3:11 pm , October 7, 2025
কাশিপুরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা লিটু হত্যা
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশাল বিমানবন্দর থানা পুলিশ তদন্তের নামে ডেকে নিয়ে তাদের সামনে দায়েরকৃত মামলার আসামিরা সহ তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা মিলে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে বরিশাল মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক লিটন শিকদার ওরফে লিটু (৩২) কে প্রকাশ্যে হত্যার পাশাপাশি বসতঘর ভাঙচুর সহ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে। লিটুকে বাঁচাতে গিয়ে তার ভাই-বোন ও মা শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হারিয়েছে। বর্তমানে কিছু সংখ্যক আসামি জামিনে এসে মামলার বাদি সহ নিহত লিটুর পরিবারের সদস্যদের খুন ও গুমের হুমকি দেয়ায় নিরাপত্তার অভাবে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে বসবাস করছে।
এমন অভিযোগ এনে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১ টায় বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন নিহত লিটুর বোন ও দায়েরকৃত মামলার বাদি মুন্নি আক্তার (৩৫)। সংবাদ সম্মেলনে মুন্নির পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার ভাই সুমন সিকদার।
তিনি বলেন, চলতি বছরের ৩১ জুলাই কাশিপুর ইউনিয়নের পূর্ব বিল্ববাড়ি এলাকায় পুলিশের কাছ থেকে লিটুকে ছিনিয়ে নিয়ে প্রকাশ্যে হত্যার পাশাপাশি বসতঘর ভাঙচুরসহ অগ্নিসংযোগ করে প্রতিপক্ষ। পরদিন অর্থাৎ ১ আগস্ট বরিশাল বিমান বন্দর থানায় নামধারী ৬১ জন ও অজ্ঞাতনামা ১৫০/২০০ জনকে আসামি করে আমি একটি হত্যা মামলা দায়ের করি।
হামলার সময় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে ওই দিনই আমাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। হামলায় আমার এক পা, ভাইয়ের এক হাত এবং মায়ের হাতের তিনটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হয়ে গেছি। তবে আগের তুলনায় আমি কিছুটা সুস্থ হওয়ায় সংবাদ সম্মেলন করতে এসেছি।
সংবাদ সম্মেলন করার মূল উদ্দেশ্য- আমি চাই পুরো ঘটনা সিআইডি কর্তৃক সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ন্যায্য বিচার এবং সাংবাদিক ভাইয়েরা সরেজমিনে তদন্ত করে ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করে সংবাদ প্রকাশ করার অনুরোধ জানাচ্ছি। কেননা থানা পুলিশের ব্যর্থতা ও প্রশ্নবিদ্ধ কার্যক্রম এখনও আড়ালেই রয়ে গেছে। থানা পুলিশ আগেও আসামিদের পক্ষ হয়ে কাজ করেছে এখনও কূট কৌশলে আসামিদের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত লিটু হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেফতার করছেন অন্য দপ্তরের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। যেখানে বিমান বন্দর থানা পুলিশের সরাসরি কোন ভূমিকা নেই।
হত্যা মামলা দায়ের হবার প্রায় এক সপ্তাহ পর্যন্ত সকল আসামিরা এলাকার নিজ বসতঘরে থাকলেও থানা পুলিশ তখন তাদের ধরেনি। ৬ আগস্ট মামলার ৫ নং আসামি মো. রিয়াজ মাহমুদ খান মিল্টন (৪০) গ্রেফতার হবার পরই এলাকা ছেড়ে অন্যত্র পালাতে শুরু করে আসামিরা। এই মিল্টন আমার ভাইয়ের ডান হাত কেটে ফেলার পর পরবর্তীতে অন্যান্য আসামিরা লিটুকে পিটিয়ে কুপিয়ে জখম করে। আর আমার স্বামী ও দেবরের পক্ষ হয়ে মিল্টন তার লোকজন নিয়ে প্রকাশ্যে এ হত্যার পাশাপাশি ভাঙচুরসহ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে। এ হত্যার ঘটনায় বরিশাল মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়কের পদ থেকে মো. রিয়াজ খান মিল্টনকে বহিষ্কার করা হয়।
হামলাকারীরা লিটুকে পিটিয়ে কুপিয়ে মেরে ফেলে এবং আমি সহ আমার পরিবারের সদস্যদের উপর হামলা চালিয়ে আহত করে হামলাকারীরা। এ ঘটনার আগে আমি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে দেখে ৯৯৯ এ কল দেই এবং বিমানবন্দর থানার সাবেক ওসি মো. জাকির হোসেন কে বার বার ঘটনাস্থলের পরিস্থিতির বিষয়ে মোবাইল ফোনে প্রায় ১০/১২ বার অবগত করেছি। প্রতিবারই সাবেক ওসি জাকির শুধু বলেছিলেন- আসতেছি আসতেছি।
অপরদিকে এ হত্যার সময় হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আসামি ধরা ছাড়া নিয়ে বাণিজ্য শুরু করে বিমানবন্দর থানার সাবেক ওসি মো. জাকির হোসেন ও দায়েরকৃত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. রিয়াজুল ইসলাম। বিষয়টি সম্পর্কে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারকে মৌখিকভাবে অবগত করেছে এক ভুক্তভোগী। যা আমি স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ পড়ে এমন তথ্য পেয়েছি।
আমার জানা মতে, লিটু হত্যার ঘটনায় এ পর্যন্ত র্যাব ও ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে জাকির গাজী, মিলন গাজী, মিল্টন, জলিল, কামাল, রাজু, রাতুল, সুমন, মিরাজ, সোহাগ ও ইয়াসমিন সহ প্রায় এক ডজন মামলার আসামি। এরমধ্যে কয়েক আসামি জামিনে বেড়িয়েছে। আবার কিছুসংখ্যক আসামি হাইকোর্ট থেকে অগ্রিম জামিন নিয়েছে।
