বরিশালে ই-রিটার্ন জমাদানে ব্যাপক সাড়া বরিশালে ই-রিটার্ন জমাদানে ব্যাপক সাড়া - ajkerparibartan.com
বরিশালে ই-রিটার্ন জমাদানে ব্যাপক সাড়া

4:20 pm , October 29, 2025

আবু তালহা রিমন ॥ বরিশাল বিভাগে  ই-রিটার্ন জমা দেওয়ায় ব্যাপক সাড়া পড়েছে। গত বছর  ই-রিটার্ন দাখিল হয়েছে  ৭৭ হাজারের বেশি। এ বছর তার তার চেয়েও বেশি হবে বলে জানিয়েছেন  বরিশাল কর অঞ্চলের উপ কর কমিশনার সদর দপ্তর (প্রায়োগিক)। ই-রিটার্ন দখিল এখন কর দাতাদের মধ্যে জনবান্ধব বা ইউজার ফ্রেন্ডলি বলে মনে করেন তিনি। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে বরিশাল বিভাগে  মোট আদায় হয়েছে ৮শ ৫০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এবং করদাতা রিটার্ন দাখিল করেছেন ১ লাখ ৫৮ হাজার ৭২০ জন।
জরিমানা ছাড়া কর রিটার্ন দাখিলের শেষ সময় ৩০ নভেম্বর ২০২৫। ই-রিটার্ন এখন মোবাইলের মাধ্যমেও দাখিল করা যায়। অনলাইনে রিটার্ন দাখিল ও কর পরিপালন সহজীকরণের লক্ষে   বরিশাল কর অফিস আলেকান্দা রোড লাচিন ভবন কর অফিসের নিচতলায় একটি বুথ খুলেছে ।  কর দাতার  ফাইলে ঢুকে কোন কিছু লিখলে সেইভ (সংরক্ষন) না করে বের হয়ে আসার পর সেগুলো সব থেকে যায়। যার কারনে কর দাতার ফাইল যে কোন সময় সংশোধন (এডিট) করা যায়। ই-রিটার্নের সকল ডকুমেন্ট (তথ্য) সব সময় বের করা যায়।
বরিশাল বিভাগের সিনিয়র আয়কর আইনজীবী  অপূর্ব কুন্ডু বলেন-জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এর অনলাইনে ই-রিটার্ন জমাদান একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ই-রিটার্ন এর কারনে করদাতা খুব সহজে তার আয়কর সংক্রান্ত সেবা পেয়ে থাকে বিশেষ করে প্রাপ্তি স্বীকার পত্র ও প্রত্যয়নপত্র। অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে করদাতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। তবে ই-রিটার্ন এর মাধ্যমে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় করদাতাদের আইনগত বিষয়গুলো ভালোভাবে জেনে শুনে নিতে হবে। আয়কর রিটার্ন জমাদান প্রক্রিয়া জনবান্ধব করায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে ধন্যবাদ জানাই।
কর সেবায় বরিশার বিভাগে মোট ২২ টি সার্কেল অফিস আছে। এর মধ্যে বরিশাল জেলায় ১০ টি, ভোলায়  ৩ টি, পটুয়াখালীতে ৪ টি, বরগুনায় ১ টি, ঝালকাঠীতে ২ টি ও পিরোজপুরে ২ টি অফিস রয়েছে। বরিশাল বিভাগে টিন গ্রহণকারীর সংখ্যা ৪ লাখ ৯৫ হাজারের বেশি।
ই-রিটার্ন সংক্রান্ত সেবার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)  ঢাকার আগারগাঁও এ একটি কল সেন্টার খুলেছে। এ সংক্রান্ত কল সেন্টার প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত চালু আছে। কল সেন্টারের নম্বর  ০৯৬৪৩৭১৭১৭১। এ ছাড়া অনলাইনে রিটার্ন তৈরি ও জমা দেওয়া যাবে। আবার এই সিস্টেম থেকে ইন্টারনেট ব্যাকিং, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড ও মোবাইল ব্যাকিংয়ের মাধ্যমে করদাতারা কর পরিশোধ করতে পারবেন। এ ছাড়া দাখিল করা রিটার্নেও কপি, প্রাপ্তি স্বীকারপত্র, আয়কর সনদ, কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) ডাউনলোড ও প্রিন্ট করা যাবে।
করমুক্ত আয়সীমা ব্যক্তিশ্রেণীর পুরুষ করদাতার ক্ষেত্রে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, নারী অথবা ৬৫ বছরের অধিক পুরুষ করদাতার ক্ষেত্রে সাড়ে ৪ লাখ টাকা, প্রতিবন্ধী করদাতার ক্ষেত্রে ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধার ক্ষেত্রে ৫ লাখ টাকা ধার্য করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
আয়করের বর্তমান হার ঃ প্রথম ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত  মোট আয়ের ওপর শূন্য শতাংশ, পরবর্তী ১ লাখ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের ওপর ৫ শতাংশ,পরবর্তী ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের ওপর ১০ শতাংশ, পরবর্তী ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ, পরবর্তী ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের ওপর ২০ শতাংশ, পরবর্তী ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের ওপর ২৫ শতাংশ, অবশিষ্ট মোট আয়ের ওপর ৩০ শতাংশ কর দিতে হবে।
করদাতার নীট পরিসম্পদের মূল্যমান ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত শূন্য শতাংশ, পরবর্তী নীট পরিসম্পদের মূল্যমান ৪ কোটি টাকার অধিক কিন্তু  ১০ কোটি টাকার অধিক নয় বা নিজ নামে একের অধিক মোটর গাড়ি বা মোট ৮ হাজার বর্গফুটের অধিক আয়তনের গৃহ সম্পত্তির ওপর ১০ শতাংশ, পরবর্তী নীট পরিসম্পদের মূল্যমান ১০ কোটি টাকার অধিক কিন্তু  ২০ কোটি টাকার অধিক নয় সম্পত্তির ওপর ২০ শতাংশ, পরবর্তী নীট পরিসম্পদের মূল্যমান ২০ কোটি টাকার অধিক কিন্তু  ৫০ কোটি টাকার অধিক নয় সম্পত্তির ওপর ৩০ শতাংশ, পরবর্তী নীট পরিসম্পদের মূল্যমান ৫০ কোটি টাকার অধিক হলে সম্পত্তির ওপর ৩৫ শতাংশ সারর্চাজ (অতিরিক্ত খরচ) দিতে হবে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT