নলছিটিতে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে যুবদল নেতাকে হয়রানির অভিযোগ নলছিটিতে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে যুবদল নেতাকে হয়রানির অভিযোগ - ajkerparibartan.com
নলছিটিতে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে যুবদল নেতাকে হয়রানির অভিযোগ

3:30 pm , October 7, 2025

নলছিটি প্রতিবেদক ॥ নলছিটিতে যুবদল নেতা সজিব ফকিরকে দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক জমি দখল, চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক খান মনিরুজ্জামান বিপ্লবের বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার কুলকাঠি ইউনিয়নের কাপড়কাঠি গ্রামে বিপ্লব খান ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয়দের শত একর জমি দখল করে মাছের ঘের তৈরি করেন। এর মধ্যে যুবদল নেতা সজিব ফকির ও তার পরিবারের প্রায় ৫ একর জমি দখল করে ঘের সম্প্রসারণ করেন তিনি।
জমি ফেরত চেয়ে ৪ অক্টোবর   নলছিটি থানায় ভুক্তভোগী মো: চাঁন মল্লিক বাদী হয়ে একটি অভিযোগ দাখিল করেন।  এরপর ৫ অক্টোবর ভুক্তভোগী জমিদাতাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন যুবলীগ নেতা বিপ্লব খানের ভাই কাওছার খান।
যুবদল নেতা সজিব ফকির বলেন, আমি ২০১৪ সালে জমি দখলের প্রতিবাদ করায় আমাকে হয়রানির উদ্দেশ্য তখন মিথ্যা মামলা দেয়, যার ফলে আমাকে এলাকা ছেড়ে ঢাকায় গিয়ে ব্যবসা শুরু করতে হয়। পরে বিপ্লব খান আমার কাছে ৮ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করলে আমি তিন লাখ ৮০ হাজার টাকা দেই, তবে বাকি ২০ হাজার টাকা না দেওয়ার কারনে আমার মোটরসাইকেল নিয়ে যায় বিপ্লব বাহিনী। তখন তাদের ভয়ে মুখ খুলতে পারিনি। ২০২৪ সালে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আমার জমি ও মোটরসাইকেল ফেরত চাইলে বিপ্লব ও তার সহযোগীরা আমাকে আটক করে মারধরের চেষ্টা করে।  পরবর্তীতে বিএনপি নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে আমাকে উদ্ধার করেন।
এরপর থানায় অভিযোগ, মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেও আইনী সুরাহা না পাওয়ায় আমি আমি শঙ্কায় দিন পার করছি।  নতুন করে আমার ও আমার পরিবারের ৪ জনের বিরুদ্ধে একটি বানোয়াট তথ্য দিয়ে হয়রানির উদ্দেশ্যে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেছেন যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
যুবলীগ নেতা বিপ্লবের ছোট ভাই কাওছার খান ৬অক্টোবর নতুন করে নলছিটি থানায় সজিব ফকিরসহ চারজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেছেন। অভিযোগ রয়েছে এই কাওছার খান বেনামী একটি ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে চাকরি করতেন। বিগত স্বৈরাচার সরকারের আমলে তার ভাইয়ের প্রভাব খাটিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকের ডাক্তারদের দিয়ে তার কোম্পানির ওষুধ লেখাতে বাধ্য করতেন।
ভুক্তভোগী স্থানীয়দের দাবী আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা আমির হোসেন আমুর ঘনিষ্ঠ থাকায় বিপ্লব খান একসময় এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে বিপুল সম্পদের মালিক বনে যান। সরকার পতনের পর তার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ উঠছে, তবু এখনো প্রভাব খাটিয়ে ভুক্তভোগীদের হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
যুবলীগ নেতা মনিরুজ্জামান বিপ্লব খান বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পূর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট। ৫ আগস্টের পরে সজিব ফকির আমার থেকে ৪ লাখ টাকা নিয়েছে। আমাকে প্রাননাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। আমি বহু আগে যুবলীগ করেছি। এখন আমি কোন রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত নেই।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT