ঝালকাঠিতে সরকারী বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের লাগামহীন কোচিং বাণিজ্য ॥ দিশেহারা অভিভাবক ঝালকাঠিতে সরকারী বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের লাগামহীন কোচিং বাণিজ্য ॥ দিশেহারা অভিভাবক - ajkerparibartan.com
ঝালকাঠিতে সরকারী বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের লাগামহীন কোচিং বাণিজ্য ॥ দিশেহারা অভিভাবক

4:16 pm , June 10, 2024

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ঝালকাঠির দুটি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের লাগামহীন কোচিং বাণিজ্য চলছেই। শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে চাপ দিয়ে কোচিংয়ে ঢুকতে বাধ্য করছেন তারা। প্রত্যেক শিক্ষকেরই কোচিং ফি সর্বননি¤œ একহাজার টাকা। তাও আবার সপ্তাহের ৩দিন পড়োনার জন্য ধার্য করা। উচ্চবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত, নি¤œমধ্যবিত্ত এবং নি¤œবিত্তদের সন্তানরাও রয়েছেন। ৪/৫টি বিষয়ে কোচিং করাতে মধ্যবিত্ত, নি¤œমধ্যবিত্ত এবং নি¤œবিত্ত অভিভাবকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। নীতিমালার তোয়াক্কা করছেন না কেউ। সংশ্লিষ্টদের তদারকির অভাবে এ যেন আমরা সবাই রাজা, আমাদের এই রাজার রাজত্বে। জানাগেছে, ঝালকাঠি সরকারী হরচন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অনেকেই বাহিরে আলাদা ফ্লাট ভাড়া নিয়ে কোচিং বাণিজ্য চালাচ্ছেন। তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কোচিং করতে বাধ্য করছেন তারা। এক্ষেত্রে শ্রেণি শিক্ষক হিসেবে দাবী করে স্ব স্ব শ্রেণির শিক্ষার্থীদের চাপ প্রয়োগ করছেন। অন্য শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের শ্রেণি শিক্ষকের কাছেই কি সব নম্বর? তার কাছে পড়লেই কি তিনি একা পাশ করিয়ে দিবেন? বলেও হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। কোচিং না করলে শ্রেণিকক্ষে কটাক্ষ করে, পরীক্ষায় নম্বর কম দিয়ে কোমলমতি শিশুদের মানসিক হয়রাণি করছেন বলেও সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানাগেছে, সরকারী বালক ও বালিকা বিদ্যালয়ের মধ্যবর্তি স্থানে অবস্থিত সরকারী মহিলা কলেজের সামনে একাধিক গলিতে রয়েছে অনেকগুলো বহুতল ভবন। প্রতিটি ভবনের যে কোন কক্ষে রয়েছে বিদ্যালয় শিক্ষকদের কোচিং সেন্টার। যার কারণে শহর জুড়ে নাম রয়েছে কোচিং বা প্রাইভেট জোন। ভাড়া বাসায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী নিয়ে চলছে একেকটি কোচিং সেন্টার। একটি কক্ষে দেখা গেলো, ঝালকাঠি সরকারি হরচন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিতের সহকারী শিক্ষক প্রণতি সরকার কোচিং ক্লাস নিচ্ছেন। তারা সবাই ওই স্কুলের ছাত্রী। এবিষয়ে প্রণতি সরকার বলেন বলেন, শুধু আমি কেনো, সরকারি স্কুলের অনেক শিক্ষকই তো কোচিং করান। আমি কোচিংয়ের কোন নিয়ম জানি না। স্কুল থেকেও আমাদের কিছু জানানো হয়নি। আপনাদের কাছে যদি কোন নীতিমালা থাকে তাহলে আমাকে দিয়েন। আরও কয়েকটি বিল্ডিংয়ে কোচিং সেন্টারে ক্লাস নিতে দেখা যায় সরকারি স্কুলের কয়েকজন শিক্ষককে। সুবিমল বড়াল সুজন বলেন, কোচিং করাই তাতে কি হইছে? বলেও ঔদ্ধত্যপুর্ণ আচরণে সাংবাদিককে পাল্টা প্রশ্ন করেন তিনি। পরবর্তিতে বাহিরের লোক দিয়ে মুঠোফোনে তথ্যানুসন্ধানকারীকে মামলা করার হুমকি দেয়ান। শামসুন্নাহার পারভীন সাংবাদিক দেখে নিজেকে আড়াল করে পিছিয়ে পড়া ছাত্রীদের পড়ানোর অজুহাত দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের ছুটি দেন এবং এসময় তিনি আর কথা না বলে দ্রু ত বের হয়ে যান।
অপর্ণা দাশ, ফাইজুন্নেছা, আলম, মো: আফজাল হোসেন, মনিশংকর মন্ডল, তানিয়া আফরোজ, আব্দুল্লাহ আল মাসরুফও কোচিং করান। এছাড়া শহরের আমতলা গলি রোডস্থ এলাকায়ও রয়েছে সরকারী বিদ্যালয়ের কোচিং সেন্টার। তদারকি না থাকায় ব্যঙের ছাতার মতো যার যেমন যেখানে সুবিধামতো জায়গায় কোচিং ব্যবসা খুলে বসেছেন।
আশিষ হালদার, মিজানুর রহমান, সাব্বির আহমেদ, সুফল বিশ্বাসসহ অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোচিং বাণিজ্য এখন মহামারিতে পরিণত হয়েছে। যেহেতু একই শিক্ষক স্কুলে পড়ান, আবার কোচিংও করান, তাই কোচিংয়ে না গেলে স্কুলে
নানাভাবে হেয় করা হয়, নম্বর কম দেয়া হয়। জেলা শহরে মধ্যবিত্ত, নি¤œমধ্যবিত্ত ও নি¤œবিত্ত আমাদের সীমিত উপার্জন দিয়ে বাধ্য হয়েই কোচিংয়ের বাড়তি খরচ টানতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে ঝালকাঠি সরকারি হরচন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম বলেন, আগে স্কুলের ভিতরে কোচিং করাতো এখন সেটা বন্ধ করেছি কিন্তু বাইরে তাদের বাসা বা ভাড়া বাসায় পড়ায় সেটা দেখার মনিটরিং কমিটি আছে। জেলা শিক্ষা অফিসার আছেন তারা তদারকি করবে।
এ ব্যাপারে ঝালকাঠি জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুনিল চন্দ্র সেন প্রথমে কোচিংয়ের পক্ষে কিছুক্ষণ সাফাই গেয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে বলেন, নীতিমালার বাইরে যদি কেউ কোচিং বাণিজ্য করে আর আমাদের কাছে সেটা প্রমাণিত হয়। তাহলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT