এবার জাটকা আহরণ ও বিপণনে ৮ মাসের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলো এবার জাটকা আহরণ ও বিপণনে ৮ মাসের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলো - ajkerparibartan.com
এবার জাটকা আহরণ ও বিপণনে ৮ মাসের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলো

3:28 pm , October 31, 2025

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ মূল প্রজননকালে ইলিশ আহরণ, পরিবহন ও বিপণনে নিষেধাজ্ঞা শেষ হবার এক সপ্তাহ পরেই শুক্রবার মধ্যরাত থেকে সারা দেশে জাটকা আহরণ,পরিবহন ও বিপণনে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। মৎস্য বিজ্ঞানীদের সুপারিশেই মূল প্রজনন মৌসুম হিসেবে গণ্য করে গত ৩ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ২৫ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত উপকূলের ৭ হাজার ৩৪৩ বর্গ কিলোমিটারের প্রধান প্রজননস্থলে সব ধরনের মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি সারা দেশেই ইলিশের আহরণ,পরিবহন ও বিপণন নিষিদ্ধ ছিল।
প্রজননকালের নিষেধাজ্ঞার মত আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত জাটকা আহরণে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতেও  সারা দেশের সাথে বরিশালের অভ্যন্তরীণ ও উপকূলীয় এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালত সহ মৎস্য বিভাগের নানা ধরনের অভিযান চলবে। এসব অভিযানে নৌবহিনী, কোষ্টগার্ড, পুলিশ, নৌ পুলিশ ও র‌্যাব সহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নজরদারী অব্যাহত রাখবে।
তবে এবারো জাটকা আহরণে নির্ভরশীল জেল পরিবারগুলোর জন্য ৪ মাস খাদ্য সহায়তা দেবে সরকার। একইসাথে বরিশাল সহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে ক্ষতিকর কারেন্ট জাল,বেড় জাল ও বেহুন্দি জাল সহ অন্যন্য ক্ষতিকর মৎস্য আাহরণ উপকরন ও সরঞ্জামাদীর ব্যবহার বন্ধে  বিশেষ কম্বিং অপারেশন শুরু হতে যাচ্ছে খুব শিঘ্রই। এখনো নিষিদ্ধ ঘোষিত আহরণ উপকরনের সাহায্যে যে পরিমান জাটকা সহ অন্যান্য পোনামাছ আহরণ হয়, তার এক-দশমাংশ রক্ষা পেলেও বছরে আরো অন্তত ১ লাখ টন ইলিশ সহ অন্যান্য মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পেত।
মৎস্য অধিদপ্তরের মতে, দেশে আহরিত মোট ইলিশের প্রায় ৭০ ভাগই আহরিত হচ্ছে বরিশলের অভ্যন্তরীণ  ও উপকূলীয় এলাকায়। কিন্তু  সীমান্তের ওপারে অভিন্ন ৫৩টি নদ-নদীর প্রবাহ নিয়ন্ত্রনের ফলে ইলিশের বিচরনস্থল হিসেবে বিবেচিত বরিশাল সহ উপকূলীয় নদ-নদীগুলোতে অব্যাহত নাব্যতা সংকটের পাশাপাশি বিভিন্ন শিল্প ও মনুষ্য বর্জ্য সমূহ লাগাতার নদীতে অবমুক্ত করায় ইলিশের অবাধ বিচরন ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি নাব্যতা সংকটের সাথে গত কয়েক বছর ধরে জলবায়ু পরিবর্তণের সুস্পষ্ট প্রভাবে নদীর পানির তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের ৫-৬ ডিগ্রী পর্যন্ত উপরে উঠে যাচ্ছে। ফলে ইলিশ ক্রমাগত গভীর সমুদ্রে চলে যাচ্ছে।
তবে নজরদারী বৃদ্ধির ফলে দেশে জাটকার উৎপাদন ২০১৫ সালে ৩৯,২৬৮ কোটি থেকে ২০১৭ সালে ৪২,২৭৪ কোটিতে উন্নীত হয়। যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪৪ হাজার কোটিতে উন্নীত হয়েছে। আনুপাতিকহারে বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশে ইলিশের উৎপাদনও ২০২২-২৩ অর্থ বছরে ৫.৭১ লাখ টনে উন্নীত হয়।
এরই মধ্যে মৎস্য বিজ্ঞানীদের সুপারিশের আলোকে ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সারা দেশেই ইলিশ পোনা-জাটকার আহরণ, পরিবহন ও বিপণনে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ হলো। সমুদ্রে যাবার সময় পর্যন্ত যেসব এলাকায় ইলিশ পোনাÑজাটকা খাদ্য গ্রহণ করে বেড়ে ওঠে, সেগুলোকে ‘গুরুত্বপূর্ণ নার্সারী ক্ষেত্র’ হিসেবে চিহিৃত করে বরিশাল অঞ্চলের উল্লেখিত এলাকাগুলোতে ৬টি অভয়াশ্রম ঘোষনা করা হয়েছে।
এরমধ্যে আন্ধারমানিক নদীতে নভেম্বরÑজানুয়ারী মাসের সময় কালকে অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষনা করে ঐসব এলাকায় সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়েছ। একইভাবে নিম্ন মেঘনা নদী, শাহবাজপুর চ্যানেল ও তেতুলিয়া নদীতে এবং মতলব ছাড়াও ভেদরগঞ্জ উপজেলার মধ্যে অবিস্থিত পদ্মা নদীর ২০কিলোমিটার এলাকার অভয়াশ্রমে ডিসেম্বর থেকে মার্চÑএপ্রিল মাসে জাল ফেলা বন্ধ থাকবে। এছাড়াও বরিশালের হিজলা উপজেলার মাসকাটা, হরিনাথপুর, ধুলখোলা এবং মেহেদিগঞ্জের ভাষানচর পয়েন্ট এলাকার মেঘনার শাখা নদী, হিজলা উপজেলার ধর্মগঞ্জ ও নয়া ভাঙনী নদী সহ মেহেন্দিগঞ্জের লতা নদীর ৬০ কিলোমিটার এলাকায় ইলিশের ৬ষ্ঠ অভয়াশ্রম ঘোষনা করা হয়েছে।
মৎস্য বিজ্ঞানীদের মতে, অভিপ্রয়াণী মাছ ইলিশ প্রতিদিন ¯্রােতের বিপরীতে ৭১ কিলোমিটার পর্যন্ত ছুটে চলতে সক্ষম। জীবনচক্রে ইলিশ স্বাদু পানি থেকে নোনা পানিতে এবং সেখান থেকে পুনরায় স্বাদু পানিতে অভিপ্রয়াণ করে। উপকূলের ৭,৩৪৩ বর্গ কিলোমিটারের মূল প্রজনন ক্ষেত্রে মুক্তভাবে ভাসমান ডিম ছাড়ার পরে তা থেকে ফুটে বের হওয়া ইলিশের লার্ভা, স্বাদু পানি ও নোনা পানির নর্সারী ক্ষেত্রসমূহে বিচরন করে খাবার খেয়ে বড় হতে থাকে। নার্সারী ক্ষেত্রসমূহে ৭Ñ১০ সপ্তাহ ভেসে বেড়িয়ে জাটকা হিসেব সমুদ্রে চলে যায় পরিপক্কতা অর্জনে। মৎস্য বিজ্ঞানীদের সুপারিশে সমুদ্রে যাবার সময় পর্যন্ত যেসব এলাকায় ইলিশ পোনাÑজাটকা খাদ্য গ্রহণ করে বেড়ে ওঠে, সেগুলোকে ‘গুরুত্বপূর্ণ নার্সারী ক্ষেত্র’ হিসেবে চিহিৃত করে অভয়াশ্রম ঘোষনা করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় ১২Ñ১৮ মাস অবস্থানের পরে পরিপক্ক হয়েই প্রজননক্ষম ইলিশ আবার স্বাদু পানির নার্সারী ক্ষেত্রে ফিরে এসে ডিম ছাড়ে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT