3:17 pm , November 29, 2025
বিশেষ প্রতিবেদক ॥ ঐতিহ্যবাহী প্যাডেল জাহাজ ‘পিএস মাহসুদ’ গণ পরিবহনের পরিবর্তে ‘পর্যটক সার্ভিস’ হিসেবে শুক্রবার সকালে ৩২ যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে ছেড়ে প্রায় সাড়ে ১০ ঘন্টায় বরিশাল পৌছায়। এরপর শনিবার সকালে ২০ যাত্রী নিয়ে ফিরতি যাত্রায় ১১ ঘন্টায় ঢাকায় গেছে। শনিবার সকালে পিএস মাহসুদ এর প্রথম শ্রেণীর ১২ কক্ষের মধ্যে ৮টিতে ১৬ জন, ১০ কক্ষের ২০ শয্যার দ্বিতীয় শ্রেণীতে দুজন এবং ডেক শ্রেণীতে আরা ২জন যাত্রী ভ্রমন করছেন। ৯৬০ যাত্রী বহনক্ষম নৌযানটির ডেক শ্রেণীতে ৯ শতাধিক যাত্রী ভ্রমনের সুযোগ রয়েছে।
টানা প্রায় পাঁচ বছর পরে নৌযানটির লাগসই মেরামত শেষে অক্টোবরের প্রথমভাগে বিআইডব্লিউটিসির ঢাকা ঘাটে নিয়ে আসা হয়। অক্টোবরেই একদফা পরীক্ষামূলক পরিচালন শেষে নভেম্বরের প্রথমভাগে নৌ পরিবহন উপদেষ্টা নৌযানটির আরেকটি পরিক্ষামূলক পরিচালনে অংশ নেয়। গত ১৫ নভেম্বর মেরামত ও পুনর্বাসনকৃত নৌযানটির আনুষ্ঠনিক উদ্বোধন করেন নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) সাখাওয়াত হোসেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নৌযানটি ২১ নভেম্বর থেকে ঢাকা-বরিশাল-ঢাকা নৌপথে সপ্তাহে দুদিন পর্যটকবাহী সার্ভিস হিসেবে চলাচলের কথা জানান হলেও সময়সীমা ঠিক থাকেনি। বরিশাল বন্দরে নৌযানটি ভেড়া ও ছাড়ার জন্য ঘাট তৈরী না হওয়া সহ নানা প্রতিবন্ধকতায় শেষ পর্যন্ত মাহসুদ এর যাত্রা ২৮ নভেম্বর নির্ধারন করা হয়। ২৮ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৮টায় ‘পর্যটক সার্ভিসটি ৩২জন যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে যাত্রা করে সন্ধ্যা ৭টায় ত্রিশ গেডাউন ঘাটে নোঙর ফেলে। রাত্রী যাপনের পরে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় পিএস মাহসুদ ২০ যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। পথিমধ্যে নৌযানটি চাঁদপুরে ১৫ মিনিটের জন্য যাত্রা বিরতি করেছে।
বরিশাল বন্দরের মূল টার্মিনাল ভবনের পুরো জমি এক সময়ে বিআইডব্লিউটিসি’র থাকলেও সরকারি সিদ্ধান্তে সেখানে বিআইডব্লিউটিএ টার্মিনাল ভবন সহ পন্টুন স্থাপন করে বন্দরের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। বন্দরের ‘৪ নম্বর স্টিমার ঘাট’ নামে পরিচিত ঘাটটি সর্বশেষ বিআডিব্লিউটিসি’র ‘উপকূলীয় জাহাজ ঘাট’ ও ‘রকেট স্টিমার ঘাট’ হিসেবে ব্যবহার হলেও ২০১১ সালের ১৫ মে থেকে বরিশাল-চট্টগ্রাম রুটে উপকূলীয় স্টিমার সার্ভিস এবং ২০২০ সালে রকেট স্টিমার সার্ভিস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকটা পরিত্যক্ত হয়ে যায়। এ অবস্থায় বিআইডব্লিউটিএ চলমান বিশ^ব্যাংক প্রকল্পের আওতায় সেখান থেকে বিআইডব্লিউটিসি’র ভাসমান ফ্লাটটি অপসারণ করে পন্টুন স্থাপনের কার্যক্রম শুরু করে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের পরেও ঘাটটি প্রস্তুত করতে পারেনি বিআইডিব্লিউটিএ। সেখানে নতুন স্পার্ড বসান হলেও পন্টুন স্থাপন করা হয়নি। বিআইডব্লিউটিসি সেখানে তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় একটি পন্টুন নিয়ে এলেও তা স্থাপন সহ যাত্রী ওঠানামার জন্য জেটি বানাতে পারেনি।
ফলে দু’দফা পিছিয়ে গত শুক্রবার পর্যটক সার্ভিসের পিএস মাহসুদ বরিশাল বন্দরে ভিড়তে পারেনি। বন্দর থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার ভাটিতে ত্রিশ গোডাউন ঘাটে নৌযানটি ভেড়ানোর ফলে আগত যাত্রীদের চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। এমনকি এ নগরীর বেশীরভাগ মানুষই পর্যটক সার্ভিসটি চালুর খবর জানতেন না। ফলে ফিরতি ট্রিপে যাত্রীসংখ্যা ছিল আরো হতাশাব্যঞ্জক।
নৌযানটির প্রথম শ্রেণীতে জনপ্রতি ভাড়া ২৬শ টাকা, দ্বিতীয় শ্রেণীতে ১৬৫০ টাকা এবং ডেক শ্রেণীতে ৬শ টাকা ভাড়া নির্ধারন করা হয়েছে। যা বেসরকারী বিলাসবহুল যেকোন নৌযানের চেয়ে অনেক বেশী।
