4:28 pm , July 9, 2025
বিশেষ প্রতিবেদক ॥ ৬৮ বর্গ কিলোমিটার বরিশাল মহানগরীর ১৯৫২ টি রাস্তা যার বেশিরভাগ ই গতকাল ছিলো বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে পরিপূর্ন। গত ৭ জুলাই ভোর ৬টা থেকে শুরু হওয়া অঝোর ধারার বৃষ্টিতে তলিয়েছে এসব রাস্তা। মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে গতকাল বিকেল ৬টা পর্যন্ত ৩৬ ঘন্টায় ২৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে বরিশালে। এরআগে ২৪ ঘন্টায় রেকর্ড করা হয় ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি। একই সাথে জোয়ারের পানি ছিলো টইটুম্বুর। মঙ্গলবার সারারাতই বৃষ্টি হওয়ায় অবস্থা হয়ে যায় বেগতিক। হাতেগোনা দু’চারটে রাস্তা ছাড়া সর্বত্রই ছিলো শুধু পানি আর পানি।
ভোরে ঘুম থেকে উঠেই নগরবাসি তাদের দুয়ারে দেখেছে জমে থাকা পানি। বটতলা, নবগ্রাম, বগুরা রোড, শীতলা খোলা, গোরস্থান রোড, অক্সফোর্ড মিশন রোড, বিএম স্কুল রোড, ফকিরবাড়ি, কালিবাড়ির একাংশ, ভাটিখানা, আমানতগঞ্জের একাংশ, রূপাতলী হাউজিং, রূপাতলী উকিল বাড়ি সড়ক, জিয়া নগর, গোটা পলাশপুর, মোহাম্মদপুর, সদর রোডের একাংশ, কাজিপাড়া, রিফিউজি কলোনীর একাংশ, শ্রীনাথ চ্যাটার্জি লেন, মল্লিক রোড, ঝাউতলাসহ সব অলিগলি ছিলো পানিতে ভরা। লেনগুলো ছিলো রীতিমতো হাটু পানির দখলে। মাঝে মধে কীর্তনখোলায় ভাটির টানের সময় পানি কিছুটা কমলেও পরবর্তি জোয়ারের সময় আবার পানি উঠে আসে। পুরো নগরীরর বাসিন্দাদের পানিবন্দী অবস্থায় অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কিছু এলাকার পানি কমলেও অপরিবর্তিত ছিলো বটতলা, অক্সফোর্ড মিশন, নবগ্রাম রোডের অবস্থা। বিএম স্কুল রোড ও শীতলা খোলার অবস্থাও ছিলো খারাপ।
পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে- ভোলার তজুমুদ্দিন ও খেয়াঘাট এলাকায় নদীর পানি বিপদসীমার উপরে থাকলেও অন্য কোন নদীর পানি বাড়েনি। এদিকে বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় সবচেয়ে বেশি নাজেহাল হয়েছে এইচএসসি ও অনার্স পরীক্ষার্থীরা। রিক্সা, ব্যাটারিচালিত রিক্সা, প্রতিটি থ্রি-হুইলারে ভাড়া দ্বিগুন বাড়িয়ে দেয়া হয়। একদিকে পানিজট অন্যদিকে যানজটে বন্দী ছিলো নগরজীবন। বিসিসির পরিচ্ছন্নতা কর্মিদের পানি সরাতে ব্যার্থ চেষ্টা করতে দেখা গেছে বিভন্ন স্থানে। পানি নিস্কাশন পয়েন্টগুলো জোয়ারের পানিতে ডুবে থাকায় পানি বের হবার পরিবর্তে উল্টো প্রবেশ করেছে। আবহাওয়া অফিস সূত্র বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে। নগরবাসি জানিয়েছে-অসময়ে ড্রেন উন্নয়নের কাজ শুরু করায় এবারে পরিস্থিতি বেশি নাজুক হয়েছে।
