মেহেন্দিগঞ্জের কিশোর শুভ হত্যার রহস্য উদ্ধার ॥ চার হত্যাকারী গ্রেপ্তার মেহেন্দিগঞ্জের কিশোর শুভ হত্যার রহস্য উদ্ধার ॥ চার হত্যাকারী গ্রেপ্তার - ajkerparibartan.com
মেহেন্দিগঞ্জের কিশোর শুভ হত্যার রহস্য উদ্ধার ॥ চার হত্যাকারী গ্রেপ্তার

4:08 pm , July 2, 2024

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ মোটর সাইকেল চালানো নিয়ে দ্বন্ধে ভোলার চরফ্যাশনে নিয়ে মেহেন্দিগঞ্জের কিশোর ওমর ফারুক শুভকে (১৫) হত্যার রহস্য উদ্ধার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয়েছে হত্যাকারী চারজনকে। মঙ্গলবার দুপুরে এ তথ্য জানিয়েছেন মেহেন্দিগঞ্জ থানার ওসি ইয়াছিনুল হক। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো-মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার উলানিয়া গ্রামের মৃত আ. মজিদ রাঢ়ীর ছেলে মাইদুল ইসলাম রাঢ়ী (৩৭), আম্বিকাপুর গ্রামের বাদল পালবানের ছেলে ইসমাইল বাদল পালবান (১৮), একই গ্রামের বাছেদ খানের ছেলে হাসিবুর রহমান (১৪) ও গাজীরচর গ্রামের জুয়েল হোসেনের ছেলে আহাদ হোসেন (১৪)।
হত্যার শিকার শুভ জাঙ্গালিয়া মাধ্যমিক স্কুল এন্ড কলেজের ৯ম শ্রেণির ছাত্র ও ওই এলাকার ইব্রাহিম খন্দকারের ছেলে।
গত ২ জুন দিনগত গভীর রাতে চরফ্যাশন উপজেলার আসলামপুর ইউনিয়নের বেতুয়া লঞ্চঘাট সংলগ্ন মেঘনা নদীর তীরে নিয়ে গ্রেপ্তারকৃত চার আসামী শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে ৩ জুন সকালে চরফ্যাশন থানার পুলিশ অজ্ঞাত হিসেবে শুভ’র লাশ উদ্ধার করে।
চরফ্যাশন থানার ওসি সাখাওয়াত হোসেন জানান, অজ্ঞাত লাশ হিসেবে উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। লাশের পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ সংগ্রহ করা হয়। এ ঘটনায় চরফ্যাশন থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়।
ওসি সাখাওয়াত জানান, মেহেন্দিগঞ্জ থানায় ঘটনায় মামলা রয়েছে। মেহেন্দিগঞ্জ থানা পুলিশ হত্যার রহস্য উদ্ধার এবং আসামীদের গ্রেপ্তার করেছে। এখন সকল কার্যক্রম ওই থানায় পরিচালিত হবে। চরফ্যাশন থানা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনসহ লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন পাঠিয়ে দেবে। শুভর লাশ অজ্ঞাত হিসেবে দাফন করা হয়।
মেহেন্দিগঞ্জ থানার ওসি ইয়াছিনুল হক জানান, শুভকে অপহরনের অভিযোগে তার বাবা ইব্রাহিম খন্দকার গত ২ জুন থানায় মামলা করে। মামলার তদন্ত করে পুলিশ জানতে পারে উপজেলার লেংগুঠিয়া বাজারের ভাঙারী ব্যবসায়ী মাইদুল ইসলাম রাঢ়ীর দোকানে শুভ মাঝে মধ্যে কাজ করতো। এ সুবাদে মাইদুলের সাথে শুভ’র সু সম্পর্ক গড়ে উঠে। কাজের বিনিময়ে ও সুস্পর্কের শুভ প্রায় সময় মাইদুলের কাছ থেকে টাকা নিতো। ব্যবসার কাজের জন্য মাইদুল একটি মোটর সাইকেল কিনে। কিন্তু সে মোটর সাইকেল চালাতে না জানায় শুভ চালাতো। ব্যবসার কাজে ব্যবহার ছাড়াও ওই মোটর সাইকেল নিজের কাজে ব্যবহার করেছে শুভ। এ নিয়ে শুভ’র সাথে মাইদুলের মনোমালিন্য হয়। এর জেরে শুভকে হত্যার পরিকল্পনা করে মাইদুল। পরিকল্পনা অনুযায়ী শুভকে মোটর সাইকেল মেরামতের কথা বলে ভোলায় নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করে। এরপর ০৬ জুন তারা ভিকটিম শুভকে নিয়ে মেঘনা নদীর পাড়ে জনশূন্য স্থানে যায়। রাত আড়াইটার দিকে আসামী ইসমাইল ভিকটিম শুভর একপাশে বসে এবং আসামী মাইদুল অন্য পাশে বসে। আসামী ইসমাইল পালবান পেছন থেকে শুভর গলা চেপে ধরে, তখন মাইদুল শুভকে পেছন থেকে ঝাপটে ধরে। এসময় শিশু আহাদ ও শিশু হাসিবুর ভিকটিমের দুই হাত ও পা ধরে রাখে। একপর্যায়ে তারা শ্বাস রোধ করে শুভকে হত্যা করে। এরপর মাইদুল ইসলাম মৃতদেহকে উপর্যপুরি চড়, লাথি মেরে ক্ষোভ প্রকাশ করে। শিশু আহাদ শুভর পকেটে থাকা মোবাইল ফোনটি বের করে সিম খুলে ভোলা সংলগ্ন মেঘনা নদীতে ফেলে দেয় এবং ফোনটি আসামী মাইদুল ইসলামের কাছে। পরবর্তীতে সবাই মিলে মৃতদেহটি ধরে নদীতে ফেলে দেয়।
ওসি জানান, মামলার আসামী হিসেবে প্রথমে মাইদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী অন্য তিন আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলার প্রধান আসামী মাইদুল আদালতে হত্যার স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT