বেপরোয়া গতির অবৈধ ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিক্সার কাছে জিম্মি নগরবাসী বেপরোয়া গতির অবৈধ ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিক্সার কাছে জিম্মি নগরবাসী - ajkerparibartan.com
বেপরোয়া গতির অবৈধ ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিক্সার কাছে জিম্মি নগরবাসী

4:06 pm , July 8, 2024

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ প্রতিনিয়ত যেন যানজটের নগরীতে পরিনত হচ্ছে বরিশাল। অদক্ষ ও অপেশাদার চালকদের হাতে নিয়ন্ত্রনহীন এসব যান। যানবাহনের বেপরোয়া গতিতে আতঙ্কে নগরবাসী।
সিটি করপোরেশন ও বিআরটিএ কর্তৃক কোন লাইন্সেস না থাকলেও যে কেউ ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও রিকশা নিয়ে নেমে পড়ছেন যাত্রী পরিবহন করতে। সুষ্ঠু তদারকি এবং নিয়ন্ত্রণ না থাকায় এ অবৈধ যানের সংখ্যা একের পর এক বেড়েই চলছে। সেই সাথে বাড়ছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা এবং বিদ্যুৎ অপচয়ের পরিমাণ। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ৫৮ বর্গ কিলোমিটারের বরিশাল সিটি এলাকায় চলাচল করছে ১৫ থেকে ১৮ হাজারের অধিক ব্যাটারিচালিত রিকশা। থ্রি-হুইলারের সংখ্যাও কম নয়।
যদিও এসব অবৈধ ইজিবাইকের সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এবং মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের কাছে। এই ব্যাটারিচালিত অবৈধ ইজিবাইক ও রিকশা নিয়ন্ত্রনে নগর ট্রাফিক বিভাগ প্রতিদিন ৫ থেকে ১০টি লাইসেন্সবিহীন অবৈধ ইজিবাইক ও রিকশা আটক করে থাকেন। বেশ কিছুদিন আটকে রাখার পর সেগুলোকে আবার ৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে ছেড়ে দেয়া হয়। এ নিয়েও চলছে তুঘলকি কান্ড। মোটা অংকের রাজস্ব আয়ের বানিজ্যে ফের রাস্তায় নেমে পড়ছে এসব অবৈধ ইজিবাইক ও রিকশা।
তবে বিআরটিএ বলছে, বরিশাল নগরীতে আয়তনের তুলনায় অবৈধ ইজিবাইক এবং ব্যাটারি রিকশার সংখ্যাই অনেক বেশি। এসব অবৈধ ইজিবাইক বা ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগ নেয়া জরুরী।
সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর রূপাতলী বাস্ট্যান্ড থেকে লঞ্চঘাট, নথুল্লাবাদ থেকে রূপাতলী এবং লঞ্চঘাট, জেলখানার মোড় থেকে নথুল্লাবাদ ও বেলতলা, তালতলি, লঞ্চঘাট থেকে বেলতলা, চৌমাথা থেকে নবগ্রাম, বটতলা এবং শেবাচিম হাসপাতাল রুটে চলাচল করছে অসংখ্য ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক এবং রিকশা।
নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্যেও গড়িয়ারপাড় থেকে নলছিটি জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ঢাকা-বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কে ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী পরিবহন করছে ইজিবাইক এবং থ্রি-হুইলার। ফলে প্রায়শই আসছে দুর্ঘটনার খবর। তাছাড়া এসব যানের ভাড়াও নিয়ন্ত্রণের বাইরে বলে দাবি যাত্রীদের। যাত্রীদের জিম্মি করে যে যার মতো করে আদায় করছে ভাড়া।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, ‘ইজিবাইকের নিয়ন্ত্রণ সিটি করপোরেশনের হাতে। বাম রাজনৈতিক সংগঠনের আন্দোলনের চাপে অবৈধ ইজিবাইক এবং ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছে না ট্রাফিক বিভাগ। সেই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে ইজিবাইক চালক এবং মালিকরা। একের পর এক সড়কে নামাচ্ছে অনুমোদনহীন ইজিবাইক এবং রিকশা।
বিআরটিএ বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক জিয়াউর রহমান বলেন, ‘ইজিবাইক বা ব্যাটারিচালিত রিকশা অবৈধ। অবৈধ এ যানের সংখ্যা এতোটাই বেড়েছে যে শহরের ধারণ ক্ষমতার থেকে বেশি হয়ে গেছে। এগুলোর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা খুবই জরুরি।‘ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। তবে আমরা অবৈধ যানের বিকল্প হিসেবে বৈধ যানের সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করছি। এতে অবৈধ যানবাহনের সংখ্যা কমে যাবে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার রুনা লায়লা জানান, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা সিটি করপোরেশনের সাথে বসেছিলাম। অবৈধ যানবাহনের বিষয়ে সিদ্ধান্তও হয়েছে। যেগুলো বাস্তবায়নে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগ নেয়ার কথা। সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসরাইল হোসেনের বক্তব্য জানতে অফিসিয়াল নম্বরে ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে সিটি করপোরেশনের যানবাহন শাখার পরিদর্শক আতিকুর রহমান মানিক বলেন, ‘ইজিবাইকের পরিসংখ্যান আমাদের কাছে নেই। এটা ট্রাফিক বিভাগের কাছে থাকবে। তবে দুই হাজার ৬১০টি হলুদ ইজিবাকের ব্লু-বুক এবং টোকেন দিয়েছে সিটি করপোরেশন। এর বাইরে চলাচলকারী সব ইজিবাইক অবৈধ।
তিনি বলেন, ‘অবৈধ এসব ইজিবাইক বন্ধের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গত মাসে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগে সিটি করপোরেশন থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে। তারা কি ব্যবস্থা নিয়েছে তা বলা সম্ভব না।
এদিকে বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, ‘একটি ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত ভ্যান ও রিকশায় ৫টি করে ১২ ভোল্টের ব্যাটারি থাকে। ১২ ভোল্টের ৫ ব্যাটারির ধারণক্ষমতা ২ কিলোওয়াট। দিনে ৫টি ব্যাটারির একটি ইজিবাইক ৮ ঘণ্টা চার্জ দিলে খরচ হয় ১৪-১৫ ইউনিট বিদ্যুৎ। সে হিসেবে বরিশাল নগরীতে বর্তমানে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ ব্যয় হচ্ছে ইজিবাইক চার্জে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT