সাপের বন্ধু জালাল সাপের বন্ধু জালাল - ajkerparibartan.com
সাপের বন্ধু জালাল

4:12 pm , July 18, 2025

 

সাপ ধরে গ্রামের জঙ্গলে ছেড়ে দেয়াই তার কাজ। ১৫ বছর বয়স থেকে তিনি এ কাজটি করেন।

বানারীপাড়া প্রতিবেদক ॥ ‘‘আমি সাপকে ভালোবাসি, পছন্দ করি। সাপকে কেউ মারলে আমার কষ্ট হয়। কোথাও সাপ আছে জানলে বা আটকা পড়লে আমি সেখানে দৌঁড়ে যাই। সাপকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসি এবং কয়েকদিন লালনপালন করে নিরাপদ জঙ্গলে অবমুক্ত করে দেই। আমি সাপকে ভয় পাইনা, আমাকে কামড় দিতে পারে না। সাপ নিজে ইচ্ছা করে কাউকে ছোঁবল দেয়না। আমাদের স্বভাব হলো সাপ দেখলেই মেরে ফেলতে হবে অথচ প্রকৃতিতে ও কৃষিকাজে সাপের যে গুরুত্ব আমরা তা জানিনা।’’ গতকাল কথাগুলো বলছিলেন, বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সোনাহার গ্রামের কাসেম সিকদারের ছেলে জালাল সিকদার (৫৭)। তাকে সবাই ‘সাপের বন্ধু’ হিসেবে জানেন। সাপ দেখলে সবাই মেরে ফেলার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ে। অথচ সেই সাপকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন জালাল। সাপ ধরে গ্রামের জঙ্গলে ছেড়ে দেয়াই তার কাজ। ১৫ বছর বয়স থেকে তিনি এ কাজটি করেন।জানা গেছে, ছোটবেলা থেকেই সাপ দেখলে মায়া হতো তার । সাপ মারতে দেখলেই প্রাণে জাগতো হাহাকার। বয়স কম হওয়ায় সব জায়গায় প্রতিবাদ করার সাহস হতো না তখন। এখন সে বড় প্রতিবাদ করতে পারেন। কথা প্রসঙ্গে জালাল বলেন, আমি সাপ বাড়িতে কয়েকদিন পুষে তা গ্রামের জঙ্গলে ছেড়ে দেই, কিন্তু আমি আমার গ্রামে ছাড়তে চাই না। বনবিভাগ যদি সহয়তা করে তা হলে সাপগুলো গভীর বনে ছাড়তে চাই। তাহলে সাপগুলো বেশি ভালো থাকবে, বংশ বৃদ্ধি হবে। সাপ সম্পর্কিত আইন বিষয় জানতে চাইলে তিনি কিছুই জানেনা বলে জানান। তবে বন বিভাগ বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ এর অধীনে সাপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সুরক্ষা, অবৈধ শিকার ও বাণিজ্য রোধ, এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করছে। ৩ সন্তানের জনক জালাল জানান, তিনি এ যাবৎ ৪০০০ টির মতো সাপ ধরে নিরপদে অবমুক্ত করেন। এর মধ্যে নানা প্রজাতির বিষধর সাপ ছিলো। সাপ সংরক্ষণ, অবমুক্ত ও স্বল্প সময় পোষার জন্য তিনি সরকার ও বনবিভাগের কাছে সহযোগিতা কামনা করেন।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT