কাউখালীতে ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় দুর্ভোগে ৯ গ্রামের মানুষ কাউখালীতে ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় দুর্ভোগে ৯ গ্রামের মানুষ - ajkerparibartan.com
কাউখালীতে ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় দুর্ভোগে ৯ গ্রামের মানুষ

4:10 pm , June 9, 2024

রিয়াদ মাহমুদ সিকদার, কাউখালী  প্রতিবেদক ॥ পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার ৫ নং শিয়ালকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ৯ গ্রামের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম জন গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি নির্মাণ কাজ দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে ফেলে রেখেছে। চলাচলের জন্য ঠিকাদার ও স্থানীয় জনগণ একটি সাঁকো দিয়ে এতদিন পারাপার করলেও ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে সেই সাঁকোটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এই এলাকার দুই পাড়ের প্রায় ২২ হাজার মানুষ। এই এলাকায় রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ, ভূমি অফিস, এনজিও, জোলাগাতি মুসলিম আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয, জোলাগাতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফলইবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জোলাগাতি ফাজিল মাদ্রাসা সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। খালের দুই পাড়ে নয়টি গ্রামের মানুষ এই ব্রিজ ব্যবহার করে শিয়ালকাঠি, জোলাগাতি, ফলইবুনিয়া, শাপলাজা, শংকরপুর, পাঙ্গাশিয়া, পার্শ্ববর্তী ভান্ডারিয়ার ভিটাবাড়িয়া, রাজাপুরের একটি অংশের মানুষের একমাত্র চলাচলের মাধ্যমে এই সেতুটি নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকার পরে তারা সাঁকো দিয়ে পারাপার করতো। ঘূর্ণিঝড়ের সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় ১৫ দিন ধরে এসব গ্রামের মানুষের চলাচলের এই মাধ্যমটি বন্ধ থাকায় প্রায় ১০-১৫ কিলোমিটার ঘুরে তাদের চলাচল করতে হয়েছে। ঠিকাদার একটি খেয়ার ব্যবস্থা করে দিলেও টাকা না দেওয়ায় গত দুইদিন পর বন্ধ হয়ে গেলে স্থানীয় লোকজন আবার একটি নৌকা এনে খেয়া পারাপারের ব্যবস্থা করে চলাচল করছে। এখন এই ঝুঁকিপূর্ণ খেয়া তাদের একমাত্র ভরসা।
জানাগেছে, উপজেলার শিয়ালকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে পাঙ্গাশিয়া খালের উপর প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যায়ে আরসিসি গার্ডার সেতুটি পাঁচ বছর আগে সেতুর কার্যাদেশ পেয়ে দুই বছরের অধিক সময় ধরে সেতুটি ভেঙে নির্মাণ কাজ শুরু করলেও ১০% নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর ৫ কোটি ৭৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ব্যায়ে ৩৭ মিটার আরসিসি গার্ডার ব্রিজের টেন্ডার হয়। ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে এক বছরের চুক্তিতে নির্মাণ কাজটি শেষ করার কথা থাকলেও দফায় দফায় সময় বৃদ্ধি করে পাঁচ বছরেও কাজটি শেষ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
উল্লেখ্য খালের উপর থাকা পূর্বের লোহার সেঁতুটি অপসারণ করে নতুন সেতু নির্মাণ করার জন্য পাইলিং এর কাজ শেষ করে ফেলে রাখে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। যার ফলে স্থানীয় মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।
ইউপি সদস্য রুবেল জানান, এখানে একটি ভালো ব্রিজ ছিল। নতুন ঢালাই ব্রিজ করার জন্য বছরের পর বছর ধরে ভেঙে রেখেছে। আমাদের এখানে অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এখান থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে ৫হাজার লোক যাতায়াত করে। প্রতিদিনই দেখা যায় ছাত্র-ছাত্রীরা নৌকা থেকে পড়ে যায়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের বিনীত অনুরোধ দ্রুত এই ব্রিজটি নির্মাণের যেন ব্যবস্থা করে দেয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য বাদল জানান, যাতায়াতের জন্য এই নৌকার ব্যবস্থা শিয়ালকাঠি কল্যাণ সমিতির মাধ্যমে আমরা করেছি।
স্থানীয় তরুণ সমাজসেবক রাসেল রাঢ়ী জানান, খালের দুই পাড়ের জনগণসহ হাজার হাজার মানুষ প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।  ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে নুরুল আমিন মাঝে মাঝে সেতুর নির্মাণ কাজ করেন, আবার বন্ধ করে দেন। যার ফলে এলাকার মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই
জোলাগাতি মুসলিম আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুস্তম আলী বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীসহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এখন নৌকায় পারাপার হচ্ছে।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে মোঃ নুরুল আমিন বলেন, আমরা শীঘ্রই সেতুটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করবো। আমাদের কাজ চলমান রয়েছে।
শিয়ালকাঠি  ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এই সেতুটি ইউনিয়নের অতি গুরুত্বপূর্ণ সেতু। সেতুটি নির্মাণে বিলম্ব হওয়ার কারণে এলাকাবাসীর খুবই সমস্যা হচ্ছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আমরা বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও কাজটি শেষ করছে না।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী ইমতিয়াজ হোসাইন রাসেল বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করার জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT