কাশিপুরে ৩ দিনে নারীর ৭টি খন্ডিত অংশ উদ্ধার কাশিপুরে ৩ দিনে নারীর ৭টি খন্ডিত অংশ উদ্ধার - ajkerparibartan.com
কাশিপুরে ৩ দিনে নারীর ৭টি খন্ডিত অংশ উদ্ধার

4:53 pm , January 28, 2025

হতভাগ্য নারীকে হত্যার পর লাশ টুকরো টুকরো করা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ গেল ৩ দিনের ব্যবধানে বরিশাল নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইছাকাঠী এলাকার পুকুর-দীঘি ও ডাস্টবিন থেকে হাত-পাসহ মানবদেহের ৭টি খন্ডিত অংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে ইছাকাঠী এলাকায় বাসাবাড়ি এবং ঝোপঝাড়ে অভিযান চালায় একাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এ ঘটনায় আতংকিত হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী। তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকান্ডের শিকার ব্যক্তি এবং এর সাথে জড়িতদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পুলিশের ধারণা এক নারীকে হত্যার পর লাশ লাশ টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ইমাম হোসেন বলেন, প্রতিদিন ভোরে হাতেম মীরার দীঘিতে অনেকেই মাছ টোকাতে যায়। গতকাল সকালে এক নারী ওই দীঘিতে মাছ টোকানোর সময় একটি সাদা পলিথিন দেখে সেটাকে বড় মাছ মনে করে লাঠি দিয়ে টেনে কাছে নিয়ে আসে। এরপর সে কাটা হাত দেখে ডাক-চিৎকার দিলে এলাকাবাসী সেখানে জড়ো হয়ে পলিথিনের ভিতর থেকে গ্লোবস পরিহিত একটি হাত উদ্ধার করে। সাথে সাথে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করা হলে পুলিশ এসে হাতটি নিয়ে যান।
স্থানীয় বাসিন্দা সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের ছাত্র রাহাত হোসেন বলেন, ২৬ জানুয়ারী থেকে এ ধরনের মানুষের দেহের খন্ডিত অংশ পাওয়া শুরু হয়েছে। গত সোমবার যে ডাস্টবিন থেকে একটি অংশ উদ্ধার হয় সেটি সোমবারই সেখানে রাখা হয়েছে। কারণ ওই ডাস্টবিনের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ ইতিপূর্বে পুলিশ নিয়ে গেছে। সেখানে ২৬ জানুয়ারী দেখা গেছে সিটি কর্পোরেশনের পরিস্কার পরিচ্ছন্ন কর্মীরা ডাস্টবিনটি উপুড় করে তারপর টাক দেয়। এরপর সেখানে আর কোন ধরনের ময়লা থাকার কথা নয়।  পরদিন ২৭ জানুয়ারী সকালে ময়লা ফেলতে গিয়ে একটি পলিথিনের ভিতর থেকে মানবদেহের একটি অংশ উদ্ধার করে তা পুলিশে দেয়া হয়। গতকাল সকালে আবারো একটি কাটা হাত উদ্ধার করা হলো। মানবদেহের খন্ডিত অংশ দেখে মনে হচ্ছে এগুলো কোন বাসাবাড়ির ফ্রিজে রক্ষিত ছিল। কারন ফ্রিজে মাংস রাখলে যে অবস্থা হয় খন্ডিত অংশগুলোর একই অবস্থা।
জামাল হোসেন ও টুটুলসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, তাদের এলাকায় আতংক বিরাজ করছে। সকলেই অপেক্ষায় থাকেন কোন সময় আবার ডাক-চিৎকার শোনেন। কারন ডাক-চিৎকার দিলেই সকলের কাছে মনে হয় আবারো খন্ডিত অংশ পাওয়া গেছে। আর যেভাবে প্রতিদিন সেখানে খন্ডিত অংশ পাওয়া যাচ্ছে তার ধারনা ধারেকাছেই হত্যাকান্ড সংঘটিত করে খুনী তামাশা দেখছে। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে ভিকটিম সনাক্ত এবং এর সাথে জড়িত ঘাতকদেরও সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
ইউনুস সিকদার বলেন, ২৬ জানুয়ারী সকালে ঘুম থেকে উঠে দীঘির পাড়ে যান। এরপর কিছু একটা ভাসতে দেখে তার মনে হয় বড় একটি মাছ ভাসছে। কোনভাবে লাঠি দিয়ে পাড়ের আনার পূর্বেই তিনি দেখতে পান তা একটি মানুষের পায়ের অংশ বিশেষ। সাথে সাথে এলাকাবাসী জড়ো হয়ে ৯৯৯ ফোন দিয়ে বিষয়টি এয়ারপোর্ট পুলিশকে অবহিত করেন। সেখান থেকে পুলিশ এসে পায়ের অংশ উদ্ধার করে পলিথিনে ভরে নিয়ে যান। এরপর পার্শ্ববর্তী পুকুরে গিয়ে পলিথিনে ভরা মানুষের কলিজাসহ আরো চার টুকরো দেহের অংশ বিশেষ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরন করেন।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার রুনা লায়লা বলেন, ৩ দিনের ব্যবধানে মানবদেহের ৭টি টুকরো উদ্ধার করা হয়েছে। এটি একটি হত্যাকান্ড তা স্পষ্ট এবং ধারনা করা হচ্ছে হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন এক নারী। বিষয়টি অধিকতর গুরুত্বের সাথে দেখে একাধিক টিম নিয়ে ইছাকাঠী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছেন। এ ক্ষেত্রে বাসাবাড়ির গাড়ি, ফ্রিজ থেকে শুরু করে রিজার্ভ ট্যাংক এবং ঝোপঝাড়ে তল্লাশী চালানো হচ্ছে। আমরা ভিকটিমকে চিহ্নিত এবং ঘাতকদের আটকে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাবো।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT