বরিশালে পর্যটন মোটেল ও ট্যুরিজম ট্রেনিং সেন্টার প্রকল্পটি ৭বছর ফাইলবন্দী বরিশালে পর্যটন মোটেল ও ট্যুরিজম ট্রেনিং সেন্টার প্রকল্পটি ৭বছর ফাইলবন্দী - ajkerparibartan.com
বরিশালে পর্যটন মোটেল ও ট্যুরিজম ট্রেনিং সেন্টার প্রকল্পটি ৭বছর ফাইলবন্দী

4:06 pm , September 26, 2025

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ ‘টেকসই উন্নয়নে পর্যটন’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ শনিবার বরিশালে বিশ^ পর্যটন দিবস পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে সকালে বরিশালে জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
তবে পর্যটনের অপর সম্ভাবনার বরিশালে এর বাইরে আর কোন আয়োজন থাকছে না। বরিশালে পর্যটন করপোরেশনের একটি মোটেল সহ ট্যুরিজম ট্রেনিং সেন্টার স্থাপনে ‘উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা-ডিপিপি’ গত ৭ বছর ধরে ঝুলে আছে। বর্তমান সরকারের ১৩ মাসে একাধিক উপদেষ্টার নজরে বিষয়টি আনা হলেও কেউ কথা রাখেননি।
স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরেও বরিশালই একমাত্র বিভাগীয় সদর, যেখানে জাতীয় পর্যটন সংস্থার কোন স্থাপনা বা আবাসন সুবিধা গড়ে ওঠেনি। বরিশাল সহ এ অঞ্চলের পর্যটন ব্যবস্থা উন্নয়নে আজ পর্যন্ত তেমন কোন সমন্বিত কর্মসূচী গ্রহন ও বাস্তবানেরও উদ্যোগ পর্যন্ত নেই। শুধুমাত্র ১৯৯৩-৯৪ সালে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যায়ে কুয়াকাটায় পর্যটন করপোরেশনের একটি ‘হলিডে হোমস’র নির্মান কাজ শুরু হয়ে ’৯৬ সালে শেষ হয়। পরবর্তিতে কুয়াকাটায় পর্যটক আবাসন সুবিধা সম্প্রসারণ সহ বৌদ্ধ মন্দির সংরক্ষন ও সংস্কারে সরকার আরো ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করে ২০০৪ সালে। সে অর্থে আরো একটি মোটেল নির্মান করে পর্যটন করপোরেশন। তবে ইতোমধ্যে হলিডে হোমস’টির আবাসন সুবিধা  বন্ধ করে তা ভাড়া দেয়া হয়েছে। এরপরে কুয়াকাটায় উন্নয়নের যতটুকু হয়েছে তার সবই বেসরকারী সেক্টরের হাত ধরে। আজ পর্যন্ত ‘কুয়াকাটা উন্নয়ন কতৃপক্ষ’ পর্যন্ত গঠিত হয়নি। এমনকি বঙ্গোপসাগরের অবিরাম ছোবলে ক্ষতবিক্ষত কুয়াকাটা সৈকত রক্ষায় একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা-ডিপিপি গত পাঁচ বছরেরও অধিক সময় ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ড, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা কমিশনে ঘুরপাক খাচ্ছে। কুয়াকাটা সহ এ অঞ্চলের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছতে সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার বরিশাল মহানগরীতে রাষ্ট্রীয় পর্যটন সংস্থার একটি স্থাপনা নির্মান জরুরী বলেই মনে করছে জাতীয় পর্যটন সংস্থাটি। এ নগরী ছুঁয়েই দক্ষিণাঞ্চলের সব জেলা সদর সহ সাগর সৈকত কুয়াকাটায় পৌঁছতে হয়। এ অঞ্চলের একমাত্র বিমানবন্দর সহ দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নদীবন্দরও এ বরিশালেই।
কিন্তু বরিশাল বিভাগ প্রতিষ্ঠার ৩৩ বছর পরেও এ মহানগরীতে একটি মোটেল সহ ট্যুরিজম ট্রেনিং সেন্টার স্থাপনে পর্যটন করপোরেশনের প্রকল্প-প্রস্তাবনাটি ঝুলে আছে গত প্রায় ৭ বছর ধরে। ২০১৯ সালে প্রণীত মাত্র দেড়শ কোটি টাকার ঐ প্রকল্পটি মন্ত্রণালয় থেকে পরিকল্পনা কমিশনে পেশ করার পরে অনাপত্তি গ্রহণের শর্তে তা অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়। সে থেকে প্রকল্পটি আর আলোর মুখ দেখেনি। অথচ প্রস্তাবিত  মোটেল ও ট্রেনিং সেন্টার স্থাপনের লক্ষ্যে বরিশাল মহানগরীর বান্দরোডে বিআইডব্লিউটিএ’র অধুনালুপ্ত মেরিন ওয়ার্কশপের অভ্যন্তরে এক একর জমি ৩০ বছরের জন্য লীজ গ্রহণ করে পর্যটন করপোরেশন। এমনকি ওই জমি বাবদ গত ৭ বছরে পর্যটন করপোরেশন বিআইডব্লিউটিএ’কে প্রায় অর্ধকোটি টাকা পরিশোধও করেছে। ইতোমধ্যে ইজারাচুক্তির ৩০ বছরের ৭ বছর কেটে গেলেও প্রকল্পই অনুমোদন হয়নি। বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যটন মন্ত্রণালয়ও খুব একটা তৎপর নয়। বিপিসির তরফ থেকে ‘বরিশাল পর্যটন মোটেল ও ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন প্রকল্প’ নামের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা-ডিপিপিতে একাধীক লিফট সম্বলিত ৮তলা মোটেল ভবনটিতে ৮০টি কক্ষ থাকার কথা। যারমধ্যে দুটি এক্সিকিউটিভ স্যুট, ৩৮টি দ্বৈত শয্যার কক্ষ ও ৪০টি তিন শয্যার কক্ষ থাকবে। এছাড়াও অত্যাধুনিক মানসম্মত রেষ্ট্রুরেন্ট, পুল ক্যাফে, সুইমিং পুল, জিম ও স্পা সুবিধা থাকার কথা মোটেলটিতে। ভবিষ্যতে এখানে রিভারক্রুজ-এর ব্যবস্থা সম্বলিত আরো একটি প্রকল্প বাস্তবায়নেরও কথা ছিল। ফলে এখন থেকে পর্যটকরা মোটেলটির পার্শ্ববর্তি কীর্তনখোলা নদীতে নৌ-বিহারও করতে পারতেন। বরিশালে প্রস্তাবিত পর্যটন মোটেলে সংযুক্ত ট্রেনিং সেন্টারটিতে প্রতি ব্যাচে ৪০ জন করে হোটেল ম্যানেজমেন্ট ও ট্যুরিজম-এর ওপর প্রশিক্ষন গ্রহণ করার সুযোগ তৈরী হবার কথা। সাড়ে ৩ মাসের এ প্রশিক্ষন শেষে আন্তর্জাতিক মানের সার্টিফিকেট প্রদানের কথা ছিল। প্রস্তাবিত বরিশাল মোটেল ও ট্রেনিং সেন্টারটির কাজ ২০২০ সালের জানুয়ারী থেকে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল ডিপিপি’তে। তবে সব সরকারের সময়ই বরিশালের প্রতি চিরাচরিত অবহেলা ও উদাসীনতার অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের শেষে এসেও মূল প্রকল্পটি বাস্তবায়ন দূরের কথা অনুমোদনের বিষয়টিও যে তিমিরে ছিল সেখানেই আছে। অপরদিকে বরিশাল মহানগরী থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরে মাধবপাশার ঐতিহাসিক দুর্গাসাগর দীঘির পাড়ে প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি অত্যাধুনিক বিশ্রামাগার সহ রেষ্ট্রুরেন্ট ও পিকনিক স্পট গড়ে তোলা হয়েছে সম্প্রতি। ইতোমধ্যেই নির্মানকাজ শেষ করে তা বরিশালের জেলা প্রশাসন ও পর্যটন করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে তা কবে নাগাদ বানিজ্যিক পরিচালনে যাবে সেটি এখনো অজ্ঞাত। দুর্গাসাগর দীঘির পূর্বপাড়ে ৩ তলা ভীতের ওপর একটি দোতালা বিশ্রামাগার ভবন নির্মান করা হয়েছে। নিচতলায় রেষ্ট্রুরেন্ট ও সুভেনির সপ এবং দোতালায় মূল বিশ্রামাগারে ৮টি কক্ষ রয়েছে। এছাড়া পূর্বপাড়ে একটি ঘাটলা ও দক্ষিণ পাড়ে কয়েকটি পিকনিক শেড নির্মান করা হয়েছে। তবে প্রকল্পটির আওতায় দীঘিটির পাড়ে একটি ওয়াচ টাওয়ার নির্মানের প্রস্থাবনা বাদ দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT