জেলা যুবদল নেতাসহ সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার জেলা যুবদল নেতাসহ সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার - ajkerparibartan.com
জেলা যুবদল নেতাসহ সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

4:14 pm , July 3, 2024

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশাল দক্ষিন জেলা যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকসহ সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৮। বুধবার বিকেলে র‌্যাব-৮ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তাদের গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছেন অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী যুবায়ের আলম।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো-বরিশাল দক্ষিন জেলা যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল হক কিরন (৪৫), নগরীর এয়ারপোর্ট থানার মশুরিয়া গামের বাসিন্দা মেহেদি হাসান (৪০), পটুয়াখালী দুমকি উপজেলার জলিসা গ্রামের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম (২৮) ও পটুয়াখালী সদর থানার দক্ষিন বাদুরা গ্রামের ওমর ফারুক (৩৬)। তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস ও একটি প্রাইভেট কার, একটি চাইনিজ কুড়াল, একটি হাসুয়া, একটি দা, একটি ছুরি, একটি তলোয়ার, দুইটি চাকু, দুইটি খেলনা পিস্তল, পাঁচটি মলম, একটি স্প্রে সদৃশ্য শিশি, দুইটি লাঠি, দুইটি গামছা এবং দুইটি পাটের রশি উদ্ধার করা হয়।
র‌্যাব অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী যুবায়ের আলম জানান, গত ২৯ জুন গাজীপুর চান্দনা চৌরাস্তা থেকে এক ব্যক্তিকে ময়মনসিংহে তার বাড়িতে পৌছে দেবার কথা বলে মাইক্রোবাসে তুলে একটি ডাকাত চক্র। পরে মাইক্রোবাসে থাকা অপর সদস্যরা ওই ব্যক্তির কাছে থাকা টাকা, এটিএম কার্ড ছিনিয়ে নেয়। অপহৃত ব্যক্তির বাড়িতে ফোন করে মুক্তিপণ হিসেবে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আরও পঞ্চাশ হাজার টাকা আদায় করে। এরপর ওই ব্যক্তিকে ময়মনসিংহের ভরাডোবা এলাকায় নির্জন স্থানে হাত পা বেঁধে ফেলে রেখে চলে যায়।
পরবর্তীতে চক্রটি গত ২ জুলাই বেনাপোল বন্দর থেকে ঠিক একইভাবে দুইজন বিদেশ ফেরত যাত্রীকে টার্গেট করে। ডাকাত দলের একজন সদস্য সেই যাত্রী দুইজনের সাথে একটি পাবলিক বাসে সাধারণ যাত্রী হিসেবে অবস্থান নেয়। চক্রের সদস্যরা তাদের ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কার নিয়ে বাস অনুসরণ করে। এই ডাকাত চক্রের আরেকটি দল একটি মাইক্রোবাস নিয়ে ঢাকা গোপালগঞ্জ মহাসড়কের পাশে সাম্পান রেস্তোরার কাছাকাছি স্থানে আইন শৃংখলা বাহিনীর পরিচয়ে বাসটির গতি রোধ করে। সেখানে তাদের টার্গেট করা দুই প্রবাসীকে যাত্রীবেশে থাকা ডাকাত সদস্যের সহায়তায় বাস থেকে নামিয়ে নিজেদের ব্যবহৃত মাইক্রোবাসে তোলে। ডাকাত চক্রটি অপহৃত ব্যক্তিদের নিয়ে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে আসার পর তাদের কাছ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা সহ একটি ব্যাগ ও অন্যান্য মালামাল লুট করে। পরে তাদেরকে হাত পা বেধে রাস্তায় ফেলে দেয়। এরপর তারা বরিশাল-মাদারীপুর মহাসড়কের রাজৈর এ একটি হাইওয়ে রেস্তোরাঁয় যাত্রা বিরতি করে লুটকৃত মালামাল নিজেদের মধ্যে বন্টনের পরিকল্পনা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব ৮ এর একটি দল ঘটনাস্থলে অভিযান করে। ডাকাত চক্রের সদস্যরা র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে দলনেতা মেহেদীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে।  বাকি তিনজন পালিয়ে যায়। র‌্যাব ঘটনাস্থল থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি উদ্ধার করেছে।
র‌্যাব অধিনায়ক গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে আরো জানান, দলনেতা মেহেদী ২০১৭ সালে ইয়াবা বহন ও সেবনের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারান্তরীন ছিলে। সেখানে ডাকাত চক্রের পলাতক সদস্যের সাথে তার পরিচয় হয়। কারাগারে থাকা অবস্থাতেই তারা এই জাতীয় ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে। জিজ্ঞাসাবাদে তার স্বীকার করেছে, তারা জামিনে মুক্ত হয়ে সংঘবদ্ধ ভাবে ঢাকাসহ সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরণের ডাকাতি ও অপহরণ কার্যক্রম করে।  দলনেতা মেহেদীর বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগরীর পল্টন থানায় একটি ডাকাতি মামলা সহ বিভিন্ন থানায় অস্ত্র ও মাদকসংক্রান্ত আরও ১০ টি মামলা রয়েছে।
র‌্যাব অধিনায়ক বলেন, তারা সড়ক-মহাসড়ক, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বিমানবন্দর, বাসস্ট্যান্ড, সীমান্ত বন্দর এলাকায় ওৎ পেতে থাকে। তাদের নিয়োজিত লোকজনের মাধ্যমে টার্গেট চিহ্নিত করে। কোন কোন সময় তারা যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে গাড়িতে নিয়ে লুট করে ভুক্তভোগীকে নির্জন স্থানে ফেলে দিয়ে চলে যায়। বিভিন্ন সময়ে তারা ভাড়ায় চালিত ও ছিনতাইকৃত গাড়ি ব্যবহার করে। জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, এই ঘটনায় ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি তারা ইতিপূর্বে ছিনতাই করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানায় নিয়মিত মামলা করে পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে যুবদল নেতা গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিষয়টি ভিন্নখাতে নেয়ার জন্য নিখোঁজ হয়েছে উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন।
এরকম পোস্ট দেয়া মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা এক সাথে রাজনীতি করি। তাই বিভিন্নজন তার নিখোঁজ হওয়ার পোস্ট দিয়েছে। সেই পোস্ট দেখে তিনিও শেয়ার করেছেন।
তার কাছ থেকে সংগ্রহ করা যুবদল নেতা কিরনের স্ত্রী মোর্শেদা বেগমের নম্বরে কল করা হলে তিনি বলেন, আমাদের সদর উপজেলার লাকুটিয়া সড়কে রড সিমেন্টের ব্যবসা রয়েছে। মঙ্গলবার রাত থেকে তার ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়ায় নিখোঁজ সংবাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়।
ডাকাতির ঘটনায় তিনি গ্রেপ্তার হয়েছে জানালে মোর্শেদা কোন মন্তব্য করেননি। তিনি বলেন, যেহেতু তার সাথে যোগাযোগ করতে পারেনি। তাই বিষয়টি সম্পর্কে কিছু বলতে পারবো না।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT