শাক-সবজির মূল্য আকাশ ছোঁয়া ডিম খাওয়া ছেড়েছেন অনেকেই শাক-সবজির মূল্য আকাশ ছোঁয়া ডিম খাওয়া ছেড়েছেন অনেকেই - ajkerparibartan.com
শাক-সবজির মূল্য আকাশ ছোঁয়া ডিম খাওয়া ছেড়েছেন অনেকেই

4:19 pm , June 24, 2024

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ঈদ উল আজহার ছুটি শেষ হয়েছে। স্বাভাবিক হয়েছে কাচাবাজার সহ সব ধরনের বাজারে পণ্য সরবরাহ। এর পরেও নানা অজুহাতে ক্রেতাদের নাগালের বাইরে রয়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় দব্য। ঈদ উল আজহার ছুটি শেষে এক সপ্তাহের ব্যবধানে কোনো কোনো সবজিতে দুই গুণ আবার কোনটিতে দাম বেড়েছে দেড় গুণ। এছাড়াও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে মাছ ও মুরগি। ঈদের আগের দিন থেকে সাধারন ক্রেতাদের প্রোটিনের চাহিদা মেটানোর অন্যতম উৎস ডিমের বাজারে চলছে চরম নৈরাজ্য। এক সপ্তাহ থেকে এ বছরের রেকর্ড পরিমানে দাম বেড়েছে ডিমের। এতে চরম অস্বস্তির মধ্যে রয়েছে সাধারণ মানুষ। তবে বিক্রেতাদের দাবি ঈদের ছুটি কাটিয়ে এখনও বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় এই অবস্থা। শ্রমিক ও পরিবহনের যানবাহনের স্বল্পতা দাম বাড়িয়েছিল। তবে সোমবার থেকে বাজার স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে বলে দাবি বিক্রেতাদের। অন্যদিকে নাজেহাল ক্রেতারা ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, সিন্ডিকেটের এই দেশে কখনো ক্রেতারা স্বস্তিতে থাকতে পারবেন না।  একেক সময় অতি প্রয়োজনীয় একেক পণ্যের দাম বাড়ানো হয় ইচ্ছে মত। যতটা সম্ভব ক্রেতাদের পকেট কেটে তা আবার কয়েকদিন পর কিছুটা কমানো হয়। সব মিলিয়ে এই দেশে বর্তমানে নি¤œ ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে অধিকাংশ পণ্য। মাছ মাংস তো দূরের কথা, কিছুদিন পর সবজি ডিম দিয়েও খাবার জুটবে না বলে আক্ষেপ ক্রেতাদের।
সোমবার (২৪ জুন) বরিশাল নগরীর বাজার রোডের বড় বাজার, পোর্টরোড, চৌমাথা বাজার, বাংলা বাজার, বটতলা বাজার, নথুল্লাবাদ কাচা বাজার সহ বিভিন্ন বাজারে ঘুরে দেখা গেছে কাঁচাবাজারের সকল পণ্যের আকাশছোঁয়া দামের বিষয়টি। চৌমাথা বাজারে আবু নাসের নামে একজন ক্রেতা বলেন, বাজারে এসে এই মাথা থেকে ওই মাথা ঘুরছি। কিছু কিনতে পারছি না। বাজার নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা নেই। বড় বাজারের রহমান আকন বলেন, বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়। বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পটল ৭০ টাকা, আলু ৭০ টাকা, পেঁয়াজ ৮৫-৯০ টাকা, রসুন ২৪০ থেকে ৩০০ টাকা ঢেঁড়শ ৬০ টাকা থেকে ৮০ টাকা, মিষ্টি আলু ৫০ টাকা, আদা ৩০০ টাকা, ডাটাশাক ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বটতলা বাজারের মাংস বিক্রেতা সাঈদ জানান, গরুর মাংস ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্রয়লার মুরগি ২০০ থেকে ২১০ টাকা, সোনালি ৩২০ টাকা, দেশী মুরগি ৫৫০ টাকা, হাঁস ৩৮০ টাকা এবং রাজহাঁস ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজার করতে আসা ফারজানা আক্তার বলেন, একটা বেসরকারি ফার্মে চাকরি করি। যে বেতন পাই তা দিয়ে সংসার চালানো কষ্টকর। বাজারে সব পণ্যের চড়া দাম নিয়ে তিনি বলেন, ছোট চিংড়ি ৮০০ টাকা, ছোট রুই ৪০০ টাকা, ইলিশ মাছ প্রকার ভেদে ১৫০০ থেকে ২৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সব ধরনের চাল ও আটার দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বেড়েছে। প্রোটিনের চাহিদা পূরণের অন্যতম মাধ্যম ছিল ডিম সেই ডিমের হালি গতকাল পর্যন্ত ছিল ৬০ টাকা। এটি পোল্ট্রি মুরগির ডিমের খুচরা দাম। হাসের ডিম হালি ৮০ টাকা এবং দেশী মুরগীর ডিম ৯০-১০০ টাকা পর্যন্ত। এই অবস্থায় মোটামুটি আয়ের মানুষের সংসার চালাতে কষ্ট হয়ে যায়। নি¤œ আয়ের মানুষরা না খেয়ে থাকবে অদূর ভবিষ্যতে বলে দু:খ প্রকাশ করেন এই নারী। তিনি বলেন, অতি সাধারন খাবার ডিম আলু। কিন্তু যে হারে দাম বেড়ে চলছে তাতে কিছুদিন পর ডিম আলুও অনেকের কপালে জুটবে না। অন্যদিকে ডিমের দাম বাড়ার প্রভাবে নি¤œ আয়ের মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরে ডিমের বাজারে নতুন করে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। খুচরা বাজারে প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির ডিম ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর পাড়া-মহল্লার মুদি দোকানে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়, যা কয়েক দিন আগেও ছিল ১৫০ টাকা। কিছুদিন আগেও একটি ডিমের দাম ছিল ১২ টাকা, এখন তা ক্রয় করতে লাগছে ১৪-১৫ টাকা।
এ পরিস্থিতিতে নি¤œবিত্তই নয়, মধ্যবিত্তও দিশেহারা হয়ে পড়েছে। অনেকেই ছেড়েছেন ডিম কেনা। সোমবার বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি হালি ডিম ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড়বাজার থেকে কিনলে ডিমের ডজন ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকা, আর খুচরা দোকানে ১৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। কেনাকাটা করতে আসা গৃহিনী শামসুন্নাহার বেগম বলেন, বাজারের সবকিছুর দাম এখন বেশি। ডিমের হালি যদি ৬০ টাকা হয় তাহলে আমরা কি খাব। সবজির দামও বেশি রাখছে বিক্রেতারা। আমরা সাধারণ ক্রেতারা অসহায়।
ডিম ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান বলেন, উৎপাদন খরচ নির্ধারণ না হওয়ায় ডিমের বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনো ধারণা করা যাচ্ছে না। খামারিরা বলছেন, মুরগির খাদ্য ও আনুসাঙ্গিক ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিমের দাম বাড়ার ক্ষেত্রে আমাদের কোনো হাত নেই। পাইকারি ডিম বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে ডিমের সরবরাহ কিছুটা কমেছে। এ ছাড়া এপ্রিল-মে মাসে প্রচ- তাপপ্রবাহে ক্ষতির মুখে পড়েছেন খামারিরা। অতি গরমে অনেকের খামারে মুরগি মারাও গেছে। যার প্রভাব পড়েছে ডিমের বাজারে। প্রান্তিক খামারিরা বলছেন, ডিমের করপোরেট ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের পুরনো চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠায় বাজারে এ অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ) দাবি করছে, সারাদেশে হঠাৎ করেই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ডিমের বাজার অস্থির হয়ে যায়। এর নেপথ্যে রয়েছে রাজধানীর তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী সমিতির কারসাজি। কারণ, তারাই সারাদেশের ডিমের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। ডিম ব্যবসায়ী সমিতি এবং করপোরেট কোম্পানিগুলোর কারসাজিতে হুটহাট বাজার অস্থির হয়ে ওঠে। ক্ষুদ্র খামারিরা যখন ডিম উৎপাদন করেন, তখন করপোরেট প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক চক্র দাম কমিয়ে রাখে। এ অবস্থায় প্রান্তিক খামারিরা উৎপাদনে টিকে থাকতে পারেন না। তখন ক্ষুদ্র খামারিরা উৎপাদন কমিয়ে দিলে এ অসাধু চক্র ইচ্ছামতো দাম বাড়ায়। সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে নিঃস্ব হচ্ছেন প্রান্তিক খামারিরা। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, দেশে গত ১০ অর্থবছরে ডিম ও দুধ উৎপাদন বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি। এ সময়ে মাংস উৎপাদন বেড়েছে দ্বিগুণের কাছাকাছি। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দেশে ডিমের উৎপাদন ছিল ১ হাজার ১৭ কোটি, যা এখন বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৩৩৮ কোটি। তবে বাজারের অস্থিতিশীলতার কারণে উৎপাদন বাড়ার সুফল পাচ্ছেন না সাধারণ ভোক্তারা।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT