4:16 pm , October 29, 2025
জামায়াত ও ইসলামি আন্দোলনের প্রার্থীও চূড়ান্ত
মো. জসিম জনি, লালমোহন প্রতিবেদক ॥ ভোলা-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রায় নিশ্চিত রয়েছেন সাবেক ৬ বারের এমপি ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম। সোমবার গুলশানে অনুষ্ঠিত বিএনপির প্রার্থী বাছাই অনুষ্ঠানে তিনি এককভাবে ভোলা-৩ আসন থেকে উপস্থিত ছিলেন। লালমোহন ও তজুমদ্দিন উপজেলা নিয়ে গঠিত ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হয়ে তিনি এর আগে পাট, বাণিজ্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এই আসনে বিএনপি জনসমর্থনে এগিয়ে থাকলেও গত কয়েকটি বিতর্কিত নির্বাচনে তাকে পরাজিত করা হয় এবং কয়েকটি নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করায় তিনিও দূরে ছিলেন। কিন্তু স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা মামলা-হামলায় নির্যাতিত হওয়ার পর শেষ আশ্রয় হিসেবে মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের দ্বারস্থ হলে তিনিই সংগঠিত করে রাখেন সকলকে। যদিও মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ নিজেও একাধিক মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর বিএনপি থেকে আবারো সংসদ সদস্য হওয়ার ইচ্ছা নিয়ে তিনি এলাকায় কাজ করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে তার পক্ষ থেকে দুই উপজেলার সকল ইউনিয়নে তারেক রহমান কর্তৃক ঘোষিত রাষ্ট্র
কাঠামো গঠনের ৩১ দফার লিফলেট নিয়ে বাড়ি বাড়ি ভোট চাওয়া কর্মসূচি শুরু করে দিয়েছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তিনিও গতমাসে আনুষ্ঠানিকভাবে গজারিয়া বাজারে সমাবেশের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণার কাজ শুরু করেন। মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বিএনপির নেতা-কর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছেন- কেউ যেন চাঁদাবাজী, চর দখল ও বিচার সালিশের নামে হয়রানী না করে। বিএনপি থেকে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমের প্রার্থীতা প্রায় নিশ্চিত হলেও এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ারওসম্ভাবনা রয়েছে। এ তালিকায় আছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক কয়েকজন নেতা ।
ভোলা-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ, ইসলামী আন্দোলনেরও প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে। জামায়াত থেকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে তাদের সমমনা দল বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)’র মহাসচিব নিজামুল হক নাঈমকে। নিবন্ধিত এই দলের প্রতীক ফুলকপি। নিজামুল হক নাঈম লালমোহনের সন্তান এবং উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুল হকের ছোট ভাই। নিজামুল হক নাঈম এই প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছেন। তিনি কেন্দ্রীয়ভাবে ছাত্র রাজনীতি করে উঠে আসেন মূলধারার রাজনীতিতে। তার পক্ষে ইতোমধ্যে জামায়াত মাঠে নেমে পড়েছে। জামায়াতের সকল পর্যায়ের সমর্থক, নেতৃবৃন্দ এমনকি মহিলা জামায়াতের কর্মীরাও বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইছেন তার পক্ষে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা মোসলেউদ্দিনকে গত ১৯ অক্টোবর হাতপাখা প্রতীক তুলে দিয়েছেন চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম। তিনি এর আগেও হাতপাখা প্রতীক নিয়ে এই আসন থেকে নির্বাচন করেছেন।
