বরিশালে দুই স্ত্রী হত্যায় স্বামীর দ্বিতীয়বার ফাঁসির আদেশ বরিশালে দুই স্ত্রী হত্যায় স্বামীর দ্বিতীয়বার ফাঁসির আদেশ - ajkerparibartan.com
বরিশালে দুই স্ত্রী হত্যায় স্বামীর দ্বিতীয়বার ফাঁসির আদেশ

3:53 pm , October 5, 2025

মো: জিয়াউদ্দিন বাবু ॥ বরিশালে যৌতুকের দাবীতে স্ত্রী হত্যা করে লাশ গুমের দায়ে দ্বিতীয়বারের মতো ফাঁসির দন্ডে দন্ডিত হয়েছে স্বামী। রোববার বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহা. রকিবুল ইসলাম ওই দন্ড দেন। দন্ডিত সোহরাব হোসেন আকন (৪৫) মুলাদী উপজেলার তয়কা গ্রামের লাল মিয়া আকনের ছেলে। রায় ঘোষনার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলো সোহরাব।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী আজিবর রহমান জানান, এর আগে দ্বিতীয় স্ত্রী অন্ত:স্বত্তা মিলি বেগমকে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেয়ার মামলায় তাকে বরিশালের একটি আদালত ফাঁসির রায় দিয়েছিলো। রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চাদালতে আপীল করে। উচ্চাদালত ফাঁসির রায়ের পরিবর্তে যাবজ্জীবন দন্ড দেয়।
যৌতুকের দাবিতে তৃতীয় স্ত্রী লিমা বেগমকে হত্যা করে লাশ গুম করার দায়ে বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক তাকে ফাঁসি ও এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। এছাড়াও লাশ গুম করায় আরো ৭ বছরের কারাদন্ড দেয়া হয়েছে।
মামলার বরাতে ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি মোখলেছুর রহমান বাচ্চু বলেন, মুলাদী উপজেলার তেরচর গ্রামের বাসিন্দা হোসেন পাটোয়ারীর কন্যা লিমা বেগমের সাথে ফেরদৌস নামে একজনের বিয়ে হয়। স্বামীকে নিয়ে লিমা পিত্রালয়ে থাকতো। ওই বাড়ীতে সোহরাব হোসেন আসা-যাওয়া করতো। সে ফেরদৌসকে হত্যার হুমকি দিয়ে লিমাকে তালাক দিতে বাধ্য করে। পরে তাকে সোহরাব হোসেন বিয়ে করে। বিয়ে করার পর দুই লাখ টাকা যৌতুকের দাবীতে লিমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে। ২০১৩ সালের ১ ডিসেম্বর সোহরাব পিত্রালয়ে এসে যৌতুকের টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকার করলে লিমাকে গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। তখন পাশের কক্ষে থাকা ছোট ভাই গিয়ে দেখতে পায় বোন অচেতন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তখন তাকে ডাক্তারের কাছে নেয়ার কথা বলে নিয়ে বের হয়। এরপর থেকে আর বোনকে খুঁজে পায়নি। এ ঘটনায় ২০১৪ সালের ১৪ জানুয়ারী সোহরাব ও তার মাকে আসামীকে করে মুলাদী থানায় হত্যা এবং লাশ গুমের অভিযোগে বোন ডলি বেগম মামলা করে। মুলাদী থানার এসআই জুবায়ের ২০১৪ সালের ১০ মে একমাত্র সোহরাব হোসেন আকনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট জমা দেয়। বিচারক ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নিয়ে রায় দিয়েছেন।
পিপি বাচ্চু আরো জানান, এর আগে ২০০৯ সালে যৌতুকের দাবীতে তার দ্বিতীয় স্ত্রী অন্ত:স্বত্তা মিলি বেগমকে লঞ্চ থেকে মেঘনা নদীতে ফেলে দিয়ে হত্যা করে। ওই মামলায় তাকে ফাঁসির দন্ড দেয়া হয়েছিলো।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT