কন্যা ও বাবাকে একই সাথে দাফন ॥ হত্যা মামলা দায়ের কন্যা ও বাবাকে একই সাথে দাফন ॥ হত্যা মামলা দায়ের - ajkerparibartan.com
কন্যা ও বাবাকে একই সাথে দাফন ॥ হত্যা মামলা দায়ের

4:45 pm , June 13, 2024

নগরীর কাউনিয়ায় হত্যা ও আত্মহত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ময়না তদন্ত শেষে একই সাথে দাফন করা হয়েছে নগরীর কাউনিয়ায় কন্যাকে হত্যার পর আত্মহত্যা করা বাবাকে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয় কন্যা রাবেয়া বশরী রোজা (৫) ও তার হত্যাকারী বাবা নাইম হাওলাদারের। এর আগে বুধবার সকালে নগরীর কাউনিয়া প্রধান সড়কের স্বপ্ন বিলাসের চতুর্থ তলার বাসায় নিজ কন্যা রোজাকে গলা কেটে হত্যা করে নাইম। পরে একই বটি দিয়ে নিজের গলা কেটে আত্মহত্যা করে নাইম।
তার বাবা শাহজাহান হাওলাদার জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর তিনটায় পুলিশ লাশ হস্তান্তর করেছে। পরে বাদ আছর নগরীর পলাশপুর এ করীম জামে মসজিদের সামনে দুই জনের একই সাথে জানাজা হয়। জানাজা শেষে পলাশপুর কাজির গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
স্বজনরা দাবি করেছেন, নাঈমের এ কাজের পেছনে তার স্ত্রী অনা আক্তার দায়ী । অনা পলাশপুরের নূরুল ইসলাম মোল্লার মেয়ে। নাঈম ও অনার প্রেমের সর্ম্পক ছিল। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে সাত বছর আগে পরিবারের অমতে তারা দুজন বিয়ে করেন। বিয়ের দেড় বছরের মাথায় এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। নাম রাখেন রাবেয়া বশরী রোজা।
নাঈমের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নাঈম ঢাকায় গাড়ি চালাতেন। আর তার স্ত্রী অনা আক্তার পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। তারা দুজন ঢাকাতে একসঙ্গেই থাকতেন। এরমধ্যে অনা আক্তার পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি বুঝতে পেরে নাঈম তার স্ত্রীকে ঢাকা থেকে বরিশালে নিয়ে আসেন। এরপর পলাশপুরের একটি ভাড়া বাসায় উঠেন। অনা আক্তার পরকীয়ায় জড়িয়ে যাওয়া নিয়ে প্রায়ই তাদের স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হতো। এ নিয়ে পারিবারিকভাবে বেশ কয়েকবার সালিশও হয়েছে।
এ ঘটনার জেরে অনা নারী নির্যাতন ও ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগ তুলে নাঈমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এরপর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে নাঈমকে ডিভোর্স দিয়ে ঢাকায় চলে যায় অনা। এদিকে বরিশালে এসে অপসোনিন কোম্পানিতে গাড়ি চালকের চাকরি নিয়েছিল নাঈম। সেটিও চলে যায়। সব মিলিয়ে হতাশায় ডুবে যায় নাঈম। নাঈমের বোন আখি ১ মে স্বপ্ন বিলাস বাসাটি ভাড়া নেন। সেখানে নাঈম ও তার মেয়ে রোজাও থাকা শুরু করেন। এরমধ্যে অনা দেনমোহরের পাঁচলাখ টাকা দাবি করেন নাঈমের কাছে। পাশাপাশি মেয়ে রোজাকে তার কাছে পাঠানোর জন্য বলতেন।
নাঈমের বোন আখি বলেন, ডিভোর্স হয়ে যাওয়ার পর নাঈম তার মেয়েকে নিজের সঙ্গে রাখে। পারিবারিক যত সালিশ হয়েছে সবখানে নাঈম সব শর্ত মেনে নিতো শুধু রোজাকে রাখতে পারবে বলে। কিন্তু অনা আক্তার মেয়েকে নিজের কাছে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নাঈম দিতে রাজি হননি। নাঈম আমাদের বলেছিল, মেয়ে তার কাছে থাকতে চেয়েছে। কেউ নিতে আসলে হয় তাকে ফাইনাল (মেরে) করে দেব, নয়তো নিজে ফাইনাল হয়ে যাব। তাই এ কান্ড করেছে।
এদিকে কাউনিয়া থানার ওসি আসাদুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় আখি বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT