4:13 pm , August 16, 2025
মুলাদী প্রতিবেদক ॥ মুলাদীতে যুবলীগ নেতার অবৈধ দখলে থাকা খাস জমি উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় উপজেলার সফিপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক রেজাউল করিমের নেতৃত্বে সফিপুর ইউনিয়নের পূর্বচরপদ্মা গ্রামের ছনের স্কুলের হাট এলাকার ৬০ শতাংশ খাস জমি উদ্ধার করা। ওই জমি প্রায় ৫ বছর ধরে সফিপুর ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক বেল্লাল হোসেন চাকলাদারের অবৈধ দখলে ছিলো বলে জানান ইউনিয়ন প্রশাসক রেজাউল করিম। বেল্লাল হোসেন চাকলাদার সফিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য। যুবলীগের প্রভাব খাটিয়ে তিনি ২০২০ সালে পূর্বচরপদ্মা ছনের স্কুল এলাকায় ৬০ শতাংশ জমি অবৈধভাবে ইজারা নিয়েছিলেন।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও সফিপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক রেজাউল করিম জানান, পূর্বচরপদ্মা গ্রামের ছনের স্কুলের হাট এলাকায় ৬০ শতাংশ খাস জমি ছিলো। ওই এলাকায় মাদ্রাসা, স্কুল ও বাজার থাকার কারণে জমির মূল্য বেড়ে যায়। পরে ২০২০ সালে ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক বেল্লাল হোসেন চাকলাদার তৎকালীন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবু মুছা হিমু মুন্সীকে ভুল বুঝিয়ে অবৈধভাবে ওই জমি ইজারা নেন। কিন্তু সরকারি জমি ইজারা দেওয়ার এখতিয়ার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নেই। যুবলীগ নেতা ওই জমি ইজারা নিয়ে সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করায় জনসাধারণের চলাচলে অসুবিধা দেখা দেয়। এছাড়া বাজার ছোট হয়ে যায়। এঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা
গত বৃহস্পতিবার ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হয়ে খাস জমি উদ্ধারের জন্য লিখিত আবেদন জানান। স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে শনিবার বেলা ১১টার দিকে প্রশাসন ও জনতা যৌথভাবে ওই জমি উদ্ধার করেন এবং যুবলীগ নেতার স্থাপনা ভেঙে দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, মুলাদী থানার উপপরিদর্শক সফিকুল ইসলাম, সফিপুর ইউনিয়ন এর প্যানেল চেয়ারম্যান আলী হোসেন সোহাগ, ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক নিপু চৌধুরী, যুগ্ম আহ্বায়ক কলিমুল্লাহ, ইউনিয়ন দফাদার (গ্রাম পুলিশ প্রধান) সাইদুর রহমান প্রমুখ।
সফিপুর ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক বেল্লাল হোসেন চাকলাদার বলেন, ‘যথাযথ নিয়ম মেনে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে জমি ইজারা নেওয়া হয়েছিলো। কাগজপত্র মোতাবেক জমি পাওয়া গেলে ভোগদখল করবো না হলে সরকারের কাছে ছেড়ে দেব। ইউনিয়ন প্রশাসক ও স্থানীয়রা কেন স্থাপনা ভেঙে দিলেন তা বুঝতে পারছি না।’
সহকারী কমিশনার পরাগ সাহা বলেন, সরকারি জমি ইজারা দেওয়ার এখতিয়ার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নেই। যুবলীগ নেতা অবৈধভাবে খাস জমি ইজারা নিয়েছিলেন। প্রশাসক ও স্থানীয়রা জমি উদ্ধার করেছেন বলে জানিয়েছেন। ওই জমি রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন বলেন, সহকারী কমিশনার ও ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে উদ্ধারকৃত জমি রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
