কাউখালীতে জমে উঠেছে আমন ধানের বীজতলার ভাসমান হাট কাউখালীতে জমে উঠেছে আমন ধানের বীজতলার ভাসমান হাট - ajkerparibartan.com
কাউখালীতে জমে উঠেছে আমন ধানের বীজতলার ভাসমান হাট

3:55 pm , September 5, 2025

রিয়াদ মাহমুদ সিকদার, কাউখালী প্রতিবেদক ॥ আমন ধান আবাদের ধুম পড়েছে এখন উপকূলজুড়ে। কৃষক এখন কৃষি জমিতে আমন আবাদ নিয়ে মহাব্যস্ত। তবে এবার মৌসুমের শুরুতে বৈরী আবহাওয়ার কারণে বীজতলার আমন চারা বিপন্ন হয়ে পড়ে।অনেক কৃষকের আমন ধানের বীজতলা সংগ্রহ করতে হয় বিভিন্ন স্থান থেকে।
পিরোজপুরের কাউখালীতে এ অঞ্চলের সর্ববৃহৎ আমন ধানের বীজতলা বিক্রয়ের ভাসমান হাট থেকে কৃষক আমন ধানের বীজ সংগ্রহ করে সংকট মোকাবিলা করছে। আর কাউখালীতে যুগ যুগ ধরে গড়ে ওঠা ভাসমান ধানের বীজতলার বাজার এখন জমজমাট। সন্ধ্যা নদী তীরবর্তী কাউখালী শহরের দক্ষিণ বন্দর এলাকার চিরাপাড়া সেতুর কাছে নদীর পাড়ে শুক্র ও সোমবার সপ্তাহে দুইদিন বসে আমন ধানের বীজতলার হাট।
শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, সূর্য ওঠার আগেই ভোরে বসেছে চারা বেচাকেনার হাট। উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে কৃষকরা বিক্রির জন্য শত শত নৌকায় করে নিয়ে আসছেন ধানের বীজতলা।
কৃষকরা মাঠের পরিচর্যা করে চারা লাগাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। মৌসুমের শুরুতে টানা বৃষ্টি, বৈরী আবহাওয়া ও বীজতলায় জলাবদ্ধতার কারণে অধিকাংশ কৃষক সময়মতো চারা উৎপাদন করতে পারেননি।
উপকূলজুড়ে আমন চারা মোকাবিলায় বিপন্ন কৃষক ছুটে আসে ভাসমান চারার হাটে। এ হাটে কয়েক লাখ টাকার আমন চারা বেচাকেনা হয়।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, কাউখালী অঞ্চলের কৃষি জমি আশপাশের জনপদের চেয়ে উঁচু বলে এখানে জলাবদ্ধতা তেমন নেই। কৃষকরা আমন চারার সংকট কাটাতে কাউখালীর এ ভাসমান বীজের হাটে আসে। পিরোজপুর, বাগেরহাট, বরগুনা, ঝালকাঠিসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষক এবং ব্যবসায়ীরা এ হাটে বীজ কিনতে আসেন। এখানে পরিবহন সুবিধাও ভাল।
এই হাটে আমন ধানের চারা পোন (৮০ মুঠো) হিসেবে বিক্রি হয়। প্রতি পোন চারার মূল্য ১হাজার’ থেকে ১৮শ’ টাকা। এবছর চারা উৎপাদন বেশি হওয়ায় দাম অনেকটা কম বলে কৃষকরা জানান।
জেলার নাজিরপুর উপজেলার শ্রীলংকাঠি এলাকা থেকে চারা কিনতে আসা কৃষক আব্দুস সোবাহান বলেন, আমন চাষের জন্য বীজতলা তৈরির বীজ-ধান সংগ্রহ করা, তা দিয়ে বীজতলা তৈরি করে চারা উৎপাদনে বেশ সময় লাগে। তাই কৃষকরা এই হাটে এসে প্রয়োজনীয় চারা কিনে নিয়ে জমিতে রোপন করেন। এতে জমির মালিকদের অর্থ ও সময় দুটোই সাশ্রয় হয়।
রাজাপুর উপজেলার কৃষক মৃণাল কান্তি রায় বলেন, এখন ধানের জমি চাষ করতে শ্রমিক পাওয়া যায় না। আর পাওয়া গেলেও তাদের দৈনিক মজুরি ছয় থেকে সাতশ টাকা দিতে হয়। এত টাকা খরচ করে বীজতলা তৈরির চেয়ে চারা কিনে চাষাবাদ করলে খরচ অনেক কম হয়।
কাউখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোমা রাণী দাস বলেন, এই এলাকার জমি একটু উঁচু ও নদীবেষ্টিত হওয়ায় পানি জমতে পারে না। তাই কম সময় একই জমি থেকে সর্বোচ্চ লাভের এটি একটি আধুনিক প্রযুক্তি। তাই এখানকার কৃষকরা জমিতে কয়েকবার আমন ধানের চারার বীজতলা তৈরি করতে পারেন। ইতোমধ্যে কাউখালী উপজেলার কৃষকরা প্রায় ২৫ লক্ষ টাকার আমন ধানের চারা বিক্রি করেছেন।  কাউখালীতে কৃষির একটি সম্ভাবনাময় দিক হলো ভাসমান বাজারে বীজতলা বিক্রি। এখানকার বীজ ভালো হওয়ায় কৃষকদের কাউখালীর আমন ধানের বীজতলার প্রতি আগ্রহ বেশি।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT