বিসিসির প্রশাসকের কাছে খোলা চিঠি বিসিসির প্রশাসকের কাছে খোলা চিঠি - ajkerparibartan.com
বিসিসির প্রশাসকের কাছে খোলা চিঠি

4:16 pm , August 24, 2025

আমরা মহানগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের রাজকুমার ঘোষ রোডের পাশের দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী। আমরা আপনার সন্তানের কি দুর্ভোগ নিয়ে প্রতিদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করছি তার বিবরন তুলে ধরতেই আপনার মূল্যবান সময় নষ্ট করছি। মাত্র ৩শ মিটার দৈর্ঘ্যরে এ সড়কটির পাশেই বরিশাল বয়েজ এন্ড গার্লস স্কুলের দুটি শাখা ছাড়াও সরকারি এমপিওভুক্ত ছাবেরা খাতুন বালিকা বিদ্যালয় অবস্থিত। এ দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহ¯্রাধিক ছাত্র-ছাত্রী সহ আমাদের অভিভাবকরা প্রতিদিন কি নিদারুন দুর্ভোগ সহ্য করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যাতায়াত করছি, তা আপনাকে স্ব-চক্ষে প্রত্যক্ষ করার বিনীত অনুরোধ করছি। আমরা রস্তার মেরামত চাইনা। আমরা চাই আপনি স্ব-চক্ষে আমাদের দুর্ভোগ একবার প্রত্যক্ষ করুন।
এক পসলা বৃষ্টি হলে খানাখন্দে ভরা রাস্তাটিতে কিভাবে পানি জমে যাচ্ছে। রাস্তাটির পাশের লেকটির পানি বের করার জন্য ড্রেন থাকলেও ইজারাদার তার মুখ বন্ধ করে দেয়ায় ভারী বৃষ্টি হলেই লেকের পানিতে রাস্তাটি সয়লাব হয়ে যাচ্ছে। তার ওপরে বরিশাল বয়েজ এন্ড গার্লস স্কুলের সামনে অগনিত খুপড়ি দোকান করে রাস্তাটির আরো সর্বনাশ করা হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এখানে পানি জমে যাচ্ছে।
অপরদিকে রাজকুমার ঘোষ রোডের উত্তর প্রান্তের সাথে সিএন্ডবি রোডের সংযোগস্থলটি সাবেক মেয়র তার মায়ের নামে পার্ক বানাতে গিয়ে বন্ধ করে দিয়ে গেছেন। একবছর আগে ফ্যাসিস্ট বিদায় হলেও এখনো তাদের অপকর্মের সাক্ষি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বিধ্বস্ত পার্কটি। আর দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩টি ক্যাম্পাসের সহ¯্রাধিক কোমলমতি শিশু ছাড়াও এলাকার কয়েক হাজার  মানুষের পথ চলার বাধাও অপসারিত হয়নি। আমরা জানতাম নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাই সিটি করপোরেশন এর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। কিন্তু বরিশাল সিটি করপোরেশনের বিগত নগর পরিষদ বিদ্যমান নাগরিক সুবিধা কেড়ে  নিয়েছিল। তবে একই সাথে আমাদের কাছে আরো আশ্চর্যের বিষয় স্বৈরাচার বিদায়ের ৮ মাস পরেও সেই অনাচারের কোন প্রতিকার হয়নি।
আমরা শুনেছি, আপানার বলিষ্ঠ পদক্ষেপে এ নগরীর দীর্ঘদিনের অনেক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছদ হয়েছে। অতি সম্প্রতি নবগ্রাম রোড-চৌমহনী লেকের পূর্ব পাড়ের অবৈধ স্থাপনাও উচ্ছেদ হয়েছে। সেজন্য আমরা অবশ্যই কৃতজ্ঞ ও আপনাকে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু আশ্চর্জজনকভাবে লেকটির দক্ষিণ পাড় ও পশ্চিম পাড়ের অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ হলো না কেন ? অভিযোগ উঠেছে, নগরভবনের কতিপয় দুষ্টচক্রের সাথে অবৈধ বন্দোবস্তে এসব দোকানপাট টিকে আছে। এমনকি লেকটির পশ্চিম পাড়ে সিটি করপোশেনের টাকায় একটি বড় ঘাটলা নির্মান করা হয়েছিল। স্থানীয় মারকাজ মসজিদের মুসুল্লী সহ এলাকাবাসীর ওজু গোসলের জন্য জনগনের টাকায় নির্মিত সে ঘাটলাটিও ইতোমধ্যে বেদখল হয়ে গেছে। যে নগরবাসীর টাকায় ঐ ঘাটলা নির্মিত হয়েছিল,তারা সেখানে অবাঞ্চিত।
আর বরিশাল সিটি করপোরেশন নগরবাসীর টাকায় জনগনের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে ইতিহাসের এক বিরল নজির সৃষ্টি করে আছে।
অধুনালুপ্ত বরিশাল পৌরসভা বৃটিশ যুগ থেকে রাজকুমার ঘোষ রোডটির মালিকানা নিয়ে আছে। কিন্তু বর্তমান সিটি করপোরেশন এ সড়কটি গ্রহনের পরে একবারই মাত্র সংস্কার করেছিল। কিন্তু গত প্রায় এক যুগেরও বেশী আগে সংস্কার হওয়া এ সড়কটির ওপর শুধু অত্যাচার, অনাচার আর দখলবাজীই হয়েছে। যা নগরবাসী সহ এলাকাবাসীর দুর্ভোগকেই বৃদ্ধি করে চলছে।
আমরা আপনার সন্তানেরা আবারো অনুরোধ করছি, সড়কটির সংষ্কার চাইনা, শুধু একবার স্ব-চক্ষে প্রত্যক্ষ করার অনুরোধ করছি।
শোকরিয়া ও ধণ্যবাদ সহ
রাজকুমার ঘোষ রোড সংলগ্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহে অধ্যায়নরত নগর পিতার সন্তানেরা।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT