স্ব-ঘোষিত বিএনপি নেতা পরিচয়ে বেপরোয়া মেডিকেল কলেজের সবুর স্ব-ঘোষিত বিএনপি নেতা পরিচয়ে বেপরোয়া মেডিকেল কলেজের সবুর - ajkerparibartan.com
স্ব-ঘোষিত বিএনপি নেতা পরিচয়ে বেপরোয়া মেডিকেল কলেজের সবুর

3:57 pm , November 1, 2025

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ কর্মক্ষেত্র সহ ও নিজ এলাকায় স্ব-ঘোষিত বিএনপি নেতা পরিচয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের চতুর্থ শ্রেনীর এক কর্মচারি। শেবামেক এর আউটসোর্সিং এর কর্মচারিদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, কর্মক্ষেত্রে নানা ধরনের সেচ্চাচারিতা, নিজ এলাকা কর্নকাঠিতে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনা সহ চাচাতো ভাইদের জমি জোর করে দখলের চেষ্টার মত অভিযোগ উঠেছে মো. সবুর খান নামের ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ফ্যাসিস্ট সরকার খ্যাত আওয়ামীলীগের উচ্চ পর্যায়ের বিভিন্ন নেতাকর্মীদের তোষামোদ করে বিগত সময়ে প্রভাব বিস্তার করে থাকা সবুর খান এখন বিএনপি নেতা সেজে এসকল অপকর্ম করে বেরাচ্ছে বলে জানায় অভিযোগকারীরা। সবুর খানের যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ হয়ে গত ২৪ অক্টোবর শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয় সামনে বিক্ষোভ করে স্বারকলিপি দিয়েছে আউটসোর্সিং এর কর্মচারিরা। তারা সবুর খানের বিরুদ্ধে বদলির ভয় দেখিয়ে চাদা দাবির অভিযোগ এবং তার অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে তার দাপটে দিশেহারা হয়ে উঠেছে কর্নকাঠী ইউনিয়নের সাধারন বাসিন্দারা। সর্বশেষ কর্নকাঠী ইউনিয়নের রানীরহাট সড়কের রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির বিপরীতে থাকা তার চাচাতো ভাইদের জমি দখলের জন্য চেষ্টা চালায়। এসময় সবুর খান তার দলবল নিয়ে ভাইদের প্রাননাষের হুমকি দেয় এবং হামলা চালায়। দলীয় কোন ধরনের পদ পদবি না থাকলেও নিজেকে বিএনপির বড় নেতা দাবি করে তার যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন বলে প্রকাশ্যে হুমকি প্রদান করেন। এসকল অভিযোগের পাশাপাশি ইউনিয়নে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকান্ডের অভিযোগ তোলে সাধারন বাসিন্দারা। একই সাথে তার বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহনের জন্য সদর ও জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের কাছে আবেদন করেন।
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের আউটসোর্সিং এর একাধিক কর্মচারি অভিযোগ করে, মো. সবুর খান ২০০৩ সালে বিএনপির বরিশালের এক সিনিয়র নেতার তদবিরে সিভিল সার্জন অফিসে চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারি হিসেবে যোগদান করেন। এর পর থেকেই তিনি বেপরোয়া চলাচল শুরু করে কর্মক্ষেত্রে। এর পরে তিনি বদলী হয়ে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের কর্মচারি হিসেবে কাজ শুরু করেন। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এলে সবুর খান ভোল পাল্টে আওয়ামীলীগ হয়ে ওঠেন। আওয়ামীলীগের উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের ফুল ও শুভেচ্ছা দিয়ে তা দেখিয়ে অপকর্ম শুরু করেন আওয়ামীলীগ হয়ে। গত বছর আওয়ামীল পতনের পর তিনি আবার হয়ে ওঠেন বিএনপি। শুরু করেন যা ইচ্ছে তাই। প্রতিনিয়ত তার যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের আউটসোর্সিং এর কর্মচারিরা। বিভিন্ন সময় তিনি কাজ থেকে অপসারন ও বদলির ভয় দেখিয়ে আউটসোর্সিং এর কর্মচারিদের কাছে চাঁদা দাবি করা শুরু করেন। তার কথা না শুনলে কর্মচারিদের মারধর করেন সবুর খান। সব শেষ তাকে অপসারনের দাবিতে অধ্যক্ষ বরাবর স্বারকলিপি দিয়েও কোন কাজ হচ্ছেনা।
অন্যদিকে কর্নকাঠী এলাকায় তিনিই এখন বড় বিএনপি বলে একাধিক বাসিন্দারা জানান। খোদ সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য এ্যাড. কাজী মোখলেসুর রহমান বলেন, সবুর খান একজন উগ্র মেজাজের লোক। দলে তার কোন পদ কখনই ছিলোনা। চাকুরি ক্ষেত্রে আওয়ামীলীগ সেজে চলা সবুর খান বর্তমানে বিএনপি নেতা পরিচয়ে এলাকায় নানা বিতর্কিত কর্মকান্ড ঘটাচ্ছে। দলে কোন পদ না থাকায় তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক কোন ব্যাবস্থা নেয়া সম্ভব হচ্ছেনা। তবে দলের নাম ভাঙ্গিয়ে ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় এমন কাজ করলে সদর ও জেলা বিএনপির নেতারা তার বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহনে পদক্ষেপ গ্রহন করবেন।
অন্যদিকে এ বিষয়ে সদর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক নুরুল আমিন বলেন, সবুর খান পূর্বে বিএনপি সমর্থন করতো। পরে কর্মক্ষেত্রে আওয়ামীলীগে যোগ দিয়েছেন কিনা তার যানা নেই। তবে দলীয়ভাবে তার কোন পদ পদবি নেই। বর্তমানে করা তার অপকর্মের বিষয়ে তিনি জানতেন নাহ। এখন জেনেছেন তাই দলের ভাবমূর্তী ক্ষুন্ন হয় এমন কোন কাজ তাকে আর করতে দেয়া হবেনা। তিনি যদি ভবিষ্যতে বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে কোন ধরনের অপকর্ম করেন তবে দল তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করবে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT