ঈদের আনন্দ ম্লান হতে চলছে অনেক পরিবারে ঈদের আনন্দ ম্লান হতে চলছে অনেক পরিবারে - ajkerparibartan.com
ঈদের আনন্দ ম্লান হতে চলছে অনেক পরিবারে

4:20 pm , June 12, 2024

বিশেষ প্রতিবেদক ॥  আসন্ন ঈদ উল আজহার টানা পাঁচ দিনের ছুটির ফাঁদে পড়ে মারাত্মক বিড়ম্বনায় পড়তে যাচ্ছেন বরিশালের সঞ্চয়পত্র সহ বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগকারীরা। টানা ৫ দিনের ছুটির ফলে সঞ্চয়পত্র ও বিভিন্ন ব্যাংকে গচ্ছিত মেয়াদি বিনিয়োগের মুনাফার ওপর নির্ভরশীল অনেক পরিবারেই এবারো ঈদ আনন্দ ম্লান হয়ে যাচ্ছে। বরিশাল অঞ্চলে সঞ্চয় অধিদপ্তর ও বিভিন্ন ব্যাংক থেকে কেনা সঞ্চয়পত্রের কয়েক লাখ বিনিয়োগকারী সন্তান সন্ততি নিয়ে ঈদ খুশি ভাগাভাগি হচ্ছেনা বিনিয়োগকৃত অর্থের বিপরীতে মুনাফার অর্থ না পাবার কারণেই। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যেসব মাসিক বা ত্রৈ মাসিক সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকের মুনাফার অর্থ ১৩ জুন পাবার কথা, তারা পাবেন ১৯ জুন। আর ১৪ জুন থেকে ১৮ জুনের মধ্যে যেসব বিনিয়োগকারীর মুনাফার মেয়াদ পূর্তির পরে তাদের মুনাফার অর্থ ব্যাংক হিসেবে জমা হবার কথা, তা তাদের হিসেব জমা হবে ২০ জুন।
সঞ্চয় অধিদপ্তর কাগজে কলমে বিনিয়োগকারীদের ‘অটোমেশন পদ্ধতি’ সহ ‘অন লাইনে ‘ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফর-ইএফটি’র মাধ্যমে ব্যাংক হিসেবে মুনাফার অর্থ জমা হবার কথা বলা হলেও পুরো কার্যক্রমটি এখনো সম্পূর্ণ হাতে কলমে চলছে। ফলে ব্যাংক বন্ধ থাকলে সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকরা ব্যাংক হিসেবে কোন অর্থ জমা হচ্ছে না। এমনকি সাপ্তাহিক ছুটি সহ যেকোন সরকারি ছুটির দিনেও বিনিয়োগারীদের ব্যাংক হিসেবে মুনাফার অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমা হচ্ছেনা। অথচ অনলাইনে অটোমেশন পদ্ধতিতে গ্রাহকের ব্যাংক হিসেবে জমা হলে  তারা খুশিমত সময়ে এটিএম বুথ থেকে তাদের মুনাফার অর্থ তুলে নিতে পারতেন।
বর্তমান বিড়ম্বনার পদ্ধতিতে সঞ্চয় অধিদপ্তরের ‘পরিবার সঞ্চয়পত্র’ ,  ‘৩ মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র’ ও ‘পেনশনার সঞ্চয় পত্রের বিনিয়োগকারীদের যদি মুনাফা পাবার দিন শুক্রবার হয়, তবে সে মুনাফার অর্থ পাচ্ছেন পরবর্তি সোমবারে। কারণ শুক্র ও শনিবার দুদিন সপ্তাহিক ছুটির পর রোববারে সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে ব্যাংক বা সঞ্চয় ব্যুরো থেকে ঐসব বিনিয়োগকারীর তথ্য অনলাইনে বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানোর পরবর্তি কর্মদিবসে তা বিনিয়োগকারীর ব্যাংক হিসেবে জমা হচ্ছে।
ফলে ১৩ জুন যেসব গ্রাহকের বিনিয়োগকারীর মুনাফা ব্যাংক হিসেবে যাবার  কথা, তা ১৪ ও ১৫ জুন সাপ্তাহিক ছুটির পরে ১৬-১৭ জুন ঈদের ছুটি যোগ হওয়ায় এবার ঐসব গ্রাহকদের ব্যাংক হিসেবে মুনাফার অর্থ জমা হবে ১৯ জুন।
বিগত ঈদ উল ফিতরের সময়ও ৫-৭ মার্চের তিনদিন ছুটির পরে ১০ থেকে ১৪ মার্চ ঈদ উল ফিতর ও বাংলা নববর্ষের একটানা বন্ধের মধ্যে বরিশাল অঞ্চলের বিভিন্ন সঞ্চয়পত্রের বিপুল সংখ্যক বিনিয়োগকারী তাদের মুনাফার অর্থ বা আসল টাকা পর্যন্ত পাননি। নিজেদর কষ্টার্জিত অর্থ সরকারী তহবিলে বিনেয়োগ করে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে গিয়ে চরম দূর্ভোগের শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন অনেক বিনিয়োগকারী। বিশেষ করে ‘পরিবার সঞ্চয়পত্র ও পেনশনার সঞ্চয়পত্র  ও ৩ মাস অন্তর মুনাফা’র সঞ্চয় পত্রের যেসব গ্রাহক এসব সঞ্চয় স্কিমের অর্থেই সংসার নির্বাহ করেন, তাদের ঘরে ঈদের আনন্দ ছিলনা। একই পরিস্থিতি আসন্ন ঈদ উল আজহাতেও।
এসব বিষয়ে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের বরিশাল অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত  উপ-পরিচালক বলেন ‘বিষয়টি অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনার চেষ্টা করবেন। তবে বরিশাল অঞ্চলে সঞ্চয় স্কিম সমূহে ঠিক কত বিনিয়োগকারী ও কত বিনিয়োগ রয়েছে সে ব্যপারে তিনি কোন ধারনা দিতে পারেননি।
সঞ্চয়পত্রের মত একই অবস্থা বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারী ব্যাংক সমূহের মেয়াদী আমানত ও মাসিক মুনাফা ভিত্তিক বিনেয়োগকারীদেরও। বিভিন্ন বানিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও সাপ্তাহিক ছুটি বা যেকোন সরকারি বন্ধের দিনে বিনিয়োগকৃত অর্থের ওপর মুনাফার অর্থ গ্রাহকের হিসেবে জমা না হবার অভিযোগ করেছেন বিনিয়োগকারীরা।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT