ইজারায় স্বচ্ছতা : এক রাতেই বিসিসির রাজস্ব আয় বেড়েছে ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা !! ইজারায় স্বচ্ছতা : এক রাতেই বিসিসির রাজস্ব আয় বেড়েছে ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা !! - ajkerparibartan.com
ইজারায় স্বচ্ছতা : এক রাতেই বিসিসির রাজস্ব আয় বেড়েছে ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা !!

4:42 pm , March 11, 2025

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ ও প্রভাব না খাটানোতে এবারে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকার ইজারা বাবদ সাড়ে তিন কোটি টাকা আয় হয়েছে। বিগত দিনে এ আয় ছিলো সর্বোচ্চ ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। হাট বাজার, পুকুর, বাসস্ট্যান্ড, ও শৌচাগারের বার্ষিক লিজ প্রদান বাবদ এ টাকা আয় হয়েছে। বিসিসি বলছে আগে কেন রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হয়েছে তার তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
গত বছর বরিশালের জেলা পাইকারী মৎস্য বাজার থেকে ইজারা বাবদ আয় হয়েছিলো ১০ লাখ টাকা। এবারে একই বাজার ইজারা হয়েছে ৭০ লাখ টাকায়। একইভাবে রুপাতলী হাউজিং এর বাজারটি ৭৪ হাজার টাকার স্থলে এবারে ইজারা হয়েছে ২০ লাখ টাকায়। তিন লাখ টাকার চৌমাথা বাজারের ইজারা মিলেছে এবার ৪০ লাখ টাকায়। এছাড়া ৫ লাখ টাকার নতুন বাজারে এবার মিলেছে ১০ লাখ। এছাড়া অন্য সব বাজারের ইজারায়ও উঠেছে গতবারের চেয়ে বেশি ডাক। প্রশাসনের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা গ্যারান্টিতে এবারেই এই প্রথম দরপত্রে সবাই অংশ নিতে পারায় রাতারাতি বিসিসির রাজস্ব বেড়েছে ২ কোটি ৩০ লাখ  টাকা। বিসিসি প্রশাসকের মতে আগে এই অর্থ লোপাট করে জনগন ও সরকারকে সমানে ক্ষতি করা হয়েছে। আগে টেন্ডারের দিন যেখানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হতো এবারে তা ছিলো সম্পূর্ণ শান্ত। পূর্বে কেন ইজারা এতো কম ছিলো তা তদন্তের কথা বলেন বর্তমান প্রশাসক।
বিসিসি থেকে জানা গেছে গত ১৫ বছরে যারা এসব হাট বাজার টার্মিনালের ইজারা নিয়েছিলো তাদের তালিকা তৈরি করা ইতিমধ্যে সমাপ্ত হয়েছে। ইজারা বাবদ ১৫ বছরে সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতি নিরুপন করে এদের এবং সেই সময়কার দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিভাগীয় কমিশনার ও বিসিসি প্রশাসক রায়হান কাওছার বলেন, আমরা আসলে আইনের বাস্তবায়ন করেছি যা এতোদিন করা হয়নি। আমরা কৌশল করে টেন্ডার ড্রপিং পয়েন্ট বাড়িয়ে দিয়েছি। মাইকিং করে জানিয়েছি যে কারো যদি দরপত্র ফরম ড্রপিং এ কোন বাধা থাকে তাহলে আমরা গিয়ে নিয়ে আসবো। এ কৌশলে কাজ হয়েছে বলেই টেন্ডারের দিন যেখানে রনক্ষেত্র থাকতো সেখানে এবার শান্তি ছিলো। আগের অসচ্ছ প্রক্রিয়ায় সরকার রাজস্ব হারিয়েছে, জনগন হয়েছে উন্নয়নবঞ্চিত। যারা এসব করেছে তারা নিজেরাই এখন লাপাত্তা।
বরিশাল মহানগরীতে ইজারাধারী হাট-বাজার , পুকুর , টার্মিনালের সংখ্যা ২৬টি। এর ইজারা প্রক্রিয়ায় এবারে এযাবতকালের সর্বোচ্চ ৭শ দরপত্র ফরম বিক্রি হয়েছে। এ কাজে সংশ্লিষ্টদেরও কাজ করতে কোন হুমকী ধামকী আসেনি।
বিসিসির বাজার তত্বাবধায়ক নুরুল ইসলাম বলেন, বিগত ১৭ বছরে যেভাবে হাট-বাজারের ইজারা হতো তার সম্পূর্ন বিপরীত হয়েছে এবার। শুধুমাত্র ফরম বিক্রি হয়েছে ৭০০টি। আগে আমরা ভয়ে থাকতাম, এবারে ছিলাম নির্ভয়ে।
বিসিসির ঠিকাদারী কাজে সংশ্লিষ্টদের মতে আগেও এমন পরিমান টাকা আদায় হয়েছে কিন্তু তার পুরোটা সরকারি খাতে না গিয়ে ঢুকেছে সিটি মেয়র ও তার দোসরদের পকেটে। ছিলো লুটের রাজ্য। কোন নিয়ম না মেনে মেয়রদের ইচ্ছামতো যাকে যত টাকায় খুশি ইজারা দিয়ে দেয়া হতো। এবারে যে দর ওপেন হয়েছে গতবার পর্যন্ত তা গোপন ছিলো।
বিসিসির ঠিকাদার সমিতির সম্পাদক জুলফিকার মাসুদ বলেন, আয়ের সাথে সঙ্গতি রেখেই ইজারাদারেরা তাদের দর দিয়েছে। বিগত ১৫ বছর মেয়ররা এগুলো দেখতো। টাকা এরকমই উঠেছে কিন্তু সরকারের রাজস্ব খাতে যায়নি, গিয়েছে পকেটে। উম্মুক্ত দরপত্র হলে এভাবেই সরকার লাভবান হবে। আগে যে টাকা উঠতো তার চারভাগের একভাগ যেতো সরকারের রাজস্ব খাতে। বাকি টাকা মেরে খাওয়া হতো। আগে কেউ ফরম পর্যন্ত কিনতে পারেনি। কিনলে পেটোয়া বাহিনী তা কেড়ে নিতো।
বিসিসির প্রাক্তন কাউন্সিলর হারুন অর রশীদ বলেন, বিগত দিনের যারা মেয়র ছিলেন তাদের কিছু রাজনৈতিক বাইন্ডিং ছিলো, এ জন্যই তারা ইচ্ছেমতো যাকে ইচ্ছা তাকে দরপত্র দিতো। তবে এবারে দরপত্রের যে পরিমান উচ্চমূল্য হয়েছে তাতে জনগন দুর্ভোগে পড়বে। বাজারে যে ঝুড়িতে ১০ টাকা খাজনা নেয়া হতো সেখানে ২০০ টাকা নেয়া হবে। আসলে প্রশাসনের উচিত ছিলো এমন দরপত্র আহবানের আগে বাস্তবতা ও সম্ভাব্যতা যাচাই করে নেয়া।
ঠিকাদাররা জানান ফ্যাসিস্ট সরকার বিদায়ের পর এমন চিত্র ভালো লাগছে। মানুষ এখন বিসিসিতে আসতে পারছে। এবারের ওপেন টেন্ডারে সবাই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে। কোথাও কোন বাধা নেই।
অপরজন জানান কোন বাধা ছাড়াই আমি টেন্ডার ফরম জমা দিয়েছি। আমরা আনন্দিত যে দীর্ঘদিন পর আমরা ওপেন টেন্ডারে অংশ নিতে পেরেছি।
বিসিসির  প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারি বলেন, আমরা চেষ্টা করেছি সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে। আগে সিন্ডিকেটের কারনে সুষ্ঠুভাবে একাজ করা যায়নি। এবছর আমাদের রাজস্ব আয় সাড়ে তিন কোটি টাকা। আমরা চেষ্টা করবো এ ধারা অব্যাহত রাখতে। এজন্য আমরা ই-টেন্ডার চালু করার কথা ভাবছি।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT