এমন অবস্থা আর চলতে দেয়া যায়না এমন অবস্থা আর চলতে দেয়া যায়না - ajkerparibartan.com
এমন অবস্থা আর চলতে দেয়া যায়না

4:58 pm , January 28, 2025

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ নগরীর কাশিপুর এখন আতংকের নাম। গত ৫ সপ্তাহ ধরে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ নগরবাসীর সুখ হারাম করে দিয়েছে। পুলিশ এখন এখানে দলিল লেখকের কাজ করে চলছে। এটি কারো কাম্য হতে পারে না। গত ৪ দিন থেকে নগরীর কাশিপুরে দীঘি, পুকুর, ড্রেন আর ডাস্টবিনে মানুষের শরীরের বিভিন্ন অংশ পাওয়া যাচ্ছে। চারদিন বসে এ ঘটনা উদ্ধারে পুলিশের কোন অগ্রগতি নেই। অথচ নগরীজুড়ে ভয়াল আতঙ্ক হলো এই লাশের টুকরো। আসামি ধরাতো দূরের কথা পুলিশ এখন পাবলিকের কাছ থেকে খবর পেয়ে লাশের টুকরো উদ্ধার কাজ করে চলছে। কেউ বলছে অন্য কোন জেলায় হত্যা করে লাশ টুকরো টুকরো করে বরিশালে এনে ফেলা হয়েছে। এ ধারণার কারন হলো বরিশাল ও আশেপাশে কোথাও কোন নিখোঁজের খবর নেই। এই কাশিপুরের অদূরে বাবুগঞ্জের কাছে  কদিন আগে এক কিশোরের লাশ ডোবা থেকে উদ্ধার করা হয়। ৯ জানুয়ারি রাতে গোরস্থান রোডে রাজিব নামে এক যুবককে হত্যার উদ্দেশ্যে নির্বিচারে কোপানো হয়। পুলিশের কাছে এ ঘটনার সব তথ্য থাকলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পুলিশ বসে আছে মামলার অপেক্ষায়। এর আগে রনি নামে এক যুবককে কোতয়ালী থানার ১০০ গজ সামনে বসে নির্মমভাবে কোপানো হয়। রনি এ সময় কোতয়ালী থানায় আশ্রয় নিয়েও রেহাই পায়নি। পরে মামলা দায়ের হলে পুলিশ দুজন কে গ্রেপ্তার করে। রনির দোষ ছিলো সে চাঁদাবাজদের চাঁদা তোলা থেকে বিরত করেছিলো। শনিবার নগরীর অক্সফোর্ড মিশন রোডে সন্ধ্যার পরে ফ্লেক্সিলোডের দোকানের ঢুকে রিয়াজ নামের এক যুবককে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এর কয়েকদিন আগে নাজিরের পোল এলাকায় বিএনপির দুটি গ্রুপ মোটরসাইকেল মহড়া দিয়ে তাদের দুই নেতার বাসায় হামলা ও ভাংচুর করে। এ ঘটনায় উভয় গ্রুপ মামলা দায়ের করলে পুলিশ দুটো মামলাই গ্রহণ করে। প্রকাশ্যে ঘটে যাওয়া এমন ত্রাসের পর একজনকেও গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। এদিকে নগরীর অলি গলিতে কান পাতলেই এখন ছিনতাই ও চুরির খবর পাওয়া যাচ্ছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে গত এক বছরে তারা নগরীর ৪ থানায় ঘটে যাওয়া ডাকাতি, চুরি, নারী ও শিশু নির্যাতন, মাদক এবং অন্যান্য অপরাধে ১৫২৯ টি মামলা গ্রহণ করে ৩৩৮৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের এমন তথ্যের  বাস্তবতায় যে তথ্য মিলেছে তা হলো আসামি ধরে আদালতে পাঠানোর সময় ফরোয়ার্ডিং এতোটাই দুর্বল ছিলো যে গ্রেপ্তার হওয়া প্রায় সব আসামিই আদালত থেকে শুধু মুক্ত নয় জামিন পেয়ে দিব্বি ঘুরে বেড়াচ্ছে। এ নিয়ে নগরীর সুশীল সমাজের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের মতে পুলিশ তাদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করছে না। সন্ধ্যার পর নগরীর কোন স্থানে পুলিশের টহল দেখা যায় না। রাতের বরিশাল চলে যায় অপরাধীদের দখলে। সাধারন মানুষের বক্তব্য হলো-যদি কোন অপরাধ সংঘঠিত হয় আর পুলিশের হাতে যদি সিসিটিভি ফুটেজ থাকে তাহলে আসামী ধরতে অপেক্ষা করতে হবে কেন। দিনের পর দিন লাশের টুকরো পুলিশকে কুড়োতে হবে কেন। তাদের মতে এই অবস্থায় ধরেই নিতে হবে যে ‘বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মাঠ পর্যায় থেকে শুরু করে উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছেন।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT