3:58 pm , July 25, 2025
বিশেষ প্রতিবেদক ॥ দক্ষিণ উপকূল সংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ উত্তর-পশ্চিমে অগ্রসর হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপ থেকে নি¤œচাপে পরিনত হয়ে শুক্রবার দুপুর ৩টার পরে ভারত-বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করেছে। এর প্রভাবে বরিশাল সহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছে। শুক্রবার সকাল ৯টার পরবর্তি ৪৮ ঘন্টা বরিশাল সহ সমগ্র উপকূলীয় এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষনের সতর্কতা জারী রেখেছে আবহাওয়া বিভাগ।
আবহাওয়া বিভাগের পর্যবেক্ষনে নি¤œচাপটি সকাল ৬টায় বরিশালের পায়রা বন্দরের ১১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করলেও তা দুপুর ৩টা থেকে সন্ধ্যার মধ্যে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করেছে। নি¤œচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ দমকা আকারে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সাগর মাঝারী মাত্রায় উত্তাল ছিল। বরিশাল সহ দক্ষিণ উপকূলের সব নদী বন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেতের পাশাপাশি পায়রা বন্দরকে ৩ নম্বর স্থাণীয় সতর্ক সংকেতের আওতায় রাখা হয়েছে। দিনভরই বন্দর এলাকায় ২০-২৫ কিলোমিটার বেগে দমকা ঝড়ো হাওয়া বয়ে গেলেও কার্যক্রম প্রায় স্বাভাবিক রয়েছে।
বঙ্গোপসাগর থেকে ১শ কিলোমিটার উজানে বরিশাল মহানগরীতেও শুক্রবার সকাল থেকে থেমে থেমে ১৫-২০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া সহ হালকা থেকে মাঝারী বর্ষণ অব্যাহত ছিল। সকাল ৬টার পূর্ববর্তি ২৪ ঘন্টায় বরিশালে প্রায় ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের পরে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আরো প্রায় ১৫ মিলি বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া বিভাগ থেকে আগামী ৫ দিন সহ পরবর্তি আরো কয়েক দিন বৃষ্টিপাতের প্রবনতা অব্যাহত থাকার কথাও বলা হয়েছে।
বরিশাল সহ উপকূলের ২৪ পয়েন্টে নদ-নদীর পানি বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। কয়েকটি স্থানে তা বিপদসীমা অতিক্রম করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাইড্রোলজি বিভাগ সার্বক্ষনিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করছে। তবে আবহাওয়া বিভাগের বিশেষ বুলেটিনে বরিশাল সহ সমগ্র উপকূলীয় এলাকায় স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ১-৩ ফুট পর্যন্ত বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হবার পূর্বাভাসও দেয়া হয়েছে। ফলে বরিশালে প্রায় ৪৮ হাজার হেক্টর জমিতে আমন বীজতলা নিয়ে কৃষকদের কপালে আবার চিন্তার ভাজ গভীর হচ্ছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরারত সব নৌকা ও ট্রলারসমুহকে পরিবর্তি নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় রেড ক্রিসেন্টের ‘ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচী-সিপিপি’র প্রায় ৭৭ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে যেকোন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
শুক্রবার দুপুর থেকে সন্ধ্যার মধ্যে নি¤œচাপটি উপকূল অতিক্রম করে ক্রমাগত দুর্বল হতে শুরু করলেও শনিবার সকাল থেকে আবহাওয়া পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি আশা করছেন পর্যবেক্ষকরা। তবে অমাবশ্যায় ভর করে এ নি¤œচাপের প্রভাবে আরো কয়েকদিন শ্রাবনের ধারা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে ।
গতবছর মূল বর্ষা মৌসুমে স্বাভাবিকের অনেক কম বৃষ্টিপাতের পরে ২২ থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর হয়ে ভারতের ভুবেনশ^র ও কোলকাতার মধ্যবর্তি এলাকা অতিক্রমকালে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে ব্যাপক বৃষ্টি ঝড়ায়। কিন্তু নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত লাগাতার বৃষ্টিপাতের ঘাটতির পরে মে মাসে বরিশালে স্বাভাবিক ২৩৯ মিলিমিটারের স্থলে ২৯৮ মিলিমিটর বৃষ্টি হয়েছিল। জুন মাসেও বরিশালে স্বাভাবিক ৪৬৫ মিলিমিটারের স্থলে ৫২৩ মিলি বৃষ্টি হয়েছে। যা স্বাভাবিকের ১২.৩% বেশী হলেও গতমাসে সারাদেশে সামগ্রিক বৃষ্টিপাতের পরিমান ছিল স্বাভাবিকের ১৯.৩% কম। অপরদিকে চলতি মাসেও আবহাওয়া বিভাগ বরিশালে স্বাভাবিক ৪৩৫ মিলিমিটারের স্থলে ৪৯০ থেকে ৫৭০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়ে রাখলেও মাসের প্রথম ২৫ দিনেই স্বাভাবিকের অনেক বেশী বৃষ্টি ঝড়েছে।
