3:33 pm , December 7, 2025
চরফ্যাসন প্রতিবেদক ॥ সাইফুল্লাহ নামে ষাটোর্ধ্ব এক কৃষকের ৮০ শতাংশ জমির পাঁকা ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভোলার চরফ্যাসন উপজেলার মুজিব নগর ইউনিয়নের দুই প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এছাড়াও ১৭০ শতাংশ জমি পাঁকা ধান কেটে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তারা। অভিযুক্ত প্রভাবশালী ওই দুই ব্যক্তি বাবলু হাওলাদার ও তার জামাতা জাফর বেপারি। তারা দুজন মুজিব নগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। ভুক্তভোগী কৃষকও একই এলাকায় বসবাস করেন।
কৃষক সাইফুল্লাহ তার ক্রয়কৃত ১৭০ শতাংশ জমির ধান কাটতে গেলে বাবলু হাওলাদার ও তার জামাতা জাফর বেপারি শনিবার ভোরে বাধা দেন। এ ঘটনার ১০ দিন আগেও ওই কৃষকের একই মৌজার ৮০ শতাংশ জমির পাঁকা ধান কেটে নেন শ্বশুর-জামাতা। এমন অভিযোগ কৃষক সাইফুল্লার।
কৃষক সাইফুল্লাহ বলেন, ‘লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা অলিউল্লাহ মেলকার থেকে আমি চরমোতাহার মৌজার ৮৭৮ নং খতিয়ানের ১৭০ শতাংশ জমি ১৩ বছর আগে ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা মূল্য নির্ধারণ করে ৯৩ হাজার টাকা বায়নাচুক্তিতে চাষাবাদ করে আসছি। বর্তমানে সে এই জমির দলিল না দিয়ে বরং জমির ধান কেটে নিতে বাবলু হাওলাদার ও তার জামাতা জাফর বেপারির মাধ্যমে আমাকে ও আমার ছেলেদের হুমকি দিচ্ছে এবং একই মৌজায় তারা আমার ক্রয়কৃত ১৫৫ নং খতিয়ানের ৮০ শতাংশ জমির পাঁকা ধান ১০ দিন আগে কেটে নিয়েছে। এই জমির কোন প্রকার মালিকানা নাই বাবলু হাওলাদার ও তার জামাতা জাফর বেপারির।’
সাইফুল্লাহ এর চাচা নিরব বলেন, ‘আমি এককানি (১৬০ শতাংশ) জমি কৃষক সাইফুল্লাহ এর কাছ থেকে নগদ টাকায় ইজারা নিয়েছি। ওই জমি সাইফুল্লাহ এর চাচাতো ভাই আলমগীর মোল্লা মালিকানা দাবী করেন। যদিও দীর্ঘ বছর ধরে সাইফুল্লাহ এর দখলে আছে। বাবলু হাওলাদার গতকাল সকালে আমার মোবাইলে কল দিয়ে বলছে, ‘এই জমি নিয়ে ঝামেলা আছে, যতদিন এই ঝামেলা চলবে ততদিন আমাদের মারফতে থাকবো।’ আবার জাফর বেপারি বলছে, ‘তুই ধান আমাকে দিবি। সাইফুল্লাহ এর থেকে কটের টাকা উঠাইয়া নিও। জাফর বেপারি আমার ধান আটকাইয়া রাখছে।’
একই মৌজায় কৃষক সাইফুল্লার কাছ থেকে নগদ টাকায় ১৬০ শতাংশ জমি কট (ইজারা) নিয়েছেন আরেক চাষি হারুন। হারুন বলেন, ‘আমি এক কানি (১৬০ শতাংশ) জমি কৃষক সাইফুল্লাহ এর কাছ থেকে নগদ টাকায় ইজারা নিয়েছি। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আমার ইজারা নেওয়া জমির মধ্যে জাফর বেপারি ৮ গোন্ডা (৬৪ শতাংশ) জমি দখল নেন।
অভিযুক্ত জাফর বেপারি বলেন, ‘সাইফুল্লাহ এর সাথে আমাদের ৫ গোন্ডা জমির বিরোধ রয়েছে। এরা আওয়ামী লীগ করত, আমরা করছি বিএনপি। আওয়ামী লীগের সময় তারা আমাদের জমি জোরকরে দখলে নিয়েছিলো। ৫ আগষ্টের পর ওই জমি আমরা দখলে নিয়েছি এবং আমাদের কাগজ আছে।’
দুলারহাট থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফ ইফতেখার বলেন, ‘এ বিষয়ে কোন অভিযোগ পাইনি। পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
