ঘূর্নিঝড় রেমাল ঃ বরিশাল কোষ্টাল সার্কেলের বনজ সম্পদ ও ভৌত অবকাঠামোর ক্ষতি প্রায় ৩২৫ কোটি টাকা ঘূর্নিঝড় রেমাল ঃ বরিশাল কোষ্টাল সার্কেলের বনজ সম্পদ ও ভৌত অবকাঠামোর ক্ষতি প্রায় ৩২৫ কোটি টাকা - ajkerparibartan.com
ঘূর্নিঝড় রেমাল ঃ বরিশাল কোষ্টাল সার্কেলের বনজ সম্পদ ও ভৌত অবকাঠামোর ক্ষতি প্রায় ৩২৫ কোটি টাকা

4:26 pm , May 31, 2024

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ঘূনিঝড় রেমালের প্রভাবে বরিশাল কোষ্টাল সার্কেলের আওতায় বন বিভাগের বনজ সম্পদ ও ভৌত অবকাঠামোর ৩২৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। বরিশাল কোষ্টাল সার্কেলের বন সংরক্ষক মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ এ তথ্য জানিয়েছেন।
ঘূর্নিঝড় রিমাল দীর্ঘ সময় প্রভাব বিস্তারে কারনে গাছপালার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে জানিয়ে বরিশাল আবহাওয়া অফিস সুত্রে জানা গেছে, সিডরসহ অন্যান্য ঘূর্নিঝড়ের মতো দেড় দুই ঘন্টা অবস্থান করলে এত ক্ষতি হতো না। সিডরের মতো বাতাসের গতিবেগ ছিলো না। কিন্তু ৯০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার গতিবেগ নিয়ে রেমাল ৪০ ঘন্টা একই স্থানে ঘূনায়মান ঝড়ো ও দমকা বাতাস বইছে। সাথে বৃষ্টি হওয়ায় গাছের গোড়া নরম হয়ে গাছ-পালা উপরে পড়েছে।
বরিশাল কোষ্টাল সার্কেলের বন সংরক্ষক মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, বরিশাল কোষ্টাল সার্কেলের আওতায় বরিশাল, ঝালকাঠি, ভোলা, বরগুনা ও পটুয়াখালীসহ নোয়াখালী এবং লক্ষীপুর জেলা রয়েছে। এর মধ্যে ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, নোয়াখালী ও লক্ষীপুরে উপকুলীয় বন এবং বরিশাল ও ঝালকাঠিতে সামাজিক বন রয়েছে।
বরিশাল, ঝালকাঠি, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, নোয়াখালী ও লক্ষীপুর জেলায় বিভিন্ন বন বিভাগের ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৮১ হেক্টর ম্যানগ্রোভ বাগান, ৩ হাজার ৫৭৮ হেক্টর ও ১২৬১.৫০ সিকিমি গোলপাতা বাগান, ১৫ হাজার ২৪০ সিকিমি স্ট্রীপ বাগান, ২৮ হেক্টর নন-ম্যানগ্রোভ বাগান, ১৩ হেক্টর বাঁশ বাগান, ৩৫ হেক্টর বেঁত বাগান রয়েছে।
ম্যানগ্রোভ বাগানে কেওড়া, গেওয়া, বাইন, গোলপাতা, সুন্দরী, ধুন্দল, যানা, ক্রিপা, পশুর গাছ। নন-ম্যানগ্রোভ বাগানে রেইন্ট্রি, করাই, রাজ-করাই (চাম্বল), আকাশ মণি, খেয়া বাবলা, মেহগিনি, ঝাউ, নীম, অর্জুন, হরতকি, বহেরা, আমলকী, কাঁঠাল, পেয়ারা, নারিকেল, জাম, তেতুল, নীম গাছ রয়েছে।
বন সংরক্ষক মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, রেমালের কারনে ক্ষতিগ্রস্থ গাছের স্থলে নতুন গাছ রোপন করতে হবে। যে পরিমান গাছ ভেঙ্গে পড়েছে, সেই সকল গাছ সংগ্রহ করতে যা ব্যয় হবে। সেই ব্যয় উঠে আসবে না। তাই ওইসব যেখানে রয়েছে, সেখানে থাকবে। সেগুলো মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করবে ও নতুন কোন প্রজাতির সৃষ্টি করবে।
তিনি জানান, সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে নোয়াখালী জেলায়। এ জেলায় ১৫৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে সৃজিত বন বাগানের ক্ষতি হয়েছে ১৫২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। প্রাকৃতিক বনের ক্ষতি হয়েছে ৫ কোটি টাকার ও নার্সারী চারার ক্ষতি হয়েছে ৪৫ লাখ টাকা।
লক্ষীপুর জেলায় সৃজিত বনের ক্ষতি হয়েছে ৫ লাখ টাকা।
পটুয়াখালী জেলায় ক্ষতি হয়েছে ৭৯ কোটি ২০ লাখ টাকার। এর মধ্যে প্রাকৃতিক বনের ক্ষতি হয়েছে ৫ কোটি টাকা, সৃজিত বনের ৫৩ কোটি ৪০ লাখ, নার্সারী চারার ক্ষতি হয়েছে ১৪ কোটি ৫০ লাখ। এছাড়া অফিস ভবন, যানবাহন ও জলযান,  রাস্তা এবং অন্যান্য অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকার।
বরগুনা জেলায় ক্ষতি হয়েছে ৩১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রাকৃতিক বনভুমির ক্ষতি হয়েছে ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা, সৃজিত বন বাগানের ১৫ কোটি ২০ লাখ, নার্সারী চারার ক্ষতি হয়েছে ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এছাড়া অফিস ভবন, যানবাহন ও জলযান,  রাস্তা এবং অন্যান্য অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকার। ভোলা জেলায় ক্ষতি হয়েছে ৫৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রাকৃতিক বনভুমির ক্ষতি হয়েছে ১৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা, সৃজিত বন বাগানের ৩০ কোটি ৭০ লাখ, নার্সারী চারার ক্ষতি হয়েছে ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। মনপুর রেঞ্জ অফিস ও বাসভবন, পচা কোড়ালিয়া বিট অফিস ভবন, ঢালচর সদর বিটের অস্থায়ী ক্যাম্প, ঢালচর অস্থায়ী ক্যাম্পের সোলার প্যানেল, কালকিনি বিট অফিস, ভোলা সদর রেঞ্জের বিদ্যুত লাইন, পচাকোড়ালিয়া বিটের একটি ট্রলারের ক্ষতি হয়েছে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার। বরিশাল জেলায় ক্ষতি হয়েছে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার। এর মধ্যে সৃজিত বনের এক কোটি টাকা, নার্সারী চারার ৪৫ লাখ টাকা ও অবকাঠামোর ৫ লাখ টাকা। ঝালকাঠি জেলায় ১ কোটি ২৯ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে সৃজিত বনের ক্ষতি হয়েছে ৮৫ লাখ টাকার, নার্সারী চারার ৪০ লাখ ও অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে ৪ লাখ টাকার।##

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT