4:45 pm , August 19, 2025
সাইফুল ইসলাম, বাবুগঞ্জ প্রতিবেদক ॥ বাবুগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক পর্যটন কেন্দ্র দুর্গাসাগর দীঘি এখন নানা বিশৃঙ্খলা, নিরাপত্তাহীনতা এবং অনিয়মের কারণে তার গৌরব হারাতে বসেছে। দর্শনার্থীদের জন্য খোলা এই মনোরম স্থানটি বর্তমানে কিছু অসচেতন স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী এবং যুবকদের বেহায়াপনা ও অশোভন আচরণের কারণে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে আনন্দ উপভোগের উদ্দেশ্যে আসা কিছু অসচেতন যুবক-যুবতী এখানে এসে খোলা জায়গায় অশ্লীল আচরণ, ছবি তোলা ও সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করার মতো কার্যকলাপে লিপ্ত হচ্ছে, যা সামাজিক ও পারিবারিক পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
এছাড়া, সম্প্রতি খাঁচাবন্দি হরিণ চুরি হওয়ার ঘটনা দুর্গাসাগরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের অবহেলা ও উদাসীনতা স্পষ্ট করেছে। হরিণ চুরি নিয়ে করা তদন্তেও উঠে এসেছে-খাঁচার আশপাশে সিসি ক্যামেরা নষ্ট ছিল এবং রাতের প্রহরীরা দায়িত্বে থেকেও বিষয়টি নজরে আনতে ব্যর্থ হন।
অনেকেই মনে করছেন, এই ধরনের অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও নজরদারির অভাব এবং কিছু দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির অসাধু আচরণ ও প্রত্যক্ষ সহযোগিতা এই অনিয়মের পেছনে ভূমিকা রাখছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল দাবি তুলেছে -দুর্গাসাগরের সার্বিক নিরাপত্তা বাড়ানো, সিসি ক্যামেরাগুলো সচল রাখা, দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা, অশ্লীলতার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পর্যটন কেন্দ্রের পরিবেশ রক্ষায় কড়া নজরদারি ও নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা।
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ বলেন, হরিণ চুরির বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং ভিতরে কোন অশ্লীল কর্মকা- পরিলক্ষিত হলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমরা দুর্গা সাগরের ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি।
এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন বলেন, হরিণ নিখোঁজের বিষয়ে তদন্ত চলছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে এর সাথে যারাই জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং দুর্গা সাগরের ভিতরে অশ্লীলতা ও বেহায়াপনার মত কোনো কোনো ঘটনা ঘটলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর সাথে যদি দুর্গাসাগরের দায়িত্বে থাকা কোন কর্মকর্তা, কর্মচারী জড়িত বা গাফলতির বিষয় আসে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
