3:25 pm , October 17, 2025
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় দিনাজপুরের বিরামপুর সীমান্ত এলাকা থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভেলারপাড় গ্রামে সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরে শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাদের দিনাজপুর কোর্টে চালান দেওয়া হলে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাদের জেল হাজতে পাঠানো নির্দেশ দেন।
গ্রেফতারকৃত দুই নেতা হলেন, বরিশাল উজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এবং উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ইকবাল (৫৭) ও বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল আজাদ রিপন (৪৮)।
হাফিজুর রহমান ইকবাল বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। হাফিজুর রহমান ইকবাল আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের দু’বার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ঘনিষ্টজন ও দাপুটে আওয়ামী লীগ নেতা ছিলেন। ১৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাতে দিনাজপুরের বিরামপুরের কাটলা এলাকা দিয়ে অবৈধ পথে ভারতে পাড়ি জমানোর সময় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। তার গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উজিরপুর মডেল থানার ওসি আব্দুস সালাম। আটককৃত হাফিজুর রহমান ইকবালকে দিনাজপুর আদালতে হাজির করা হবে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন। সরকার পতনের পর তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। তার গ্রেফতারের খবরে উজিরপুর উপজেলাজুড়ে নানা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। থানা পুলিশ জানিয়েছে তার বিরুদ্ধে উজিরপুর থানায় মামলাও রয়েছে।
দিনাজপুর পুলিশ সুপার মো. মারুফাত হুসাইন জানান, বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ভেলারপাড় গ্রামে সীমান্তের কাছাকাছি পাকা সড়কের একটি কালভার্টের কাছে দুজন ব্যক্তিকে ইজিবাইকে যেতে দেখেন স্থানীয় কয়েকজন যুবক। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের থানায় নিয়ে আসেন।
তিনি বলেন, তারা দুজনই গ্রেফতার এড়াতে নিরাপদ রুট মনে করে বিরামপুরের কাটলা সীমান্তের ভ্যালার পাড় দেশীয় ও ভারতীয় দালালের মাধ্যমে পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
পুলিশ সুপার বলেন, হাফিজুর রহমান ইকবালের বিরুদ্ধে একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা ও উজিরপুর মডেল থানায় দুটি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তিনি (ইকবাল) পলাতক ছিলেন। এছাড়া মাহমুদুল আজাদ ওরফে রিপনের বিরুদ্ধেও একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা ও বরগুনা সদর থানায় দুটি মামলা রয়েছে।
