নগরীতে ব্ল্যাকমেইল করে চাঁদা আদায়কালে ভুয়া দুই সাংবাদিক আটক নগরীতে ব্ল্যাকমেইল করে চাঁদা আদায়কালে ভুয়া দুই সাংবাদিক আটক - ajkerparibartan.com
নগরীতে ব্ল্যাকমেইল করে চাঁদা আদায়কালে ভুয়া দুই সাংবাদিক আটক

3:15 pm , December 9, 2025

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশালে ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়ে ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদা আদায়ের অভিযোগে দুই যুবক মোঃ মামুন রেদোয়ান ও জাহাঙ্গীর মোল্লা কে স্থানীয় জনতা উত্তম মাধ্যম দিয়ে সাংবাদিক নেতাদের উপস্থিতিতে বিএমপি সদর কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” মঙ্গলবার ( ৯ ডিসেম্বর) দুপুরে বরিশাল অমৃত লাল দে কলেজের বিপরীতে খন্দকার ফার্নিচারের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ উঠেছে, প্রায় ১৫/–২০ জনের একটি চক্র সাংবাদিক পরিচয়ে শহরের বিভিন্ন ব্যক্তিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অর্থ আদায় করে আসছিল। এরা সরকারি কর্মকর্তা থেকে শুরু করে নানা পারিবারিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি করে আসছে। এমনকি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতঘর নির্মাণকালে এই চক্রটি দল বেঁধে নির্মাণাধীন কার্যক্রম বৈধ কিনা? সেই সব কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে কূট কৌশলে চাঁদা দাবি করে আসছিল। এরা দলবেধে বিভিন্ন ঠিকাদারের সাইডে গিয়ে কাজে অনিয়ম হয়েছে উল্লেখ করে চাদা দাবী করার অভিযোগও রয়েছে।
চলতি মাসের ৬ ডিসেম্বর মামুন রেদোয়ান সাংবাদিক পরিচয়ে তার সঙ্গে দেখা করতে বলেন এবং দাবি করেন যে, কাশিপুর এলাকায় এক নারীর সঙ্গে তার ‘গোপন ভিডিও’ রয়েছে। ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে এক লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। চক্রটির পক্ষ থেকে লিয়াকত আলী কে নগরীর ভাটার খাল সংলগ্ন ৩য় তলা অফিসে দেখা করতে বলা হয়। নয়তো তার ভিডিও অনলাইন নিউজ পোর্টালসহ প্রিন্ট পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করা হবে। এ সময় লিয়াকত আলী এ অভিযোগ অস্বীকার করে মামুন রেদোয়ানকে ঘটনার প্রমাণ দেখাতে বলেন।
৭ ডিসেম্বর সে দোকানে এলেও ভিডিও ডকুমেন্ট দেখাতে ব্যর্থ হয়। এরপর ভয়ভীতি দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। পরের দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার আবার ফোন করে দাবীকৃত বকেয়া ৮০ হাজার টাকা নিতে ব্যবসায়ী ফার্নিচারের দোকানে হাজির হয়। অপরদিকে লিয়াকত আলী বিষয়টি স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ নগরীর সাংবাদিক নেতাদের অবহিত করে রাখেন।
৯ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১১টায় দোকানে অবস্থান নেন চক্রের ৩ সদস্য। নির্ধারিত সময়ে মামুন রেদোয়ান ও জাহাঙ্গীর মোল্লা এলে স্থানীয় জনতা দুজনকে আটক করে গণধোলাই দেয়। চক্রের অন্য সদস্যরা পালিয়ে যায়। পরে আটককৃত দুজনকে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জনগণ সহ সাংবাদিক নেতাদের উপস্থিতিতে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে চক্রের অন্য সদস্যরা ঘটনাস্থলে আটককৃত ২ জনকে উদ্ধার করতে গেলে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা হাওয়া বেগম নামের ভুক্তভোগী নারী জানান, চলতি মাসের ৪ ডিসেম্বর মামুন রেদোয়ান তাকে ও তার মেয়েকে খাবারে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে অচেতন করে দুই লক্ষ টাকার সোনার গয়না নিয়ে যায়। থানায় হাজির হয়ে হাওয়া বেগম বলেন, “আমার সর্বস্ব লুটে নিয়েছে তারা। আরও অনেক মানুষ প্রতারিত হয়েছে— আমরা বিচার চাই।”
ফার্নিচার ব্যবসায়ী লিয়াকত আলী বলেন, “আমি বয়স্ক মানুষ, দোকান চালিয়ে সংসার চালাই। আমার সঙ্গে যে প্রতারণা হয়েছে তার কঠোর বিচার চাই। তাই আমি ১৫-২০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছি। আশাকরি, সঠিক বিচার পাবো।
“ অপসাংবাদিকতা দমনে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি, বরিশাল প্রেস ক্লাব, সাংবাদিক ইউনিয়ন, টেলিভিশন জার্নালিস্ট এ্যাসোসিয়েশন, ব্যুরো চিফ জার্নালিস্ট এ্যাসোসিয়েশন, ফটো সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ সহ ১৫টি সাংবাদিক সংগঠনের এক জোটে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সমন্বিত জোটের মুখপাত্র বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, “বরিশালে একটি চক্র সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে অপরাধ করে আসছে। এতে প্রকৃত সাংবাদিকতার সুনামহানি হচ্ছে। আগেও দুজন ভুয়া সাংবাদিককে ধরে আইনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। তারা দুইজন এখনও জেল হাজতে রয়েছে। ৯ ডিসেম্বর সোমবার চাঁদাবাজিকালে দুইজন জনতার হাতে ধরা পড়েছে। রিমান্ডে নিলে পুরো চক্রের তথ্য বের হয়ে আসবে বলে মনে করি। অপসাংবাদিকতা দূর করতে প্রশাসন সুষ্ঠু তদন্ত করবে বলে আমার বিশ্বাস।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT