3:19 pm , December 12, 2025
বিশেষ প্রতিবেদক ॥ বরিশালের ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনো জনমনে উদ্বেগ ছড়াচ্ছে। ইতোমধ্যে সরকারি হাসপাতালেই ডেঙ্গু রোগী ভর্তির সংখ্যাটা ২২ হাজারের কাছে পৌছেছে। শুধু নভেম্বর মাসেই বরিশালের সরকারি হাসপাতালে সাড়ে ৩ হাজার ডেঙ্গু রোগী ভর্তির পাশাপাশি ৮ জনের মৃত্যুর পরে চলতি মাসের প্রথম ১০দিনে আরো প্রায় সাড়ে ৫শ রোগীকে ভর্তি করতে হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে আরো ১ জনের। এনিয়ে সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তিকৃত প্রায় ২২ হাজার ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৫০ জনের। বিগত বছরগুলোতে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আশানুরূপ পর্যায়ে হ্রাস পেলেও এবার নভেম্বরেও পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ।
শুক্রবার দুপুরের পূর্ববর্তি ২৪ ঘন্টায় বরিশালের সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রায় ১৮০ ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। এসময়ে প্রায় ৭০ জনকে ছাড়পত্র দেয়া হলেও নতুন করে আরো অর্ধ শতাধিক ডেঙ্গু রোগীকে ভর্তি করা হয়েছে। ফলে দুপুর পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন ছিলেন প্রায় পৌনে ২শ ডেঙ্গুরোগী। যারমধ্যে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই ৪৫ জন ও জেনারেল হাসপাতাল সহ জেলার অন্য হাসপাতালগুলোতে আরো ২৫ ডেঙ্গুরোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বারবারই ডেঙ্গু সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বরিশাল সিটি করপোরেশন সহ সব পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে তাগিদ দেয়া হলেও শীতের দাপটের মধ্যেও মশাবাহিত এ রোগের প্রকোপ কমছে না।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল জানান, গত কয়েক বছর ধরেই সেপ্টেম্বর পেরিয়ে অক্টোবরের মধ্যভাগ পর্যন্ত ডেঙ্গুর ঝুঁকিপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচনা করা হত। এসময়ে থেমে থেমে বৃষ্টিপাতের ফলে বিভিন্নস্থানে পানি জমে এডিস মশার লার্ভা সহজেই ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটাত বলে মনে করা হলেও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। পুরো নভেম্বর মাসজুড়েই বরিশাল সহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলে ডেঙ্গুর বিস্তৃতি অব্যাহত ছিল।
স্বাস্থ্য পরিচালকের মতে, ডেঙ্গু থেকে রেহাই পেতে এডিস মশার বংশ বিস্তার প্রতিরোধের কোন বিকল্প নেই। আর সে লক্ষ্যে বরিশাল সিটি করপোরেশন সহ এ অঞ্চলের সবগুলো পৌরসভারও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে বলে জানান পরিচালক।
