আদৌ কি উদ্ধার হবে চৌমাথা লেক পাড়! আদৌ কি উদ্ধার হবে চৌমাথা লেক পাড়! - ajkerparibartan.com
আদৌ কি উদ্ধার হবে চৌমাথা লেক পাড়!

4:48 pm , July 7, 2025

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীতে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে নিয়মিত চলছে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের অভিযান। কোন ধরনের প্রভাবে না থামা এই অভিযান বেশ প্রসংশিতও হচ্ছে সচেতন মহলে। অভিযানের সূফলে উদ্ধার হচ্ছে ময়লা আবর্জনায় ঢেকে যাওয়া খাল। নগরীর বিভিন্ন আবাসিক ও বানিজ্যিক এলাকার অবৈধ ভাবে তোলা দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে জনস্বার্থে। চলাচলের পথ উদ্ধারে কিছুদিন আগে বেলস পার্কেও চালানো হয়েছে আকস্মিক উচ্ছেদাভিযান। তবে এত অভিযানের মধ্যেও বাদ পড়ে গেছে নগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ন চৌমাথা লেকটি। সিটি কর্পোরেশনের এই সম্পদ এখনও বেদখলে রয়েছে প্রায় দুইশত আস্থায়ী দোকানের আড়ালে। সিটি কর্পোরেশনের সাবেক এক কাউন্সিলরের দেখানো দখলের পদ্ধতি এখনও চলছে আগের মতই। তিনি পালিয়ে গিয়েছেন ঠিকই তবে নতুন দখলদাররা আগের মতই দখলে রেখেছে নগরীর অন্যতম আকর্ষনীয় এই স্থানটিকে। সব মিলিয়ে শতাধিক দোকান সচল রয়েছে, তবে বন্ধ আরও শ-খানেক দোকান বসিয়ে পুরো লেকটিকে বেস্টনি দিয়ে রেখেছে দখলকারীরা। সৌন্দর্য্য বর্ধনের পর নগরীর বাসিন্দাদের জন্য অন্যতম আকর্ষনের স্থানে পরিনত হওয়া লেকটিতে এখন ভদ্র লোকের আনাগোনা কমেছে। একই সাথে বেড়েছে স্থানটিকে ঘিরে নানা ধরনের অপরাধমুলক কর্মকান্ড, জানজট, সড়ক দুর্ঘটনা সহ নানা ভোগান্তি।
সূত্র মতে, সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মরহুম শওকত হোসেন হিরণ নগরীর কাশিপুর থেকে আমতলা মোড় পর্যন্ত প্রায় ৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ৫ কিলোমিটার মহাসড়ক প্রসস্তকরনের কাজ করান তার সময়ে। একই সাথে ৫ কোটি টাকা ব্যায়ে চৌমাথা লেকটির নানা ধরনের উন্নয়ন ও সৌন্দর্য্য বর্ধনমূলক কাজের প্রকল্প শুরু করেন। ২০১৩ সালে আহসান হাবীব কামাল মেয়র থাকা অবস্থায় এই কাজ শেষ হয়। এসময় লেকটির পূর্ব এবং উত্তর-দক্ষিণ পাড় আরসিসি রিটেইনিং ওয়ালসহ ওয়াকওয়ে নির্মাণ, বসার বেঞ্চ স্থাপন, লেকে ফোয়ারা স্থাপনসহ দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জা করা হয়। পূর্ব পাড়ে জাতীয় মহাসড়কের পাশে অনেকটা শূন্যের ওপর সুদৃশ্য গাছও লাগানো হয়েছিল। পশ্চিম পাড়ের রাজকুমার ঘোষ সড়কটি মেকাডমসহ বিটুমিনাস কার্পেটিং ছাড়াও স্থানীয় এলাকাবাসী ও মারকাজ মসজিদের মুসুল্লীদের জন্য ঘাটলা নির্মাণ করে পুরো লেকটির চারপাশে একটি মনোরম পরিবেশ তৈরি করা হয়। প্রথম দিকে নগরী সহ আশপাশের এলাকা থেকে প্রচুর পরিমানে দর্শনার্থীর আগমন শুরু হয় লেকের পারে। আর্থিক লাভের পরিবেশ দেখে লেকের চারপাশে গরিব অসহায় সাজিয়ে পূর্বপাড়ে ওয়াকওয়ে দখল করে স্ট্রিট ফুডের দোকান বসতে শুরু করে ২১ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলরের নির্দেশে। অল্পদিনের মধ্যেই কাউন্সিলরের তত্বাবধানে একটি সিন্ডিকেটের দখলে চলে যায় পুরো লেকটি। এই সিন্ডিকেট লেকের মাছ ধরা-ছাড়া থেকে শুরু করে সব কিছু নিয়ন্ত্রনে নিয়ে মাদক সেবন ও বিক্রয়সহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ড শুরু করে। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে শুরু করে সরকারি জমি দখল করে পুরো এলাকার পরিবেশ বিপন্ন করে তোলে এই চক্র। তবে ক্ষমতার প্রভাবে তাদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এমন করে ধীরে ধীরে সৌন্দর্য্য হারায় লেকপাড়। অন্যদিকে লেকের চারপাশের খাবারের দোকান থেকে এখনও প্রতি রাতে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে লেকটিতে। পয়ঃনিষ্কাশনের জন্য দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে একটি ড্রেন নির্মাণ করা হলেও তার অধিকাংশই ভরাট হয়ে গেছে খাবারের দোকানের ফেলা আবর্জনায়। এমনকি ড্রেনটি নিয়মিত পরিষ্কারও হচ্ছে না। এলাকাবাসীসহ মার্কাজ মসজিদের মুসুল্লীদের অজু-গোসলের জন্য যে ঘাটলা নির্মাণ করা হয়েছে, তার প্রবেশ ও বহির্গমনের পথটি পর্যন্ত রুদ্ধ করেছে এসব পথ খাবারের দোকান।
বর্তমানে এই লেকটিতে ভদ্র লোকের আনাগোনা খুবই কম হয় বলে অভিযোগ করেছে এলাকার বাসিন্দারা। তারা জানায়, এই লেকের পাড় এখন খাবারের দোকানের পাড়ে পরিনত হয়েছে। যা দোকান আছে তার অর্ধেকও খোলা হয়না প্রতিদিন। তবে দখলে রাখার জন্য যার ক্ষমতা আছে সে একটি টং দোকান বসিয়ে স্থান আটকে রেখেছে। পূর্বের এক কাউন্সিলর দোকান বাসানোর এই সিস্টম চালু করেছে। এখন তাদের দখলে নেয়া পাড় নিয়ন্ত্রন করছে নতুন ক্ষমতাধররা। পূর্বেও কেউ কিছু বলেনি, আর এখনও এই দখল উদ্ধারের কারও ক্ষমতা নেই বলে মন্তব্য করেন এলাকার বাসীন্দারা। দোকানগুলোর কারনে মুল সড়কের মোটর সাইকেল সহ নানা ধরনের যানবাহন রাখে ক্রেতারা। এতে প্রতিদিন ঘটছে দুর্ঘটনা। চৌমাথা মোড়টি একটি বড় অংশ এই দখলদারদের কারনে সরু হয়ে যাওয়ায় যানজট আরও তীব্র হচ্ছে। দোকানের কারনে আড়াল হওয়া চৌমাথা লেকের দর্শনার্থীরা ঘুরতে এসে প্রতিদিন বখাটেদের খপ্পরে পরছে। চলছে লেকের পারে জমজমাট মাদক ব্যবসা। লেকের চারপাশ থেকে এই দোকানগুলো সরানোর জন্য সিটি কর্পোরেশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে তারা। বর্তমান সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের চলমান কার্যক্রমের ওপর আস্থা রেখেই এই দাবি জানিয়েছে তারা।
এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, নগরীর দর্শনীয় স্থানগুলো রক্ষায় সিটি কর্পোরেশনের অবস্থান বর্তমানে যথেষ্ট কঠোর। ইতিমধ্যে সিটি কর্পোরেশন বেলস পার্কে একটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ ফিরিয়ে এনেছে। চৌমাথা লেকটি নগরীর একটি উল্লেখযোগ্য স্থান। প্রয়োজন হলে সিটি কর্পোরেশনের প্রসাশক এর নির্দেশনায় চৌমাথা লেকটি দখলমুক্ত করতে কঠোর হবে সিটি কর্পোরেশন।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT