3:23 pm , November 23, 2024
আরিফ আহমেদ, বিশেষ প্রতিবেদক ॥ কেউ ডাকেন মশলা আপু, কেউ আবার রেবেকা বা মুন্নি আপা। যদিও তার ভালো নাম রেবেকা সুলতানা মুন্নি। মুন্নিস ড্রিম নারী কল্যান সমিতির পরিচালক হলেও এখনো তার খ্যাতি মশলা আপু বলে। ২০২২ সালে বরিশালে স্থায়ী বসবাস শুরু করা মাত্রই তিনি প্রথম ভেজালমুক্ত মশলা তৈরি ও বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেন। এর পেছনে রয়েছে মানবিক আবেদন। রেবেকা সুলতানা বলেন, আমার শ্বশুর ও শ্বাশুড়ি দুজনই ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। একমাত্র বোনটিও ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন। তার জন্য ভেজালমুক্ত মশলা খুবই জরুরী। তাই বোনের জন্য ভেজালমুক্ত মশলা তৈরি করতে যেয়ে উপলব্ধি হলো, শুধু আমার বোন একা নয়, এই সমাজে এরকম হাজারো মানুষ রয়েছেন যাদের ভেজালমুক্ত মশলার খুবই প্রয়োজন। এই ভাবনা থেকে ভেজালমুক্ত মশলা তৈরি করে তা বিতরণ ও বিক্রি দুটোই শুরু করে দেই। এ কারণে অনেকেই আমাকে মশলা আপু বলে ডাকেন।
বরিশালের ২৯ নং ওয়ার্ডের একতাবাজার, বাঘিয়া, লাকুটিয়া সড়কের ইসলাম ভিলার তৃতীয় তলার ছাদে এখন নিয়মিত হতদরিদ্র নারীদের নিয়ে হাঁস-মুরগি পালন, টেইলারিং, ব্লক বাটিক ও কৃষিসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়েই সময় কাটে রেবেকা সুলতানার। বাড়ির ছাদটাকেই তিনি ‘মুন্নিস ড্রিম নারী কল্যান সমিতির অফিস বানিয়ে নিয়েছেন । যেখানে লাকুটিয়া ও কাশিপুর এলাকার উদ্যোক্তা হতে আগ্রহী নারীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে বিভিন্ন সহযোগিতা দিচ্ছেন রেবেকা সুলতানা। তিনি এখন বরিশালে নারী অগ্রযাত্রার একজন পথ প্রদর্শক বলে জানালেন উইমেন্স চেম্বারের সভাপতি বিলকিস আহমেদ লিলি। লিলি বলেন, তার উইমেন্স চেম্বার ও উষানা যুব উন্নয়ন সংস্থার বেশিরভাগ প্রশিক্ষণের কাজ এখন এই রেবেকা সুলতানা পালন করছেন। নারীদের প্রশিক্ষণের সহায়ক এমন কোনো বিষয় নেই যা রেবেকা সুলতানা জানেন না।
এ বিষয়ে রেবেকা সুলতানা বলেন, আসলে আমার বাবা ইলিয়াস হাওলাদার ছিলেন সরকারি চাকুরীজীবি। আর মা সিদ্দিকা খানম গৃহিণী হলেও সব রকমের হাতের কাজে দক্ষ ছিলেন। আমরা খুলনায় বড় হয়েছি। ওখানে যুব উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম। মায়ের কাছেই প্রথম উদ্যোক্তা হবার অনুপ্রেরণা পাই। চাকরি আমার কখনোই পছন্দ ছিলো না। আমার স্বামী মনিরুল ইসলাম কেমিস্ট ল্যাবরেটরিতে চাকরি করছেন। তার জন্য দীর্ঘদিন নোয়াখালীতেও বসবাস করি। এই যে খুলনা ও নোয়াখালী অবস্থান সময়ে হস্তশিল্পের কাজের চাহিদায় অনেক কিছু আয়ত্ব করতে হয়েছে। এখনতো আমার দুই সন্তান (এক মেয়ে ও এক ছেলে) দুজনেই কাজে সহযোগিতা করে।
রেবেকা বলেন, ১৯৯৩ সাল থেকে কখনো টেইলারিং, কখনো ব্লক বাটিক, কখনো হাঁস-মুরগি ও কৃষি নিয়ে কাজ করে আসছি। তবে সবচেয়ে দায়িত্বশীল কাজ আমার মশলা। ভেজালমুক্ত মশলা আমার সবচেয়ে প্রিয় ও পছন্দের কাজ।
বরিশালে আসার পর থেকে গত দু’বছরের মধ্যেই জেলার নারী উদ্যোক্তাদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন রেবেকা সুলতানা। তাকে ঘীরেই এখন বেশিরভাগ নারী উদ্যোক্তা সংগঠনের কার্যক্রম প্রসারিত হচ্ছে। তার বাড়ি ইসলাম ভিলার তৃতীয় তলাতেই এখন একসাথে পাওয়া যায় স্নিগ্ধা আফরোজ, ইসমত ফারহানা, জামদানী নিয়ে কর্মরত রাহিমা আক্তার এবং নারী স্বাস্থ্য নিয়ে কর্মরত ফাহরাবি বিনতে সাদেক সহ আরো অনেক নারী উদ্যোক্তাদের।
