পাথরঘাটায় উপজেলা নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা ॥ একজনকে কুপিয়ে হত্যা পাথরঘাটায় উপজেলা নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা ॥ একজনকে কুপিয়ে হত্যা - ajkerparibartan.com
পাথরঘাটায় উপজেলা নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা ॥ একজনকে কুপিয়ে হত্যা

4:35 pm , July 7, 2024

পাথরঘাটা প্রতিবেদক ॥ বরগুনা পাথরঘাটায় উপজেলা নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার জেরে শহিদুল ইসলাম হাওলাদার (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষরা।
শনিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শহিদুল ইসলামের মৃত্যু হয়। এর আগে রাত সাড়ে দশটার দিকে পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানি ইউনিয়নের জ্ঞানপাড়া এলাকার একচল্লিশ ঘর নামক স্থানে শহিদুল ইসলামের উপর হামলার ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাথরঘাটা থানার ওসি আল মামুন।
নিহত শহিদুল ইসলাম হাওলাদার একই এলাকার মৃত বাহার আলী হাওলাদারের ছেলে। তিনি পেশায় একজন জেলে ছিলেন।
নিহত শহিদের স্ত্রী আমেনা বেগম জানান, রাত দশটার দিকে জ্ঞানপাড়ার বান্দাঘাটা এলাকায় মহাজন বনি আমিনের সাথে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে বাড়ীতে আসার পথে মন্নান বিশ্বাসের ছেলে নাসির বিশ্বাস (৩৫), জাকির বিশ্বাসের ছেলে রুবেল বিশ্বাস,(২৫), নুরু মল্লিকের ছেলে আব্বাস মল্লিক(৪০) সহ ৫/৬ জন কুপিয়ে রাস্তায় ফেলে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় রাত দেড়টার দিকে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসি।
পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডাঃ রাশিদা তানজুম হেনা জানান, রাত দেড়টার দিকে শহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তার শরীরে প্রায় ২০টির মতো ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। এছাড়াও পায়ের রগ কাটা ছিল। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন অবস্থায় রাত দুইটার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহত শহিদুল ইসলামের ছোট ভাই নাসির হাওলাদার বলেন,
পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান এনামুল হোসাইন এর নির্দেশে জাকির বিশ্বাস, নাসির বিশ্বাস, রুবেল বিশ্বাস, সোবাহান বিশ্বাস, মুসা, ইশা, সোহেল বিশ্বাস, সোহেল, বাবু, আবুল, আলাউদ্দিন, আরাফাত সহ বেশ কয়েকজন মিলে কয়েকদিন আগে নিহত শহিদের মেয়ে তানিয়ার ঘর আগুনে পুড়িয়ে দেয়। এনিয়ে পাথরঘাটা থানায় মামলা করলে নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর এনামুলের লোকজন আমার উপরে হামলা করে আমার বাম হাত ভেঙ্গে দেয়। পরে আমার উপর হামলার ঘটনায় আবারো থানায় মামলা করলে আমার বড় ভাই শহিদুলের কে কুপিয়ে হত্যা করে। এনিয়ে মামলা চললেও কোন বিচার পাননি বলে অভিযোগ করেন নাসির হাওলাদার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদ্য শেষ হওয়া উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চরদুয়ানি ইউনিয়নের দক্ষিণ চরদুয়ানি এলাকায়      একচলিল্লশ ঘর, বান্দাঘাটা, জ্ঞানপাড়া এলাকায় বেশ কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরমধ্যে শহিদকে হত্যার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানার ওসি আল মামুন জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মারা যাওয়া শহীদ কর্তৃক পূর্বেই মামলা রয়েছে। বর্তমানে মামলা চলমান আছে। শহিদুল ইসলামের হত্যাকারীদের আটক করতে রাত থেকেই অভিযান চলছে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা নাদিরা জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত লোমহর্ষক। আমি খবর পেয়ে ঢাকা থেকে পাথরঘাটা এসে পৌঁছেছি এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার জন্য থানা পুলিশকে বলেছি।
পাথরঘাটা উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ এনামুল হোসাইন বলেন, পরাজিত প্রার্থী ঈর্ষান্বিত হয়ে অযথা আমার উপরে দায় চাপাতে চায়। আমি বা আমার কোন লোক হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত না এবং এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানিনা।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT