে আমার স্ত্রীর সাথে খারাপ আচরন এর কথা জানতে চাইলে নুর মোহাম্মদ টাকা দিতে অস্বীকার করে গালমন্দ শুরু করেন। এবং মাদক দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি দেন। এনিয়ে তর্ক হয়। তর্কের জের ধরে নুর করিমসহ ১০/১২ জনের একটি চক্র আমার ওপর অর্তকিত হামলা চালিয়ে গুরুতর জখম করেন। খবর পেয়ে আমার স্ত্রী আয়েশা ও ভাতিজা রাকিবসহ স্বজনরা আমাকে উদ্ধারে এগিয়ে গেলে দলবদ্ধ হয়ে তারা আমার পরিবারের ওপর হামলা চালিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় স্বজনরা আমাদের উদ্ধার করে চরফ্যাসন হাসপাতালে ভর্তি করেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। এতেই থেমে যাননি নুর করিমসহ তার চক্র। তাকেসহ তার পরিবারের সদস্যদের গ্রাম ছাড়া করার জন্য মাদক কারবারী আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে একটি মারধর ও দোকান লুটের মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় পলাতক রয়েছেন তিনি এবং তার পরিবারের সদস্যরা।
নুর করিম বলেন, হাসান খারাপ মানুষ। সে আমার ওপর হামলা করে আমার দোকান লুট করেছে।
চরফ্যাসন থানার ওসি জাহাঙ্গীর বাদশা জানান, এঘটনায় কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি।
